Blog Archive

Thursday, May 28, 2015

পর্ব : স্বপ্ন সংক্রান্ত হাদিস থেকে হায়াতুন্নবী (সা) এর প্রমান :-


★★★ Hadith ($):::--

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
صلى الله عليه و آله وسلم
বলেন," যে আমাকে স্বপ্নে দেখল সে যেন সত্যিকার অর্থেই আমাকে দেখল কারন শয়তান আমার আকৃতি ধারন করতে পারে না ।

Reference:

★ Sahih Muslim, vol. 4, p 1225, H:no 5635

★ Sahih Bukhari Book #87, Hadith#122




★★★ Hadith ($) :

অপর এক হাদিসে বর্নিত আছে :

সাহাবী আল-`ঊতবি, رضئ اللہ تعالی عنہ বলেন :
"(একদা) আমি রাসুল (সা:) এর রৌজা মুবারক এর নিকট বসা ছিলাম ।
এক আরাব বেদুইন আসল এবং বললো "ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্ল­হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) !
আমি শুনিয়াছি আল্লাহ্‌ سبحانہ و تعا لی বলেছেন,
"আর যে সকল লোক নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে তারা যদি আপনার নিকট আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসুলুল্লাহ (সা) ও যদি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে আল্লাহ্‌ কে তারা ক্ষমাশীল ও মেহেরবান রুপে পেত ।
(আন-ণিসা - ৬৪)."

তাই আমি এসেছি আমার পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করতে আর আমার আল্লার নিকট আপনার সুপারিশ কামনা করছি ।"

তার পর সে চলে গেল আর আমি তন্দ্রা (ঘুম) ভাব অনুভব করলাম এবং দেখলাম রাসুল صلى الله عليه و آله وسلم আমাকে বলছেন :
"ও `ঊতবি ! ওই বেদুইন এর পিছনে দৌড়ে যাও এবং তাকে সুসংবাদ দাও যে আল্লাহ্‌ سبحانہ و تعا لی তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ।"

Reference :

★ Bayhaqi in Shu‘ab-ul-Imaan(Volume no: 3, Page no:495-496, Hadith No#4178)

★ Ibn Qudamah in al-Mughni- (Book : Kitab Al Hajj Chapter : Wa Yustahabbu Ziyarat Qabr An NABI SAW Volume : 5 Page : 465)

★ Ibn ‘Asakir in Tahdhīb tarikh Dimashq al-kabir popularly known as Tarikh/Tahdhib Ibn ‘Asakir as quoted by Imam as-Subki in Shifa’-us-siqam fī ziyaat khayr-il-anam (pp. 46-7).

★ Tafsir al-Bahr al-Muheet by Imam Abu Hayyan al-Andalusi (3/282, Dar al Fikr edition) or Book : Tafseer bahr Al Muheet Volume : 3 Page : 269 Under : Sorat An Nisa Ayat number 64

★ Imam al-Mutaqi al-Hindi in Kanz ul Amaal (1/714 #10422) or Book : Tafseer bahr Al Muheet Volume : 3 Page : 269 Under : Sorat An Nisa Ayat number 64

★ Imam al-Nawawi in his al-Majmu' (8/202-203)

★ Ibn Hajar Haythami in al-Jawhar-ul-munazzam (p. 51).
And many others, plus none of these Imams called it shirk or Bidah.

★ Ibn Kathir, Tafsir-ul-Qur'an al-azim Volume 004, Page No. 140, Under the Verse 4:64

★ Imam Nawawi in Kitab ul Adhkaar, Page No. 179, Published by Dar ul Ma'rifah, Beirut, Leabon] From another version book- Volume : 1 Page : 233-234 Hadith number : 506

★ Imam Jalaluddin Suyuti in [Tafsir Dur al Manthur under 4:64)]

★ Tafsir al-Qurtubi, al-Jami li Ahkam al-Quran Volume 006, Page No. 439, Under the Verse, 4:64

★ Ibn Jama`a, Hidayat al-salik 3:1384.

★ Ibn `Aqil, al-Tadhkiraal-Mughni.

★ Samhudi, Khulasat al-Wafa.

★ Ibn al-Jawzi, Muthir al-gharam al-sakin ila ashraf al-amak in p. 490.




★★★ এরুপ আরেকটি হাদিস বর্নিত হয়েছে :

★ আবু সাদিক (রাঃ) থেকে বর্ণীত, হযরত আলী ( রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন-
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) কে কবর দেয়ার তিন দিন পর আরাবী আসল, নিজেকে মুহাম্মাদ(সাঃ) এর কবরে নিক্ষেপ (হয়ত বসল বা গরাগরি) করল, মাটি তোলে নিজের কপালে স্পর্শ করল এবং বলল – ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আপনি কথা বলতেন এবং আমরা শুনতাম, আপনি আল্লাহ এর কাছে হতে শিখেছেন এবং আমরা শিখেছি আপনার থেকে। আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন (সূরা আন-নিসা,৪:৬৪)।
আমি একজন পাপী এবং এখন আমি আপনার কাছে এসেছি যাতে আপনি (আমার জন্ন দয়া করে) অনুরোধ করেন । এরপর কবর থেকে একটা ডাক আসল ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তোমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে’।

(আল-হাদিস)





★★★ Hadith : সহিহ হাদিসে বর্নিত আছে :

মালিক আল-দার رضئ اللہ تعالی عنہ
যিনি হযরত ওমর (রা ) এর কোষাদ্ধহ্ম ছিলেন বর্ণনা করেন,"ওমর রাঃ এর খিলাফতকালে যখন লোকজন অনাবৃষ্টিতে ভুগছিল ১ জন লোক রাসুল(সা:) এর রৌজা মুবারকের কাছে আসলেন এবং বললেন,"ইয়া রাসূলাল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم আপনার সম্প্রদায়ের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন না হলে তারা নিশ্চতভাবেই ধ্বংস প্রাপ্ত হবে," তার পর রাসুল صلى الله عليه و آله وسلم তার স্বপ্নে দেখা দিলেন এবং বললেন ,"ঊমর رضئ اللہ تعالی عنہ এর কাছে যাও এবং তাঁকে আমার অভিবাদন জানাও, অতঃপর তাকে বলো যে তাদের পানি দেয়া হবে........(Shorten)

Reference :

1) Imam Bukhari in his book Taarikh al-Kabir - Biography of Malik al-dar. It is also is narrated by Bayhaqi.

2) narrated by Bayhaqi

3) Ibn Kathir cites it in al-Bidaya wa al-nihayaand says: isnaduhu sahih.

4) Ibn Abi Shayba : His Al-Musannaf, Part 12,page 32, Hadith 12051 : with a sound (sahih) chain.

5) Ibn Hajar who says: rawa Ibn Abi Shayba bi isnad in sahih and cites the hadith in Fath al-Bari Part 2, page 412 & 495.

6) Ibn Taymiyyah wrote this Hadith in Sirat al Mustaqim - page 373.

হাদিসটির আরো কিছু সুত্র :

The narrators of the above Hadith are:

($) Abu Mu‘awiya,
($) ImamA‘mash,
($) Abu Salih Abd al Rahman bin Sa’eed,
($) Malik bin Ayyad al-Dar. All of them are considered as authentic and famous narrators of Ahadith whose narrations were taken by Bukhari, Muslim, Abu Dawood, and others





             কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা)
             শহীদ হয়েছেন তার সংবাদ রাসুলুল্লাহ (সা)
             সংগে সংগে দিয়েছিলেন :-



★★★ Hadith ($) :-

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি আশুরার দিন দুপুরে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাসূল সা. অত্যন্ত শোকাহত, তার চুলগুলো উসকো খুসকো। এমতাবস্থায় একটি রক্তভরা শিশি নিয়ে তিনি উপস্থিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! এই রক্ত কিসের? নবীজী সা. বললেন, এইমাত্র হুসাইন এবং তার সাথীদের রক্ত কারবালার মাটিতে পড়েছে, আমি উঠিয়ে নিয়ে এসেছি। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এরপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি তারিখটা স্মরণ রাখলাম। পরে জানতে পারলাম যে, নবীজী সা. যে সময় রক্তের শিশি হাতে নিয়ে আমার সামনে এসেছিলেন, ঠিক সেই সময় হযরত হুসাইন রা. কারবালায় শাহাদত বরণ করেছেন।

★ মুসনাদ আহমাদ বিন হাম্বাল, হাদিস নং ২১৬৫। হাদিটির সনদ সাহীহ

★ মিশকাত শরীফ

★ উম্মে সালামা (রা) থেকেও অনুরূপ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

Note : ২৪ দিন পরে মদীনাতে কারবালার নৃশংস ঘটনার খবর এসে পৌঁছলে তাঁদের দুজনের স্বপ্ন সত্য বলে প্রমাণিত হয়। যেহেতু শয়তান রাসুলে পাকের আকৃতি ধারন করতে পারেনা আর স্বপ্নে কেউ রাসুল , (ﷺসা) কে দেখলে সে সত্যিই তাঁকে দেখল। রাসুল , (সাﷺ) আশুরার দিন স্বশরীরে কারবালার ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হাজের ও নাজের। তিনি হায়াতুন্নবী।


পর্ব : নবী (আ) গনের দেহ ভক্ষন করা জমিনের জন্য হারাম করা হয়েছে তাই কবরে জীবিত,রিজিকপ্রাপ্ত এবং সালাতও আদায় করেন :-



★★★ হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,

রাহমাতুল্লীল আলামীন, শাফিউল মুযনেবীন, হুযূর পুরনূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর মোবারক ফরমানঃ

"আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস সালাম নিজ নিজ কবরে জীবিত আছেন এবং ওনারা নামাযও পড়েন।"

[সূত্রঃ

★ আবু ইয়ালা(২১০-৩০৮ হি.): আল মুসনাদ, খন্ড ৬/১৪৭ পৃ, হাদিস: ৩৪২৫;

★ ইবনে আদী(২৭৭-৩৮৫হি.):আল কামেল, ২/৩২৭, হাদিস: ৪৬০;

★ Bayhaqi, Hayat ul-Anbiyah, Page No. 003

★ দায়লামী(৪৪৫-৫০৯হি.): মুসনাদুল ফিরদাউস, ১/১১৯, হাদিস: ৪০৩;

★ আস্কালানী(৭৭৩-৮৫২হি.): ফতহুল বারী, ৬/৪৮৭, এবং লিসানুল মিযান, ২/১৭৫, ২৪৬, হাদিস: ৭৮৭, ১০৩৪;

★ হায়ছামী(৭৩৫-৮০৭হি.): মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৮/২১১;

★ সুয়ূতী(৮৪৯-৯১১): শরহু আলা সুনানিন নাসায়ী, ৪/১১০;

★ al-Suyuti, Anba’ al-Adhkiya’ (#5)

★ সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীসনং-২২

★ আযীমাবাদীঃ আওনুল মা'বুদ, ৬/১৯, (তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি 'আল ইনতিবাহিল আযকিরা বি হায়াতি আম্বিয়া' নামে পুস্তক রচনা করেছি।)

★ মানাভী(৯৫২-১০৩১হি.): ফয়যূল কাদীর শরহে জামেউস সগীর;

★ শাওকানী(জন্ম-১২৫৫হি.): নায়লুল আওতার, ৫/১৭৮;

★ যুরকানী(১০৫৫-১১২২হি.): শরহু আল মুয়াত্তায়ে লিল ইমামিল মালেক, ৪/৩৫৭]

★ Imam al-Haythami after this hadith said: Abu Ya’la
and Bazzar narrated it and all the narrators of Abu Ya’la
are “THIQA” [Majma az Zawaid Volume 8, Page No.
387, Hadith No. 13812]

★ Imam Haytami, Majma Az Zawaid , Book : Kitab Feehi
Zikar Al Ambiya (35) Chapter : Zikar Al Ambiya A.S
Volume : 8 Page : 276 Hadith number : 13812

★ Al-Albani, in Silsilat al-ahadith al-sahihah Volume 02,
Page No. 187, Hadith Number 621

হাদিস এর মান ও সনদ পর্যালোচনা :-

★ এ হাদিসকে :-

**** ইমাম আবু ইয়ালা,
**** ইবনে 'আদী,
**** ইমাম বায়হাক্বী এবং
**** ইমাম দায়লমী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ থেকে বয়ান করেন।

★ ইবনে 'আদী বলেন, এ হাদিসের সনদে কোন ক্রুটি নেই।

★ ইমাম হায়ছমীও বলেন, ইমাম আবু ইয়ালার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

★ আল্লামা শওকানী বলেন, ইহাকে ইমাম বায়হাক্বী সহীহ্ নির্ধারণ করেছেন এবং আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস্ সালামের জীবনের উপর তিনি একটি জুয্ (সহীহ্ হাদীস সমূহের সংক্ষিপ্ত কিতাব) সংকলন করেছেন।

★ ইমাম যুরকানীও বলেন যে, ইমাম বায়হাক্বী আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস্ সালামের জীবনের উপর একটি নিতান্ত সূক্ষ কিতাব সংকলন করেছেন। যার মধ্যে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মারফু বর্ণনাসমূহ সহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম আসক্বালানী (৭৭৩-৮৫২হি.) স্বীয় গ্রন্থ 'ফতহুল বারী'তে বয়ান করেছেন যেঃ

"ইমাম বায়হাক্বী (৩৮৩-৪৫৮হি.) আম্বিয়ায়ে কেরাম আলায়হিমুস্ সালাম তাঁদের কবরে জীবিত থাকার বিষয়ে (সহীহ্ হাদীস সম্বলিত) একটি সুন্দর কিতাব লিখেছেন, যার মধ্যে তিনি হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)'র এ হাদিসও উদ্ধৃত করেছেন।

সনদ :- **** এ হাদিস তিনি ইয়াহয়া ইবনে আবি কাছির এর নিয়মে বর্ণনা করেছেন, তিনি সহীহ্ হাদিস বর্ণনাকারীদের একজন।
**** তিনি মুস্তালিম ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলও তাঁকে নির্ভরযোগ্য নির্ধারণ করেছেন।

★ ইমাম ইবনে হিব্বান এ হাদিসটি হাজ্জাজ আস্ওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আবু জিয়াদ আল বসরী'র পুত্র হন এবং তাকেও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল নির্ভরযোগ্য নির্ধারণ করেছেন।

★ ইমাম ইবনে মুঈনও হযরত ছাবেত থেকে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম আবু ইয়া'লাও নিজ মুসনদে এভাবে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম বাজ্জারও ইহা বর্ননা করেছেন।

★ ইমাম বায়হাক্বীও ইহাকে সহীহ্ নির্ধারণ করেছেন।

[সূএঃ ফতহুল বারী ফী শরহে বুখারী; কৃত- ইমাম ইবনে হাজর আসক্বালানী (৭৭৩-৮৫২হি.), ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ. ৪৮৭, লাহোর, পাকিস্থান, দারু নশরিল কুতুবিল ইসলামিয়া, ১৪০১হি./১৯৮১খ্রি.]






★★★  হযরত আউস ইবনে আউস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতআছে যে, হুযূর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেনঃ

عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صلي الله عليه وآله وسلم. إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَامِکُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيْهِ قُبِضَ وَفِيْهِ النَّفْخَةُ، وَفِيْهِ الصَّعْقَةُ فَأَکْثِرُوْا عَلَيَّ مِنَالصَّلَاةِ فِيْهِ، فَإِنَّ صَلَاتَکُمْ مَعْرُوْضَةٌ عَلَيَّ، قَالَ : قَالُوْا : يَا رَسُوْلَ اﷲِ! کَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْکَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ يَقُوْلُوْنَ : بَلِيْتَ قَالَ صلي الله عليه وآله وسلم : إِنَّ اﷲَ حَرَّمَ عَلَي الْأَرْضِ أَجْسَادَالْأَنْبِيَاءِ

রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) বলেন: সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমুয়ার দিন সর্বাধিক সেরা । কারণ ঐ দিন আদম (আঃ) সৃষ্টি করা হয়েছিল ঐ দিনই ওনার ওফাত হয়েছিল ।ঐ দিন সিঙ্গায় ফুত্‍কার দেয়া হবে আর ঐ দিনই (কিয়ামতের) চিত্‍কার শুরু হবে !তাই ঐ দিন বেশি বেশি করে আমার প্রতি দুরুদ পাঠাও। তোমাদের দুরুদ আমার নিকট (নিশ্চই) পৌছাঁনো হবে ।
তাঁরা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞাসা করলেন -
আমাদের দরুদ আপনার ওফাতের পর আপনার উপরে কিরুপে পেশ করা হবে? আপনার বরকতময় মোবারক দেহ কি মাটিতে মিশে যাবে না?

রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) বলেন,আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণের দেহকে ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।

অপর বর্ণনায় আছে যে, হুযূর ﷺ বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের দেহকে খেয়ে ফেলা ভূমির উপর হারাম করে দিয়েছেন।

[ সূত্রঃ
১|| আবূ দাউদ: আস্ সুনান, কিতাবুস সালাত, ১/২৭৫, হা-১০৪৭ এবং কিতাবুস সালাত, ২/৮৮, হা-১৫৩১;

২|| নাসাঈ: আস্ সুনান, কিতাবুল সালাহ : অধ্যায়: জুমু'আ, ৩/৯১, হা-১৩৭৪;
এবং আস্ সুনানুল কুবরা, ১/৫১৯, হা-১৬৬৬;

৩|| ইবনু মাজাহ্: আস্ সুনান, কিতাবু ইকামাতিস সালাত, ১/৩৪৫, হা-১০৮৫;

৪|| দারেমী: আস্ সুনান, বই : জুমা, অধ্যায় : ফি ফদ্বল ইয়াওমাল জুমা ১/৪৪৫, হা-১৫৭২;

৫|| আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, ৪/৮, হা-১৬২০৭; Or, ২৬/৮৪, হা- ১৬১৬২

৬|| ইবনে আবি শায়বাহ্: আল মুসান্নাফ, আস-সালাহ ২/২৫৩, হা-৭৬৯৭ or ৬/৪০, হা- ৮৭৮৯

৭|| ইবনে খুজায়মা: আস্ সহীহ, ৩/১১৮, হা-১৭৩৩-১৭৩৪;

৮|| ইবনে হিব্বান: আস্ সহীহ, বই : আর-রাকাইক, অধ্যায় : আদিয়্যাহ : ৩/১৯০, হা-৯১০;

৯|| হাকেম: আল মুসতাদরাক, ১/৪১৩, হা-১০২৯;

১০|| বাযার: আল মুসনাদ, ৮/৪১১, হা-৩৪৮৫

১১|| তাবরানী:
আল মু'জামুল আওসাত, ৫/৯৭, হা-৪৭৮০;
এবং মু'জামুল কবীর, ১/২৬১, হা-৫৮৯;

১২|| বায়হাকী:
আস্ সুনানুস সগীর, ১/৩৭১, হা-৬৩৪;
আস্ সুনানুল কুবরা, ৩/২৪৮, হা-৫৭৮৯; Or, অধ্যায় : আল- জুমা : ৩/৩৫৩, হা-৫৯৯৩
শু'আবুল ঈমান, ৩/১০৯, হা-৩০২৯;Or অধ্যায় : ফাজাইলুস সালাতুন্নবী (সা)
৪/৪৩২, হা-২৭৬৮

১৩|| যাহদ্বামী: ফাদ্বলুস্ সালাতি আলান্ নবী, হা-২২;

১৪|| ওয়াদীয়াশী: তুহফাতুল মুহতাজ, ১/৫২৪, হা-৬৬১;

১৫|| আসকালানী: ফাতহুল বারী, ১১/৩৭০;

১৬|| আযলূনী: কাশফুল খিফা, ১/১৯০, হা-৫০১;

১৭|| ইবনে কাসীর, তাফসীরিল কুরআনিল আযীম, ৩/৫১৫ সুরা আল-আহজাব ৫৬]

হাদিসটির মান :

☞ এ হাদিসকে ইমাম আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ্, দারেমী, অাহমদ, ইবনু খুজায়মা এবং ইবনু হিব্বান বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম হাকেম বলেন, এ হাদিস ইমাম বুখারীর শর্তাবলীর ভিত্তিতে সহীহ্ এবং

★ ইমাম ওয়াদিয়াশীও বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু হিব্বান সহীহ্ নির্ধারণ করেছেন এবং

★ ইমাম আসক্বালানী বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু খুজায়মা সহীহ্ নির্ধারণ করেছেন।

★ ইমাম আজলুনী বলেন, ইহাকে ইমাম বায়হাকী উত্তম, মজবুত সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।

★ ইবনু কাছির বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু খুজায়মা, ইবনু হিব্বান, দারু কুতনী এবং ইমাম নববী 'আল-আযকার' -এ সহীহ্ নির্ধারণ করেছেন।




() Hadith~$~::- সহিহ হাদিসে আছে :

عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلىالله عليه و سلم أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليهو سلم، رقم الحديث-1637

হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয়ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম - মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে,

রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) বললেন,"হ্যা! আল্লাহ্‌ পাক নবীগণের শরীর মোবারাক কে ভক্ষণ করা জমিনের জন্য হারাম করে
দিয়েছেন তাই নবীগণ (কবরে) জীবিত থাকেন এবং নিয়মিতভাবে তারা রিজিকও পেয়ে থাকেন।"

সূএঃ

★ ইবনে মাজাহ্ঃ কিতাবুল জানাযা, খন্ড- ১/৫২৪পৃ, হাদিস: ১৬৩৬,

★ ইবনে মাজাহ্ঃ কিতাবুল জানাযা, খন্ড- ১/৫২৪পৃ, হাদিস: ১৬৩৭

★ ইবনে মাজাহ্ঃ ইকামাতুস সালাহ ওয়াস সুন্নাহ ফিহা : অধ্যায় ৭৯, ১/৩৪৫, হা- ১০৮৫

★ মুনজারীঃ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব, খন্ড- ২/২২৮পৃ, হাদিস: ২৫৮২;

★ ইবনে কাসীরঃ তাফসীরু কুরআনিল আযীম, খন্ড- ৩/৫১৫পৃ, খন্ড- ৪/৪৯৩পৃ;

★ মুনাবীঃ ফয়যুল কদীর, খন্ড- ২/৮২পৃ;

★ আযুলুনীঃ কাশফুল খিফা, খন্ড- ১/১৯০পৃ, হাদিস: ৫০১

★ সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,

★ আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০,

★ সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২,

★ মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫,

★ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯

★ Abu Dawud, Sunan, b. of salat (prayer) 1:275 (#1047);

★ Nasa'i, Sunan, b. of jumu'ah (Friday prayer) 3:92;

★ Ahmad bin Hambal, Musnad (4:8);

★ Ibn Hibban, as-Sahih(3:191#910);

★ Ibn Khuzaymah, as-Sahih (3:118#1733);

★ Hakim, al-Mustadrak (1:278);

★ Tabarani, al-Mu'jam-ul-kabir (1:217#589);

★ Bayhaqi in as-Sunan-ul-kubra (3:249).

হাদিসটির মান ও সনদ পর্যালোচনা :

★ এ হাদিসকে ইমাম ইবনু মাজাহ্ সহীহ্ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম মুনযেরী বলেন, ইহাকে ইমাম ইবনু মাজাহ্ উত্তম-মজবুত সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম মুনাবী বর্ণনা করেন যে, ইমাম দমীরী বলেন, ইহার রাভীগণ (বর্ণনাকারীগণ) নির্ভরযোগ্য।

★ ইমাম আজলুনীও ইহাকে হাসান বলেছেন।




★★★ তাছাড়াও হাদিসের এই টুকু বর্ননা নিচের সকল কিতাব সমুহে বর্নিত আছে :-


সহীহ হাদিসে আছে:-

রাসূলুল্লাহ
صلى الله عليه و آله وسلم
বলেন," আল্লাহ সুবহানু তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণের দেহ কে ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।

Reference :-

★ Imam Majah, Sunan Ibn Majah, Book : As Salah wa Sunnah feeha Chapter : Fadl yaum Al Jumu'ah (79) Volume : 1 Page : 345 Hadith number : 1085

★ Sahih Ibne Majah : 1636

★ ibn Majah in his Sunan also has the addition: “fa nabi Allah hayyun yurzaqu”, 1/524 (#1637)

★ Sahih ibn Majah : 889

★ Abu Dawud, Sunan, 1/275 : 1647,

★ Abu Dawud, as sunan 1526/1531)

★ Sahih Abi Dawud (#962)

★ Imam Nasai, Sunan Nasai, Book : As Salah Volume : 2 Page : 101 Hadith number : 1373

★ al-Nasa’i, Sunan : 1374

★ al-Tabrizi, Mishkat al-Masabih : 1366 &

★ Sahih Miskatul Masabih : 1361

★ Imam Darimi, Sunan Darmi, Book : As Salah Chapter : Fee Fadl Yaum Al Jumu'ah Volume : 1 page : 445 Hadith number : 1572

★ Imam Ahmad Bin Hambal, Al Musnad Volume : 26 Page : 84 Hadith number : 16162

★ Ibn e Khuzimah in his Sahi, Volume : 3, Page : 118, Hadith number : 1733

★ Sahih Ibn Khuzaimah : 1734

★ Imam Shaybani : al-Ahad wa ’l-Mathani : 3/217 (#1577);

★ Ibn e Abi Shaibah in Musannaf, Book : As Salah Chapter : 795 Volume : 6 Page : 40 Hadith number : 8789

★ Imam Bayhaqi, Shu'b Al Eman Chapter : Fadl As Salah 'Ala An NABI SAW Volume : 4 Page : 432 Hadith number : 2768

★ Imam Bayhaqi, Sunan Al Kubra, Book : Al Juma'ah Chapter : 105 Volume : 3 Page : 353 Hadith number : 5993

★ Imam Bazzar, Musnad Al Bazzar, Volume : 8 Page : 411 Hadith number : 3485

★ Mustadrak of al-Hakim, 1/413 (#1029, 3577 & 8601) where he grades it according to the criteria of Bukhari and Muslim.

★ Imam Tabrani, Ma'jam Al Kabeer Volume : 1 Page : 216-217 Hadith number : 589

★ Imam Tabrani , Ma'jam Al Ausath Volume : 5 Page : 97 Hadith number : 4780

★ Abd al-Razzaq in his Musannaf,2/253 (#8697);

★ al-Suyuti in Anba’ al-Adhkiyah;

★ ibn al-Qayyim al-Jawziyyah, Kitab al-Ruh, p.62

★ ibn Hibban in his Sahih with the wording: “an ta’kula ajsamana– [Allah has prohibited the earth] to consume our bodies,” 3/190 (#910).

★ al-Albani’s Irwa’ al-Ghalil, 1/35& (#4);

★ al-Ta‘liq al-Targhib, 1/249

★ Takhrij Fadl al-Salah ‘ala ’l-Nabi (#22) of Imam Isma‘il al-Qadi.

★ al-Dhahabi confirms the grading in his al-Talkhis;

★ Imam Nawawi said "Isnaad is Sahih" , Al Azkaar, Chapter : As salah 'Ala AN NABI SAW Volume : 1 Page : 131-132 Hadith number : 302

★ Imam Ibn e Hajar 'Asqalani, fathul Bari , Volume : 6 Page : 562


পর্ব: মেরাজের ঘটনায় হায়াতুন্নবী (আ) এর প্রমান :-



★ আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে “রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) বলেন,

"আমি মে'রাজের রাতে হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম এর নিকট আসলাম (হাদ্দার এর এক বর্ণনা মতে) লাল টিলার পাশ দিয়ে আমার গমন হলো (তখন আমি দেখলাম যে,) হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম নিজ কবরে দন্ডায়মান অবস্থায় নামাযরত ছিলেন।"

Reference:--

1. SAHIH MUSLIM (Book 30, Hadith 5858)

2. SAHIH MUSLIM (Book 30, Hadith 5859)

3. NASEEI : AS-SUNAN AL KUBRA, Book : As Salah
Ch: Zikr Salat NABI ALLAH MOSA Bil-Laiyl Vol:2
Hadith nO : 1330

4. SUNAN NASEEI (Vol 2, P- 237, Hadith no: 1630)

5. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1631)

6. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1632)

7. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1633)

8. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1634)

9. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1635)

10. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1636)

11. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1637)

12. SUNAN NASEEI (Vol. 2, Book 10, Hadith 1638)

13. Muslim, Sahih (#2375)

14. Ahmad in his Musnad, 3/148 : 12234

15. Ahmad in his Musnad 3/248 : 12532

16. ibn Hibban in his Sahih (#49)

17. al-Albani, Silsilah Ahadith al-Sahihah (#2627)

18. নাসাঈ: আস্ সুনান, কিতাবু কিয়ামিল লাইয়লি ওয়া তাত্বাওউয়িন নাহারি, ৩/২১৫, হাদিস: ১৬৩২





★ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বয়ান করেন যে, আমি হুজুর নবী আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনলামঃ

"সে সময় তিঁনি হযরত ইউসূফ (আলায়হিস সালাতু ওয়াস্সালাম)'র গুণাবলী বয়ান করতে ছিলেন। যখন হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে (মে'রাজের রাতে) তৃতীয় আসমানে দেখলেন, হুযূর পুরনূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখলাম যাঁর অাকৃতি চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় ছিল। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিব্রাইল! ইনি কে? তিনি আরজ করলেন, ইনি আপনার ভাই হযরত ইউসূফ (আলায়হিস সালাতু ওয়াস্সালাম)।"

______এ হাদিসকে ইমাম হাকেম এবং ইবনে কুতায়বাহ্ বর্ণনা করেছেন।

[সূএঃ ক) হাকেমঃ আল মুসতাদরাক, ২য় খন্ড, পৃ. ৬২৩; এবং
খ) ইবনে কুতায়বাহঃ তাবীলু মুখতালিফিল হাদিস, ১ম খন্ড, পৃ. ৪২১]



★ হযরত আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজুর নবী আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর মোবারক ফরমানঃ

"আমি 'হাজরে আসওয়াদ'- এর নিকট দাড়ানো ছিলাম, এই সময় কুরাইশগণ আমাকে আমার মে'রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করিল। তারা আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের এমন সব বস্তুর কথা জিজ্ঞেস করতে লাগিল, যা আমি বিশেষভাবে লক্ষ্য করে দেখি নাই। যার ফলে খুবই চিন্তিত হইয়া পড়িয়াছিলাম।

হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বায়তুল মুকাদ্দাসকে উঠিয়ে নিয়ে প্রকৃত দৃশ্যটি তুলিয়া ধরিলেন। আমি তাহা দেখে দেখে কুরাইশদের প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগিলাম।

এরপর আমি নবীদের এক জামাতেও নিজেকে উপস্থিত দেখিলাম। আমি দেখলাম হযরত মূসা (আলায়হিস সালাম) দন্ডায়মান অবস্থায় নামাযরত ছিলেন। তিনি শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় দীর্ঘাকৃতি বিশিষ্ট। তার কেশরাজি ছিল কুঞ্চিত।

ঈসা ইবনে মরিয়ম (আলায়হিস সালাম) -কেও দন্ডায়মান অবস্থায় নামাযরত দেখিলাম। উ'রওয়া ইবনে মাসউদ ছাক্বাফী তাঁর সাদৃশ্য ছিলেন।

হযরত ইবরাহীম (আলায়হিস সালাম) -কেও নামাযে দাড়ানো দেখিলাম। তাঁর চেহারা তোমাদের সঙ্গীরই (অর্থাৎ- হুযূর মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সাথেই অধিক) সাদৃশ্যপূর্ণ।

অতঃপর নামাযের সময় হল। আমি সকল নবী আলায়হিমুস সালামগণের ইমামতী করলাম।

যখন নামায থেকে অবসর হলাম একজন প্রবক্তা আমাকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইনি মালিক, জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক, তাঁকে সালাম দিন, আমি তাঁর অভিমুখী হলাম তখন তিঁনি (আমার) পূর্বেই আমাকে সালাম করলেন।"

______ ইহাকে ইমাম মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

[সূএঃ ক) মুসলিম: আস্ সহীহ, কিতাবুল ঈমান , ১/১৫৬ হাদিস: ১৭৮; এবং
খ) নাসাঈ: আস্ সুনানুল কুবরা, ৬/৪৫৫; হাদীসঃ ১১৪৮০]




★ হযরত আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, হুজুর নবী আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর মোবারক ফরমানঃ

"মি'রাজের রাত্রে হযরত মূসা (আলায়হিস্ সালাম) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। হাদিস বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন যে, হযরত (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হযরত মূসা (আলায়হিস্ সালাম) এর গুণ এরুপে বর্ণনা করলেন যে, তিঁনি হালকা-পাতলা, দীর্ঘকায় এলোমেলো চুলবিশিষ্ট। তিঁনি শানুয়াহ গোত্রের লোক সাদৃশ্য।

হযরত (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হযরত ঈসা (আলায়হিস্ সালাম) এর সাথেও আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন হুযূর নবী আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ভূষণের বর্ণনা দিলেন যে, তিঁনি মধ্যম কায়বিশিষ্ট লাল বর্ণওয়ালা যেমন এখনই হাম্মাম থেকে (গোসল সেরে) বের হয়েছেন।

এবং আমি হযরত ইব্রাহিম (আলায়হিস্ সালাম) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং আমি তাঁর সকল আওলাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক তাঁর সাদৃশ্যপূর্ণ হই।
------ এ হাদিস মুত্তাফাকুন আলায়হি।

[সূএঃ ক) বুখারীঃ আস্ সহীহ, কিতাবুল আম্বিয়া, খন্ড-৩, পৃ. ১২৬৯, হাদিস: ৩২৫৪;
খ) মুসলিমঃ আস্ সহীহ, কিতাবুল ঈমান, খন্ড-১, পৃ. ১৫৪, হাদিস: ১৬৮]





★ হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু) বয়ান করেন যে, হুযূর নবী আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমানঃ

"(মি'রাজ এর রাত্রি) আল্লাহ্ তা'আলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করলেন, তখন আমি ঐ (নামায) গুলোকে নিয়ে ফিরে আসি। এ পর্যন্ত যে আমি মূসা (আলায়হিস্ সালাম) এর পাশ দিয়ে চললাম তখন তিঁনি জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আপনার উম্মতের জন্য আপনার উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, আল্লাহ্ তা'আলা ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন।

তিঁনি বললেন, আপনি রবের দিকে ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মত ইহা আদায়ের শক্তি রাখে না। তখন তিঁনি আমাকে ফিরায়ে দিলেন। (আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে) আল্লাহ্ তা'আলা উহার একভাগ কমিয়ে দিলেন। আমি হযরত মূসা (আলায়হিস্ সালাম) এর নিকট ফিরে আসলাম এবং বললাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা একভাগ কমিয়ে দিয়েছেন। তিঁনি বললেন, আপনার রবের নিকট পুনরায় গমন করুন, কেননা আপনার উম্মতের মধ্যে ইহা আদায়ের শক্তিও নেই। তারপর আমি ফিরে গেলাম তখন আল্লাহ্ তা'আলা আরও একভাগ কমিয়ে দিলেন। আমি তাঁর নিকট এলাম। তিঁনি আবারও বললেন, আপনার রবের নিকট যান, কেননা আপনার উম্মতের মধ্যে ইহা আদায়ের শক্তিও নেই।

আমি ফিরে গেলাম তখন (আল্লাহ্ তা'আলা) বললেন, এই (হল যে) পাঁচ (নামায) কিন্তু (পূণ্যের হিসেবে) পঞ্চাশ (এর বরাবর), আমার নিকট নির্দেশাবলী পরিবর্তন হয় না। আমি হযরত মূসা (আলায়হিস্ সালাম) এর নিকট আসলাম তখন তিঁনি বললেন, আপনার রবের নিকট যান (আরও বেশী করে কমিয়ে দেয়ার আবেদন করুন)! আমি বললাম, এখন আমার রবের নিকট আমার লজ্জাবোধ হচ্ছে।

অতঃপর (জিব্রাইল আলায়হিস্ সালাম) আমাকে নিয়ে চললেন, শেষ পর্যন্ত 'সিদরাতুল মুনতাহা'র উপর পৌঁছলেন, যাকে বিভিন্ন রঙে আবৃত করে রেখেছে, জানিনা উহা কি? অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হলো যেখানে মুক্তার হারসমূহ রয়েছে এবং উহার মাটি যেন মেশক (এর ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত)। --- এ হাদিস মুত্তাফাকুন আলায়হি।

[সূএঃ ক) বুখারীঃ আস্ সহীহ, কিতাবুয সালাত, খন্ড-১, পৃ.১৩৬, হাদিস: ৩৪২
এবং কিতাবুল আম্বিয়া, খন্ড-০৩, পৃ. ১২১৭, হাদিস: ৩১৬৪;
খ) মুসলিমঃ আস্ সহীহ, কিতাবুল ঈমান, খন্ড-১, পৃ. ১৪৮, হাদিস: ১৬৩]




পর্ব : দুরুদ শরীফ ও সালাম সংক্রান্ত হাদিস থেকে হায়াতুন্নবী (সা) এর প্রমান :-



() Hadith ($): সহিহ হাদিসে বর্নিত আছে : -

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اﷲِ صلي الله عليه وآله وسلم قَالَ : مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اﷲُ عَلَيَّ رُوْحِي، حَتَّي أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم বলেন, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি সালাম জানায় আল্লাহ আমার রুহ আমাকে ফিরিয়ে দেন এবং আমি ঐ লোকের সালামের জবাব দেই ।

Reference::-

★ Abu Dawud Book 004, Hadith Number 2036
The chain is said to be rigorously authenticated (sahih)

★ al-Nasa’i in his Kitab al-Du‘afa’ wa ’l-Matrukin, p.168.

★ al-Darimi’s al-Tarikh, p.260

★ Imam Ahmad also narrates the hadith in the Musnad, 2/527 (#10827);

★ ibn Ishaq al-Rahuyah in his Musnad, 1/453 (#526 & 2041);

★ ibn ‘Asakir 'Mukhtasar Tarikh Dimashq, 2/407;

★ Abu Nu‘aym al-Ispahani in his Akhbar al-Asbahan, 2/353;

★ al-Tabarani in Mu‘jam al-Awsat, 3/262 (#3092, 9329);

★ al-Bayhaqi in al-Sunan al-Kubra, 1/519 : hadith 1666

★ al-Bayhaqi in al-Sunan al-Kubra 3/249 : hadith 5789

★ al-Bayhaqi : Shu‘ab al-Iman : (#4161);

★ Al-Hawi lil Fatawi, Vol.2, Page No.271-272[

★ Imam al-Nawawi (rah) says of this hadith :رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد صحيحTranslation: It is narrated by Abu Dawud with a “SAHIH CHAIN”]

★ [Nayl al Awtar 5/164]

★ Riyadh us Saliheen 1/255, Hadith # 1402[

★ Kitab al-Manasik (#97)

★ al-Albani’s edition under Ziyarah al-Qubur (#2041) where he grades it hasan.

★ he considers it sahih in his Silsilah Ahadith al-Sahihah [2266]

★ ibn Hajar al-‘Asqalani, Taqrib al-Tahdhib, 1/200

★ Hafiz al-Daraqutni as quoted by ibn Hibban in his al-Thiqat, 6/188.

★ al-Mizzi’s Tahdhib al-Kamal, 7/366

★ ibn al-Najjar, Akhbar al-Madina, p.145;

★ Ibn Kathir, Tafsir 6:464;

★ al-Mundhiri in al-Targhib wa ’l-Tarhib, 2/499

★ al-‘Asqalani’s Talkhis al-Habir, 2/267;

★ al-Haythami in Majma‘ al-Zawa’id, 1/162;

★ al-Tabrizi, Mishkat al-Masabih (#925) & 2/499;

★ al-Muttaqi al-Hindi, Kanz al-‘Ummal, 6/464

★ Murtada al-Zabidi, Ithaf al-Sadat al-Muttaqin, 4/419 & 10/365.

★ ইবনে রাহবীয়া: আল মুসনাদ, ১/৪৫৩, হাদিস: ৫২৬;

★ হায়ছুমী: মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৬২]

হাদিসটির মান ও সনদ পর্যালোচনা :

★ এ হাদিসকে ইমাম আবূ দাউদ, আহমদ, তাবরানী এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।

★ ইমাম আসক্বালানীও বলেন,
ইহাকে ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইহার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।

★ ইমাম হায়ছমীও বলেন, ইহার সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াজিদ আল- ইস্কান্দারানী বর্ণনাকারীকে আমি চিনি না, যখন মাহদী ইবনু জাফর এবং অপরাপর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।




() Hadith ($):- অপর হাদিসে বর্নিত আছে :-

রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم বলেন," যারা আমাকে ভালবাসে আমি তাদের দুরুদ নিজ কানে শোনতে পাই এবং আমি তাদেরকে চিনি ।

Reference::--

(Dala’ile Khairaat Shareef)

Hadith ($):-

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্নিত,

যে আমার কবরে (রওজা পাকে) এসে দুরুদ পাঠ করে আমি তা নিজেই শুনতে পাই আর যে দুরবর্তী স্থান থেকে আমার প্রতি দুরুদ পেশ করে তা আমার কাছে পোঁছে দেয়া হয়।

Reference :
note : উক্ত হাদিসের নির্ভরযোগ্য সনদও আছে আবার দুর্বল সনদও রয়েছে। এক এক জন এক একটা বর্ননা করেছে। তাই একাধিক সনদে বর্নিত বলে হাদিসটি গ্রহনযোগ্য। কোন জাল হাদিসের একাধিক সনদ থাকে না।

★ Shaykh `Abd Allah Siraj al-Din [with a good chain] in Thawab al-Salat `ala al-Nabi (p 214)

★ Al-Khatib Al-Bagdadi in Tarikh Baghdad (3:292) [narrated through weak chain]

★ al-Bayhaqi in Hayat al-Anbiya' ( Shaykh `Abd Allah Siraj al-Dinp. 15) cites corroborating chains and narrations which strengthen the hadith.

★ al-Bayhaqi with two chains - in Shu`ab al-Iman (2:218 #1583),

★ Bayhaqi : al-`Uqayli in al-Du`afa' (4:137)

★ Kanz al-‘Ummal : Hadith 2165,

★ Kanz al-‘Ummal : Hadith 2197,

★ Kanz al-‘Ummal : Hadith 2198

★ Kanz al-‘Ummal : Hadith 41512

★ al-Nabahani, Shawahid al-Haqq (p. 283-285).

★ ibn Hajar al-‘Asqalani grades the chain as “jayyid” (sanad good) : Fath al-Bari (1989 ed. 6:379=1959 ed. 6:488)

★ Imam Asqalani's student al-Sakhawi [Salafi] in al-Qawl al-Badi‘, p.227

★ মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) তাঁর কিতাব الدرة ِالمضٔية في ِالزيارة المصطفوية তে লিখেন।

★ al-Suyuti in al-La’ali’, also considers [the chain as “jayyid]' (1996 ed. 1:259=1:282-283)

★ Ibn Kathir in his Tafsir (6:466),

★ al-Alusi’s Ayat al-Bayyinat, p.80

★ Al-Ahdab in his Zawa'id Tarikh Baghdad (3:69)

★ Ibn `Arraq in Tanzih al-Shari`a (1:335) confirms Ibn Hajar's verdict and al-Suyuti in al-La'ali' authenticates Abu al-Shaykh's chain - among other narrations, citing it in his commentary on al-Nasa'i's Sunan (4:110)

★ Shaykh Mahmud Mamduh in Raf` al-Minara (p. 351)

★ Al-Munawi questions this grading in Fayd al-Qadir

★ Ibn `Abd al-Hadi in al-Sarim al-Munki (p. 206) claims without proof that Abu al-Shaykh's chain.

★ ibn Taymiyyah : Majmu‘at al-Fatawa, 27/241-242

★ Ibn Taymiyyah also classified it as Sahih in Jila'ul Ifhaam;

★ Az ibn Qayyim As Salaatu was Salaam

★ Shaykh Ahmad al-Ghumari confirms ibn Hajar’s grading in al-Mudawi li ‘Ilal al-Munawi, 6/277

★ আল্লামা সাখাবী (রহ) وسنده جيِّد -এর সনদ মজবুত লিখেছেন। (আল কওলুল বদী-১১৬)

★ al-Uqayli,

★ Ibn Asakir.

Wednesday, May 27, 2015

মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে ফেকাহশাস্ত্র ও ফকীহ ইমামগণের মর্যাদা (পর্ব ৩) :-


★ ইমাম আবু সুলাইমান খাত্তাবি রহ. (মৃত:৩৮৮ হি:) আবু দাউদ শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মায়ালিমুস সুনান এর ভূমিকায় লিখেছেন,
“বর্তমান সময়ে আলেমদেরকে দু’ভাগে বিভক্ত দেখি। একদল হলেন মুহাদ্দিস। অপরদল হলেন, ফকিহ। এক দল অপর দল থেকে বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথক নয়। উদ্দেশ্য অর্জনে কেউ কারও থেকে বিমুখ হতে পারবে না। কেননা হাদিস হলো মূল ও ভিত্তি। ফেকাহ হলো শাখা ও অবকাঠামো। যেই ভবন মজবুত ভিত্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটি অল্পদিনেই ধ্বসে পড়ে। আর যেই ভিত বা মূলের কোন ভবন বা কাঠামো নেই, তা কোন মূল্যই রাখে না।[৩৩]

★ হাফেজ সাখাবি ফাতহুল মুগীসে গরীব হাদিস প্রসঙ্গে আলোচনার শেষে লিখেছেন,
“পূর্বে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, হাদিসের বুঝ ও ফিকাহ অর্জন এবং হাদিস থেকে বিধি-বিধান আহরণ। এ বিষয়ের গুরুত্ব খুবই স্পষ্ট। এটি বিখ্যাত ইমামদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যও। যেমন, ইমাম মালেক, শাফেয়ি, আহমাদ, হাম্মাদ ইবনে সালামা, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, সুফিয়ান সাউরি, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, ইমাম আওযায়ীসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অসংখ্য ইমাম। এ বিষযে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিতাব রচিত রয়েছে।

★ ইমাম ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে ইমাম আবু যুরয়া রাযি রহ. এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ইমাম আবু যুরয়া রহ. বলেন, আমি এক রাতে হাদিসের বর্ণনাকারীদের সম্পর্র্কে অনেক চিন্তা-ফিকির করছিলাম। ইতোমধ্যে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম, এক ব্যক্তি আওয়াজ করে বলছে, হে আবু যুরয়া, হাদিসের মূল পাঠ নিয়ে গবেষণা, মৃত ব্যক্তি তথা হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী নিয়ে গবেষণার চেয়ে উত্তম।
এ কারণে আবু যুরয়া রাযি রহ. নিজে বলতেন,

عليكم با لفقه ، فإنه كالتفاح الجبلي يطعم سنته

“তোমাদের জন্য ফিকাহ অর্জন করা আবশ্যক। কেননা ফিকাহ ঐ পাহাড়ি আপেলের ন্যায় যার স্বাদ নির্দিষ্ট মৌসুমে সবচেয়ে বেশি হয়।”[৩৪]

★ ইমাম হাকেম রহ. তাঁর মুকাদ্দামায় ইলমে হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মাঝে একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন ‘হাদীসের বুঝ অর্জন’। এখানে তিনি হাদিসের বুঝ অর্জনের প্রতি খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। এরপর তিনি সেসব বিখ্যাত মুহাদ্দিসের আলোচনা করেছেন, যারা ফকিহ হিসেবেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি লিখেছেন,

النوع العشرين من هذا العلم معرفة فقه الحديث إذا هو ثمرة هذه العلوم وبه قوام الشريعة فأما فقهاء الإسلام أصحاب القياس والرأي والاستنباط والجدل والنظر فمعروفون في كل عصر وأهل كل بلد ونحن ذاكرون بمشيئة الله في هذا الموضع فقه الحديث عن أهله ليستدل بذلك على أن أهل هذه الصنعة من تبحر فيها لا يجهل فقه الحديث إذا هو نوع من أنواع هذا العلم

ইলমুল হাদিসের বিশতম প্রকার: হাদিসের ফিকাহ বা বুঝ অর্জন। কেননা এটি ইলমুল হাদিসের ফলাফল। এর উপরই শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক দেশে প্রসিদ্ধ অনেক ফকিহ ইমাম ছিলেন। যারা আসহাবুল কিয়াস, আসহাবুর রায়, আসহাবুল জাদাল, আসহাবুন নজর ওয়াল ইস্তেম্বাত নামেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। এ বিষয়েও আমরা আলোচনা করব যে, হাদিসের বুঝ অর্জনের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসরাও এগিয়ে এসেছেন। একারণে তাদের মতামতের প্রতিও লক্ষ রাখা উচিত। এর দ্বারা স্পষ্ট হবে যে, মুহাদ্দিসগণ হাদিসের বুঝশূন্য নন। তারাও এবিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখতেন। কেননা হাদিসের বুঝ অর্জন, ইলমুল হাদিসেরই একটি বিশেষ প্রকার।[৩৫]


ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. হাদিসের বুঝ অর্জনের উপর দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এখানে তিনি হাদিস বর্ণনাকারীদের ভুল বুঝ এবং তাদের অসতর্কতা সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। খতিব বাগদাদি রহ. আল-কিফায়া এর শুরুতে এ বিষয়ে খুবই দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর এ বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য সেটিই, যা পূর্বে ইমাম ইবরাহিম নাখয়ি ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর বক্তব্য থেকে আলোচনা করেছি। যারা এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে আয়ত্ব করতে পেরেছেন, তারাই বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তার সন্তুষ্টির পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

★ ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি রহ. ফাজলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফে লিখেছেন,

أما الأئمة و فقهاء أهل الحديث فإنهم يتبعون الحديث الصحيح حيث إذا كان معمولا به عند الصحابة و من بعدهم أو عند طائفة منهم فأما ما اتفق علي تركه فلا يجوز العمل به لأنهم ما تركوه علي علم أنه لا يعمل به

“প্রসিদ্ধ ইমাম ও হাদিস বিশারদ ফকিহগণ কোন একটি হাদিস সহিহ হলে কেবল তখনই এর উপর আমল করতেন, যখন তার উপর কোন সাহাবি, তাবেয়ি, অথবা তাদের নির্দিষ্ট একটি দল নিয়মিত আমল করেছেন। আর সাহাবায়ে কেরাম (রা:) যে হাদিসের উপর আমল না করার উপর একমত হয়েছেন, তার উপর আমল করা জায়েয নয়। কেননা এর উপর যে আমল করা যাবে না, সেটা জেনেই তারা হাদিসটি পরিত্যাগ করেছেন।”[৩৬]

★ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. বলেন,
“ ফিকহ থেকে সেসব বিষয় গ্রহণ করো, যা পূর্ববর্তীদের আমলের সদৃশ। কেননা তারা তোমাদের চেয়ে জ্ঞানী ছিলেন।”
অত:পর ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি রহ. লিখেছেন,
বড় বড় ইমাম যেমন ইমাম শাফেয়ি রহ. ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. এর পরে নতুন নতুন মতবাদের আবির্ভাব হয়েছে। এসব মতবাদ সম্পর্র্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন হাদিস ও সুন্নাহ অনুসরণের নামে যাহেরী মাজহাবের আবির্ভাব হয়েছে। অথচ এরাই হাদিসের সবচেযে বড় বিরোধী। কেননা তারা ইমামগণের বুঝ থেকে সরে এসেছে এবং নিজস্ব বুঝকে যথেষ্ট মনে করেছে। ফলে সে ইমামগণ যেই মত অবলম্বন করেছেন, তার বিপরীত মতটি নিজের জন্য পছন্দ করেছে।[৩৭]


★ ই’লামুল মুয়াক্বিয়ীনে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. এর উক্তি বর্ণনা করা হয়েছে,

“إذا كان عند الرجل الكتب المصنفة فيها قول رسول الله صلى الله عليه وسلم واختلاف الصحابة و التابعين فلا يجوز أن يعمل بما شاء ويتخير فيقضي به ويعمل به حتى يسأل أهل العلم ما يؤخذ به فيكون يعمل على أمر صحيح”

যদি কারও নিকট রসুল (স:) এর লিখিত হাদিসের কিতাবসমূহ, সাহাবা, তাবেয়ি, তাবে-তাবেইনদের মতপার্থক্য সম্বলিত বর্ণনা থাকে, তবে তার জন্য যে কোন একটা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। সে এর উপর আমল করবে না। এর দ্বারা বিচার করাও জায়েয হবে না। মতবিরোধপূর্র্ণ বিষয়ের কোনটি গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে আলেমদেরকে জিজ্ঞাসা করবে। এবং সঠিকটা জেনে তার উপর আমল করবে।[৩৮]

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. উক্ত বক্তব্যের প্রতি লক্ষ করুণ। তিনি বলেছেন, সে যেন উলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করে যে কোনটির উপর আমল করবে। এখানে সতর্ক করেছেন যে, কখনও একটি হাদিস সহিহ হতে পারে; যেহেতু হাদিস সহিহ হওয়াটা তার উপর আমলের জন্য যথেষ্ট নয়, একারণে সে উক্ত হাদিস অনুযায়ী ফতোয়া দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে না। সহিহ হাদিস পেলেই তার উপর ফতোয়া দেয়ার ব্যাপারে তিনি সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, হাদিসটির উপর আমল করা যাবে কি না এবিষয়ে উলামায়ে কেরাম তথা ফকিহগণকে জিজ্ঞাসা না করে হাদিস অনুযায়ী ফতোয়া দেয়া বৈধ নয়। উলামায়ে কেরাম তাকে বলে
 দেবেন, কখন হাদিসের উপর আমল করা হবে এবং কখন আমল থেকে বিরত থাকা হবে।




[৩৩] মায়ালিমুস সুনান. খ.১, পৃ.৩।
[৩৪] ইবনে বাশকুয়াল কৃত আস-সিলাহ, খ.২, পৃ.৪২৯।
[৩৫] মা’রেফাতু উলুমিল হাদীস, পৃ.৬৩।
[৩৬] ফাজলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ। পৃ.৯।
[৩৭] ফাজলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ, পৃ.১৩।
[৩৮] ই’লামুল মুয়াক্বিয়ীন, খ,১, পৃ.৪৪


মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে ফেকাহশাস্ত্র ও ফকীহ ইমামগণের মর্যাদা (পর্ব ২) :-


১ম পর্বের পর :-




পূর্ববর্তী ইমামদ্বয়ের পূর্বে কুফার বিশিষ্ট ইমাম ও শায়খ ইবরাহিম নাখয়ি রহ. এ ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

★ খতিব বাগদাদি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা মুগীরা যাব্বি তাঁর মজলিশে আসতে বিলম্ব করলো। ইবরাহিম নাখয়ি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, মুগীরা, তুমি দেরি করলে কেন? তিনি বললেন, আমাদের কাছে একজন মুহাদ্দিস এসেছেন। তাঁর কাছ থেকে আমরা হাদিস লিখছিলাম। তখন ইবরাহিম নাখয়ি রহ. বললেন, আমরা তো কেবল তার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতাম যার ব্যাপারে নিশ্চিত হতাম যে, সে হালাল ও হারামের মাঝে উত্তমরূপে পার্থক্য করতে পারে। তুমি এমন মুহাদ্দিস দেখবে যে সে হাদিস বর্ণনা করছে কিন্তু হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল বলছে। অথচ সে জানে না যে সে কী করছে।
খতিব বাগদাদি রহ. আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ-এ ইমাম শাফেয়ির রহ. বিশেষ ছাত্র ও ইলমের উত্তরাধিকার ইমাম মুযানির রহ. দীর্ঘ একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। বক্তব্যের শেষে ইমাম মুযানি রহ. বলেছেন,

فانظروا رحمكم الله على ما في أحاديثكم التي جمعتموها ، واطلبوا العلم عند أهل الفقه تكونوا فقهاء إن شاء الله

“তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করুন। তোমরা তোমাদের সঙ্কলিত হাদিসের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখো এবং ফকিহগণের কাছ থেকে ইলম অন্বেষণ করো। ইনশাআল্লাহ তোমরাও ফকিহ হয়ে যাবে।[১৮]

★ বোখারি শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাতা ইমাম কাসতাল্লানী রহ.তাঁর লাতাইফুল ইশারাতে লিখেছেন,

ويرحم الله إمام دار الهجرة مالك بن أنس ، فقد روي عنه فيما ذكره الهذلي أنه سأل نافعا الإمام المقري عن البسملة فقال: السنة الجهر بها فسلم إليه مالك وقال كل علم يسأل عن أهله

আল্লাহ তায়ালা ইমামু দারিল হিজরা ইমাম মালেক রহ.এর উপর রহমত বষর্ণ করুন। তাঁর থেকে ইমাম হুযালি বর্ণনা করেছেন, তিনি একবার ইমাম নাফে’ রহ.কে বিসমিল্লাহ সম্পর্র্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, বিসমিল্লাহ উচ্চ আওয়াজে পড়া সুন্নত। ইমাম মলেক রহ. তাঁর কাছে সালাম পাঠালেন এবং বললেন, প্রত্যেক ইলম তার উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়।[১৯]

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে হাদিসের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার পাশাপাশি ফকিহদের মতামতের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্য থেকে কখনও প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে, শুধু হাদিস সহিহ হলেই তা আমলের জন্য যথেষ্ট। বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি। এতে তাদের দাবির ভ্রান্তি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠবে।
সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী কেউ-ই শুধু হাদিস বর্ণনা আমলের জন্য যথেষ্ট মনে করতেন না। বরং তারা দেখনতেন, হাদিসের উপর আমল করা হয়েছে কি না?

★ পূর্বে আল্লামা যাহেদ আল-কাউসারি রহ. এর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ফিকাহের থেকে বিচ্ছিন্ন অনেক রাবির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। তারা কোন হাদিস আমলযোগ্য এবং কোনটি আমলযোগ্য নয়, তা পার্থক্য করতে পারত না।”[২০] এটি একটি বিস্তর বিষয়।

★ এ বিষয়ে ইমাম ইবনে আবি যায়েদ কাইরাওয়ানী রহ. (৩৮৪ হি:) এর বক্তব্য কিতাবুল জামে থেকে উল্লেখ করবো। সেই সাথে কাজি ইয়াজ রহ. এর বক্তব্যও তারতিবুল মাদারেক থেকে উদ্ধৃত করবো। এখানে তারা সালাফে সালেহিনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সালাফে-সালেহিন কেবল সেসব হাদিসের উপর আমল করতেন, যার উপর পূর্বে কেউ আমল করেছে। কিন্তু যেসব হাদিসের উপর কেউ আমল করেনি, হাদিসগুলো বিশ্বস্ত সূত্রে বর্ণিত হলেও তারা তার উপর আমল করতেন না।
ইমাম ইবনে আবি যায়েদ রহ. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা, আদর্শ ও রীতির আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন,

والتسليم للسنن لا تعارض برأي ولا تدافع بقياس، وما تأوله منها السلف الصالح تأولناه وما عملوا به عملناه وما تركوه تركناه ويسعنا أن نمسك عما أمسكوا، ونتبعهم فيما بينوا، ونقتدي بهم فيما استنبطوه ورأوه في الحوادث، ولا نخرج من جماعتهم فيما اختلفوا فيه أو في تأويله، وكل ما قدمنا ذكره فهو قول أهل السنة وأئمة الناس في الفقه والحديث على ما بيناه وكله قول مالك، فمنه منصوص من قوله، ومنه معلوم من مذهبه

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস গ্রহণ করতে হবে। যুক্তি দ্বারা হাদিসের বিরোধিতা করা যাবে না। কিয়াস দ্বারা হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হবে না। পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরাম যার উপর আমল করেছেন, আমরাও তার উপর আমল করি। তারা যার উপর আমল করেননি, আমরাও তার উপর আমল করি না। তারা যা থেকে বিরত থেকেছেন, তা থেকে বিরত থাকা আমাদেরও কর্তব্য। তারা যেসব বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন, আমরা তার আনুগত্য করি। তারা বিভিন্ন বিষয়ে যেসব মাসআলা গ্রহণ করেছেন, আমরা তার অনুসরণ করি। যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করেছেন কিংবা যার ব্যাখ্যায় মতানৈক্য হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা পূর্ববর্তীদের জামাত থেকে বের হই না।
উপর্যুক্ত বক্তব্যগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বক্তব্য। এটি ফিকাহ ও হাদিসের ইমামগণের অভিমত। এগুলো ইমাম মালেকেরও বক্তব্য।

কিছু বিষয় সরাসরি তাঁর থেকে বর্ণিত এবং কিছু বিষয় তাঁর গৃহীত মাজহাব থেকে আহরিত।
ইমাম মালেক রহ. বলেন, একটি হাদিসের উপর ফকিহদের মতানুযায়ী আমল করা নিজস্ব মতানুযায়ী আমলের চেয়ে শক্তিশালী। তিনি আরও বলেন, আমি যেসব হাদিসের উপর আমল করি, তার ব্যাপারে একথা বলা কঠিন যে, আমার কাছে এর বিপরীত অমুক অমুক বর্ণনা করেছে। কেননা তাবেয়িদের অনেকের কাছে বিভিন্ন সূত্রে হাদিস বর্ণিত হলেও তারা বলতেন, “আমি হাদিসটি সম্পর্র্কে সম্যক অবগত আছি। কিন্তু এর বিপরীত আমল চলে আসছে।”
মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর ইবনে হাযাম রহ. তাঁর ভাইকে কখনও কখনও বলতেন, তুমি এ হাদিস অনুযায়ী কেন ফয়সালা করলে না? তিনি উত্তর দিতেন, আমি মানুষকে এর উপর আমল করতে দেখিনি।
ইবরাহিম নাখয়ি রহ. বলেন, আমি যদি সাহাবাগণকে কব্জী পর্যন্ত ওজু করতে দেখতাম, তবে আমিও তাই করতাম; যদিও আমি কনুই পর্যন্ত ওযুর আয়াত পাঠ করি। কেননা তাদের ব্যাপারে সুন্নত পরিত্যাগের অভিযোগ করা সম্ভব নয়। তারা ইলমের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণের ব্যাপারে সর্বাধিক আগ্রহী। সুতরাং নিজ ধর্মের ব্যাপারে সন্দেহপোষণকারী ছাড়া কেউ তাদের ব্যাপারে এ অভিযোগ করার দু:সাহস দেখাবে না।
ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন, মদিনাবাসীর মাঝে প্রচলিত সুন্নত, হাদিসে বর্ণিত সুন্নত থেকে উত্তম। ইমাম ইবনে উয়াইনা বলেন, ফকিহগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য হাদিস ভ্রষ্টতার কারণ। এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন, অন্যরা হাদিসকে তার বাহ্যিক অর্থের উপর প্রয়োগ করে। অথচ অন্য হাদিসের আলোকে এ হাদিসের বিশেষ ব্যাখ্যা রয়েছে। অথবা, হাদিসের বিপরীতে সূক্ষ্ম দলিল রয়েছে যা তার কাছে অস্পষ্ট। হাদিসটি অন্য কোন দলিলের আলোকে পরিত্যাজ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ সব বিষয়ে গভীর পান্ডিত্যের অধিকারী ফকিহ ছাড়া অন্যরা অবগত নয়।
ইমাম ইবনে ওহাব রহ. বলেন, যে মুহাদ্দিসের কোন ফকিহ ইমাম নেই, সে ভ্রষ্ট। আল্লাহ পাক যদি আমাদেরকে ইমাম লাইস ইবনে সা’য়াদ ও ইমাম মালেকের দ্বারা মুক্তি না দিতেন, তবে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম।[২১] ইমাম ইবুন আবি যায়েদ বলেন, ইমাম মালেক রহ. বলেছেন, মদিনায় এমন কোন মুহাদ্দিস ছিলেন না, যিনি কখনও দু’টি পরস্পর বিরোধী হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আশহাব বলেন, ইমাম মালেক রহ. এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন, কোন মুহাদ্দিস এমন হাদিস বর্ণনা করতেন না, যার উপর আমল করা হয় না।[২২]

★ কাজি ইয়াজ রহ. তারতিবুল মাদারেক-এ লিখেছেন,

باب ما جاء عن السلف والعلماء في الرجوع إلى عمل أهل المدينة في وجوب الرجوع إلى عمل أهل المدينة وكونه حجة عندهم وإن خالف الأكثر روي أن عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه قال على المنبر: احرج بالله على رجل روى حديثاً العمل على خلافه.قال ابن القاسم وابن وهب رأيت العمل عند مالك أقوى من الحديث، قال مالك: وقد كان رجال من أهل العلم من التابعين يحدثون بالأحاديث وتبلغهم عن غيرهم فيقولون ما نجهل هذا ولكن مضى العمل على غيره، قال مالك: رأيت محمد بن أبي بكر ابن عمر بن حزم وكان قاضياً، وكان أخوه عبد الله كثير الحديث رجل صدق، فسمعت عبد الله إذا قضى محمد بالقضية قد جاء فيها الحديث مخالفاً للقضاء يعاتبه، ويقول له: ألم يأت في هذا حديث كذا؟ فيقول بلى.فيقول أخوه فما لك لا تقضي به؟ فيقول فأين الناس عنه، يعني ما أجمع عليه من العلماء بالمدينة، يريد أن العمل بها أقوى من الحديث، قال ابن المعذل سمعت إنساناً سأل ابن الماجشون لمَ رويتم الحديث ثم تركتموه؟ قال: ليعلم أنا على علم تركناه.

পরিচ্ছেদ: অধিকাংশের আমল বিপরীত হওয়া সত্ত্বেও মদিনা বাসীর আমল গহণ ও তা হুজ্জত হওয়া প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহিনের বক্তব্য।
বর্ণিত আছে, হজরত উমর রা. মিম্বারে ভাষণ দেয়ার সময় বলেছেন, আল্লাহর শপথ, আমি ঐ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করবো, যে এমন হাদিস বর্ণনা কওে যার উপর সাহাবাদের আমল নেই।
ইমাম ইবনে কাসেম ও ইবনে ওহাব রহ. বলেন, ইমাম মালেক রহ. এর কাছে প্রচলিত আমল বর্ণিত হাদিস থেকে অধিক শক্তিশালী। ইমাম মালেক রহ. বলেন, অনেক তাবেয়ি এমন ছিলেন যারা হাদিস বর্ণনা করতেন, এরপর তাদের কাছে এর বিপরীত হাদিস উল্লেখ করা হলে তারা বলতেন, আমি হাদিসটি সম্পর্র্কে সম্যক অবগত আছি। কিন্তু এর বিপরীত আমল চলে আসছে।
ইমাম মালেক রহ. বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনে হাযাম রহ. কে দেখেছি, তিনি একজন বিশিষ্ট কাজি ছিলেন। তাঁর ভাই আব্দুল্লা ছিলেন সত্যবাদী ও বড় মাপের মুহাদ্দিস। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রহ. যখন এমন কোন ফয়সালা করতেন, যার বিপরীতে হাদিস রয়েছে, তখন আব্দুল্লাহ রহ. তাকে ভর্ৎসনা করে বলতেন, এ ব্যাপারে তো এই হাদিসটি বর্ণিত আছে? তিনি বলতেন, হ্যাঁ। আব্দুল্লাহ রহ. জিজ্ঞাসা করতেন, তাহলে এ অনুযায়ী বিচার করলেন না কেন? তিনি বলতেন, এ ব্যাপারে মদিনাবাসীর আমল কি? অর্থাৎ মদিনার আলেমগণ কোনটির উপর আমলের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো, মদিনার  আলেমগণের মাঝে প্রচলিত ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের উপর আমল করা হাদিসের উপর আমলের চেয়ে শক্তিশালী।

ইমাম ইবনুল মুয়াজ্জাল বলেন, এক ব্যক্তি ইবনুল মাজিশুনকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা হাদিস বর্ণনা করে তা পরিত্যাগ করো কেন? তিনি উত্তর দিলেন, যেন লোকদেরকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেই যে, হাদিসটি সম্পর্র্কে আমাদের অবগতি থাকা সত্ত্বেও আমরা তার উপর আমল করিনি।
ইমাম ইবনে মাহদি রহ. বলেন, মদিনাবাসীর মাঝে পূর্ব থেকেই প্রচলিত সুন্নত হাদিস থেকে উত্তম। তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে অনেক হাদিস আমার সংগ্রহে থাকে। কিন্তু ইসলামের শুরু থেকে প্রচলিত আমল যদি এর বিপরীত হয়, তখন হাদীসগুলি আমার কাছে দুর্বল বিবেচিত হয়।
ইমাম রবীয়া’ রহ. বলেন, আমার কাছে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির বর্ণনার চেয়ে এক হাজারের লোক থেকে অপর এক হাজার লোকের বর্ণনা অধিক উত্তম। কেননা আমার আশঙ্কা হয় এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির বর্ণনা তোমাদের থেকে সুন্নত ছিনিয়ে নেবে।
ইবনে আবি হাযেম রহ. বলেন, আবু দারদা রহ. কে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হতো। তিনি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতেন। অত:পর তাঁকে বলা হতো, আমাদের কাছে তো এই হাদিস এভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলতেন, আমিও হাদিসটি শুনেছি, কিন্তু প্রচলিত আমল এর বিপরীত।
ইমাম ইবনে আবিয যিনাদ রহ. বলেন, উমর বিন আব্দুল আযিয রহ. ফকিহদেরকে একত্র করতেন। যেসব হাদিস ও সুন্নতের উপর আমল করা হয়, তাদেরকে সেসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। এরপর তিনি তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ফয়সালা করতেন। যেসব হাদিসের উপর আমল করা হয় না, সেগুলো পরিত্যাগ করতেন, যদিও তা বিশ্বস্ত সূত্রে বর্ণিত হতো।[২৩]


★ এবার খতিব বাগদাদি রহ. এর বক্তব্যের প্রতি লক্ষ করুন। তিনি আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ-এ শিরোনাম দিয়েছেন, “যেসব কারণে খবরে ওয়াহিদকে পরিত্যাগ করা হবে।” তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন ঈসা তাব্বা’ রহ. এর বক্তব্য দিয়ে পরিচ্ছেদটি শুরু করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ বিন ঈসা রহ. ছিলেন ইমাম মালেক রহ. এর বিশিষ্ট ছাত্র; একজন বিশিষ্ট ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তিনি বলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রত্যেকটি হাদিসের উপর আমলের ব্যাপারে কোন সাহাবি থেকে যদি কোন বর্ণনা না পাওয়া যায়, তবে হাদিসটি পরিত্যাগ করো।”[২৪]

★ ইবনে খাল্লিকান রহ. শাফেয়ি মাজহাবের বিশিষ্ট ইমাম আবুল কাসেম আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ আদ-দারকী রহ. (৩৭৫ হি:) এর জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “তাঁর কাছে যখন কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি দীর্ঘ সময় তা নিয়ে চিন্তা করতেন। এরপর ফতোয়া প্রদান করতেন। কখনও কখনও তিনি ইমাম আবু হানিফা রহ. ও ইমাম শাফেয়ি রহ. এর মবের বিপরীত ফতোয়া দিতেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, তোমাদের ধ্বংস হোক, অমুকে অমুকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস গ্রহণ করা ইমামদ্বয়ের বক্তব্য গ্রহণ থেকে উত্তম।[২৫]

★  ইমাম যাহাবি রহ. উক্ত বক্তব্যটি সিয়ারু আ’লামিন নুবালা-তে উল্লেখ করে মন্তুব্য লিখেছেন,

قُلْتُ:هَذَا جَيِّدٌ، لَكِنْ بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ قَدْ قَالَ بِذَلِكَ الحَدِيْثِ إِمَامٌ مِنْ نُظَرَاءِ الإِمَامَيْنِ مِثْلُ مَالِكٍ، أَوْ سُفْيَانَ، أَوِ الأَوْزَاعِيِّ، وَبأَنْ يَكُونَ الحَدِيْثُ ثَابِتاً سَالِماً مِنْ عِلَّةٍ، وَبأَنْ لاَ يَكُونَ حُجَّةُ أَبِي حَنِيْفَةَ وَالشَّافِعِيِّ حَدِيْثاً صحيحاً معَارضاً للآخَرِ.أَمَّا مَنْ أَخَذَ بِحَدِيْثٍ صَحِيْحٍ وَقَدْ تنكَّبَهُ سَائِرُ أَئِمَّةِ الاِجتهَادِ، فَلاَ

“আমি বলব, এটি উত্তম। কিন্তু শর্ত হলো, ইমামদ্বয়ের সমতুল্য কোন আলেম যেমন ইমাম মালেক, সুফিয়ান সাউরি অথবা ইমাম আওযায়ী রহ. এর মতো বড় কোন ইমাম উক্ত হাদিস অনুযায়ী ফতোয়া দিতে হবে; হাদিসটি সব ধরনের ত্র“টি থেকে মুক্ত ও বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হবে। সাথে সাথে, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ি রহ. এর দলিলটি এমন কোন সহিহ হাদিস হবে না, যা আলোচ্য হাদিসের বিপরীত। কিন্তু কেউ যদি এমন হাদিস গ্রহণ করে, যা সব মুজতাহিদ পরিত্যাগ করেছেন, তাহলে তার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে না।” [২৬] আবু যুরয়া দিমাশকী তাঁর তারিখে এবং ইমাম রামাহুরমুযি আল-মুহাদ্দিসুল ফাযেলে ইমাম আওযায়ী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
“আমরা যখন কোন হাদিস শুনতাম, তা আমাদের সাথিদের কাছে পেশ করতাম। যেমন ভেজাল নির্ণয়ের জন্য দেরহাম পেশ করা হয়। হাদিসটি যদি তাদের কাছে ত্র“টিমুক্ত হতো, তখন তা গ্রহণ করতাম। যেই হাদিস সম্পর্র্কে তারা আশ্বস্ত হতেন না, সেটা আমরা পরিত্যাগ করতাম।[২৭]


★ ইমাম তকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া রহ. আল-মুসাওয়াদা-তে লিখেছেন,

“ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. যেসব হাদিস ও আসার বর্ণনা করেছেন, সেটি তার মাজহাব হিসেবে গণ্য হবে। কোন হাদিসকে সহিহ, হাসান বললেও সেটি তার মাজহাব হিসেবে পরিগণিত হবে। এমনকি যেসব হাদিসের সনদের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাঁর কিতাবে লিখেছেন সেগুলোও তাঁর মাজহাব। এভাবে যেসব হাদিস তিনি প্রত্যাখ্যান করেননি বা এর বিপরীত ফতোয়া প্রদান করেননি, সেগুলোও তার মাজহাব হিসেবে গণ্য হবে। কেউ কেউ বলেছেন, এগুলো তার মাজহাবের অন্তর্ভূক্ত হবে না”[২৮]

★ এখানে আমাদের উদ্দিষ্ট বক্তব্য হলো, “যে হাদিস তিনি প্রত্যাখ্যান করেননি বা এর বিপরীত ফতোয়া দেননি” এ অংশটি। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. ও অন্যান্য ইমামগণ কখনও একটি হাদিস সহিহ সত্ত্বেও পরিত্যাগ করেছেন। এর পরিবর্তে অন্য হাদিসের উপর আমল করেছেন। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, হাদিস সহিহ হলেই তার উপর আমল করা জরুরি নয়।
একজন আলেমের সৌন্দর্য হলো, সে হাদিস ও ফিকাহ উভয়ের প্রতি সমান দৃষ্টি রাখে। সে একটির উপর আমল করতে গিয়ে অন্যের উপর জুলুম করে না।
ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া লাইসী রহ. ইমাম মালেক রহ. থেকে মুয়াত্তায়ে মালেক বর্ণনা করেছেন। কাজি ইয়াজ রহ. তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,

قال يحيى: كنت آتي عبد الرحمان بن القاسم، فيقول لي من أين يا أبا محمد؟ فأقول له: من عند عبد الله بن وهب. فيقول لي: اتق الله، فإن أكثر هذه الأحاديث ليس عليها العمل. ثم آتي عبد الله بن وهب، فيقول لي من أين؟ فأقول له:من عند ابن القاسم، فيقول لي اتق الله، فإن أكثر هذه المسائل رأي ثم يرجع يحيى فيقول: رحمهما الله فكلاهما قد أصاب في مقالته. نهاني ابن القاسم عن إتباع ما ليس عليه العمل من الحديث، وأصاب. ونهاني ابن وهب عن كلفة الرأي، وكثرته، وأمرني بالإتباع وأصاب. ثم يقول يحيى: إتباع ابن القاسم في رأيه رشد. واتباع ابن وهب في أثره هدى

ইমাম ইয়াহইয়া বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনুল কাসেমের নিকট আগমন করতাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, হে আবু মুহাম্মাদ, কোথা থেকে এলে? আমি উত্তর দিতাম, আমি আব্দুল্লাহ বিন ওহাবের নিকট থেকে এলাম। তিনি বলতেন, আল্লাহকে ভয় করো। কেননা এসব হাদিসের অধিকাংশের উপর মদিনাবাসীর আমল নেই। এরপর, আব্দুল্লাহ বিন ওহাবের নিকট আসতাম। তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, কোথা থেকে এলে? আমি বলতাম, আবুল কাসেমের নিকট থেকে এলাম। তিনিও আমাকে বলতেন, আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তাঁর এসব মাস-আলার অধিকাংশ হলো যুক্তি।
অত:পর ইমাম ইয়াহইয়া স্বগতোক্তি করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা উভয় ইমামের উপর রহমত বর্ষণ করুন। প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে সঠিক অবস্থানে রয়েছেন। ইমাম ইবনুল কাসেম আমাকে যেসব হাদিসের উপর আমল করা হয় না, তা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি সঠিক কাজ করেছেন। ইমাম ইবনুল ওহাব আমাকে অপ্রয়োজনীয় ও অধিক কিয়াস থেকে নিষেধ করেছেন। তিনিও সঠিক বলেছেন। অত:পর ইমাম ইয়াহইয়া বলেন, ইমাম ইবনুল কাসেমের বক্তব্যের অনুসরণের মাঝে যেমন উত্তম নির্দেশনা ও হেদায়াত রয়েছে, তেমনি ইমাম ইবনুল ওহাবের অনুসরণের মাঝেও রয়েছে উত্তম পথ-নির্দেশনা।[২৯]

★ ইমাম আবু নুয়াইম নিজ সূত্রে ইবরাহিম নাখয়ি রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন,

لا يستقيم رأي إلا برواية ولا رواية إلا برأي

অর্থাৎ হাদিস ব্যতীত কোন কিয়াস গ্রহণযোগ্য নয়। আবার সঠিক কিয়াস ব্যতীত হাদিসের কোন আমল গ্রহণযোগ্য নয়।[৩০]

★ একই ভাবে ইমাম মুহাম্মাদ বিন হাসান শাইবানী রহ. লিখেছেন,

لا يستقيم العمل بالحديث إلا بالرأي ولا يستقيم العمل بالرأي إلا بالحديث

প্রয়োজনীয় কিয়াস ছাড়া হাদিসের উপর বিশুদ্ধ আমল সম্ভব নয়। আবার হাদিস ব্যতীত কোন ক্বিয়াসও গ্রহণযোগ্য নয়।[৩১]

★ কাজি রামাহুরমুযি রহ. (৩৬০হি:) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল এর ভূমিকায় তার সমযুগীয় বাগদাদের অধিবাসী এক আলেমকে নসীহত করেছেন। এই আলেম মুহাদ্দিসগণের ব্যাপারে অশোভনীয় কথা বলেছিল। তাঁকে নসীহত করে বলেছেন,
“তুমি ইলমের আদবের প্রতি কেন লক্ষ করো না? ইলমের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন তোমার কর্তব্য নয় কি? ফকিহদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করো। হাদিস বর্ণনাকারী রাবীদেরকেও উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করো। রাবীদেরকে ফিকাহ অর্জনের প্রতি এবং ফকিহদেরকে হাদিস অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করো। উভয়ের মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করো। উভয়ের অনুসৃত পথ থেকে উপকৃত হও। ফকিহ ও মুহাদ্দিস ঐক্যবদ্ধ থাকার মাঝেই তাদের পরিপূর্ণতা। অনৈক্য উভয়ের জন্যই হানিকর।”[৩২]



All References :



[১৮] আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কীহ, খ.২, পৃ.১৫-১৯।
[১৯] লাতাইফুল ইশারাত, খ.১, পৃ.৮০, ৯৮।
[২০] ইমাম হাযেমী রহ. কৃত শুরুতুল আইম্মাতিল খামসা এর উপর ইমাম যাহেদ আল-কাউসারী রহ. এর টীকা সংযোজন। পৃ.৩৬।
[২১] কিতাবুল জামে, পৃ.১১৭।
[২২] কিতাবুল জামে’. পৃ.১৪৬।
[২৩] তারতীবুল মাদারেক, খ.১, পৃ.৬৬।
[২৪] আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কীহ। খ.১, পৃ.১৩২।
[২৫] ওফায়াতুল আ’য়ান, খ.৩, পৃ.১৮৮-১৮৯।
[২৬] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা। খ.১৬, পৃ.৪০৪।
[২৭] তারীখে আবু যুরআ,খ.১, পৃ.২৬৫। আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, পৃ.৩১৮।
[২৮] আল-মুসাওয়াদা, পৃ.৫৩০।
[২৯] তারতীবুল মাদারেক। খ.২, পৃ.৫৪১।
[৩০] হিলয়াতুল আওলিয়া, খ.৪, পৃ.৩২৫।
[৩১] ইমাম সারাখসী রহ. তার উসুলুস সারাখসীতে এটি বর্ণনা করেছেন। খ.২, পৃ.১১৩। তার সমযুগীয় আলেম ফখরুল ইসলাম বাযদাবী উসুলুল বাযদাবীতে এটি উল্লেখ করেছেন। পৃ.৫। দেখুন, শরহু আব্দিল আযীয আল-বোখারী আলা উসুলিল বাযদাবী। খ.১, পৃ.১৭-১৮।
[৩২] আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, পৃ.১৬০।





মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে ফেকাহশাস্ত্র ও ফকীহ ইমামগণের মর্যাদা (পর্ব ১) :-



★ ইবনে হিব্বান রহ. নিজ সনদে আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে ওহাব রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,

لقيت ثلاث مائة عالم وستين عالما ، ولولا مالك والليث لضللت في العلم

“আমি তিনশ’ ষাট জন আলেম থেকে ইলম অর্জন করেছি। কিন্তু যদি ইমাম মালেক রহ. ও ইমাম লাইস রহ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ না হতো তবে আমি গোমরাহ হয়ে যেতাম।”[১]

★ ইবনে হিব্বান রহ. তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন,

اقتدينا في العلم بأربعة : اثنان بمصر واثنان بالمدينة : الليث بن سعد ، وعمرو بن الحارث بمصر ; ومالك والماجشون يالمدينة ، ولولا هؤلاء لكنا ضالين .

“আমি ইলম অর্জনে চারজনের অনুসরণ করেছি। দু’জন মিশরের এবং দু’জন মদিনার। ইমাম লাইস বিন সা’দ এবং আমর বিন হারেস ছিলেন মিশরীয়। ইমাম মালেক রহ. এবং ইমাম মাজিশুন ছিলেন মদিনার অধিবাসী। তারা যদি না থাকতেন, তবে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম।”

*** ইমাম ইবনে আবি হাতেম এবং ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. তাঁর থেকে এজাতীয় বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। আল্লামা কাউসারি রহ. ভ্রষ্টতার কারণ বিশ্লেষণ করে উক্ত বক্তব্যের উপর আল-ইনতেকা-এ টীকা সংযোজন করেছেন। ইবনে আসাকির রহ. নিজ সনদে ইবনে ওহাব রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, ইমাম মালেক বিন আনাস এবং লাইস বিন সা’য়াদ যদি না থাকতেন, তবে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম। আমি ধারণা করতাম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলোর উপর আমল করা হবে।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। ইমাম কাউসারি রহ. বলেন, ফিকাহ থেকে বিচ্ছিন্ন অনেক রাবির ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে, যারা কোন হাদিসটি আমলযোগ্য এবং কোনটি আমলযোগ্য নয়, তা পার্থক্য করতে পারত না।” [২]


★ কাজি ইয়াজ রহ. ইবনে ওহাব রহ. এর বক্তব্যটি এভাবে বর্ণনা করেছেন,

قال ابن وهب: لولا أن الله أنقذني بمالك والليث لضللت. فقيل له: كيف ذلك؟ قال: أكثرت من الحديث فحيرني. فكنت أعرض ذلك على مالك والليث، فيقولان لي: خذ هذا ودع هذا.

“ইমাম ইবনে ওহাব রহ. বলেন, আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে ইমাম মালেক ও লাইস বিন সা’য়াদের মাধ্যমে রক্ষা না করতেন, তবে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কীভাবে? তিনি বলেন, আমি অনেক হাদিস বর্ণনা করতাম। ফলে আমি পেরেশান হয়ে যেতাম।[৩]

★ তখন আমি হাদিসগুলো ইমাম মালেক ও ইমাম লাইস বিন সায়াদের কাছে পেশ করতাম। তখন তারা আমাকে বলতেন, এটি গ্রহণ করো এবং এটি ছেঁড়ে দাও।”[৪]

★ একারণে সুফিয়ান সাউরি রহ. এই চিন্তাগত পেরেশানির আশঙ্কা এবং এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন,

تفسير الحديث خير من سماعه

“হাদীসের ব্যাখ্যা শিখা অধিক হাদিস শোনা থেকে উত্তম।”[৫]

★ ইমাম আবু আলী নিসাপুরি রহ. বলেন,

الفهم عندنا أجل من الحفظ

অর্থাৎ আমাদের নিকট হাদিস মুখস্থের চেয়ে হাদিসের বুঝ অর্জন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।[৬]

★ এক ব্যক্তি ইবনে উকদা রহ. কে একটা হাদিস সম্পর্র্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন, এজাতীয় হাদিস কম বর্ণনা করো। কেননা এগুলোর বর্ণনা তার জন্যই কেবল শোভনীয় যে এর মর্ম উপলব্ধি করতে পারে। ইহইয়া বিন সুলাইমান আব্দুল্লাহ বিন ওহাব থেকে, তিনি হজরত ইমাম মালেক রহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ইমাম মালেক রহ. কে বলতে শুনেছি, অনেক হাদিস ভ্রষ্টতার কারণ হয়। আমি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছি যার প্রত্যেকটি বর্ণনার পরিবর্তে দু’টি বেত্রাঘাত খেতে বেশি পছন্দ করি।” [৭] [৮]


★ ইমাম মালেকের উক্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় শায়খ আল্লামা ইসমাইল আল-আনসারি বলেছেন, হাদিস ভ্রষ্টতার কারণ তার জন্যই হয়, যে হাদিসকে অপাত্রে ব্যবহার করে এবং অনুপযুক্ত স্থানে তা প্রয়োগ করে। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহের মাঝে তো শুধু হেদায়েতই রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَاتَّبِعُوه لَعَلكم تَهْتَدُون

অর্থাৎ তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, অবশ্যই হেদায়াত প্রাপ্ত হবে। কেউ যদি কোন জিনিস উপযুক্ত স্থানে রাখার পরিবর্তে অন্য জায়গায় রাখে, তবে সে পথভ্রষ্ট হবে। এজন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতকে হিকমা বলেছেন। আর হিকমা বলা হয় কোন জিনিস তার উপযুক্ত স্থানে রাখা।

আল-জামে লি আখলাকির রাবি ও আদাবিস সামে-তে রয়েছে, ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন,

قيل لمالك ابن انس إن عند بن عيينة عن الزهري اشياء ليست عندك فقال مالك وأنا كل ما سمعته من الحديث احدث به الناس أنا إذا اريد ان اضلهم

“ইমাম মালেক রহ. কে বলা হলো, ইমাম ইবনে উয়াইনা রহ. এর কাছে ইমাম যুহরীর রহ. অনেক হাদিস রয়েছে, যা আপনার কাছে নেই। ইমাম মালেক রহ. বললেন, আমি যেসব হাদিস শুনেছি, তার সব যদি মানুষের নিকট বর্ণনা করি, তবে আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো।[৯]



★ এ কারণে আল্লামা ইবনে ওহাব রহ. বলেছেন,

الحَدِيْثُ مَضلَّةٌ إِلا لِلْعُلَمَاءِ

অর্থাৎ আলেমগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য হাদিস ভ্রষ্টতার কারণ।[১০]
 এখানে আলেম দ্বারা ফকিহ উদ্দেশ্য।

★ এবিষয়ে ইমাম ইবনে উয়াইনা রহ. এর বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং সন্দেহ থাকে না যে, হাদিসের প্রকৃত বুঝ অর্জন করেছে ফকিহগণ। তাঁদের অনুসরণ ও সংশ্রব মানুষকে বক্রতা ও ভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত রাখবে। এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিখ্যাত দুই ইমাম, ইবনে উয়াইনা ও ইবনে ওহাব রহ। অন্যান্য ইমামগণ তাদের এ বক্তব্য উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখের মাধ্যমে এর স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। যেমন ইবনে উয়াইনা রহ. থেকে ইবনে আবি যায়েদ কাইরাওয়ানি, ইমাম খলিল আল-জুন্দি, ইবনে হাজার হায়তামি রহ. বর্ণনা করেছেন। আল্লামা ইবনে ওহাবের বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি হাতেম, ইবনে হিব্বান, ইবনে আবি যায়েদ, ইমাম বাইহাকি, ইবনে আব্দুল বার, কাজি ইয়াজ, ইবনে আসাকির ও ইবনে রজব হাম্বলি রহ. সহ প্রমুখ আলেম।
আল্লামা ইবনে আব্দুল বার আত-তামহীদে[১১]

★ আবু জা’ফর আইলির সূত্রে যে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, সেখানে আবু জাফর আইলি বলেছেন, আমি ইবনে ওহাব রহ. কে অসংখ্যবার একথা বলতে শুনেছি। একারণে আমি যে উৎসগুলো থেকে উক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি, সেখানে ইবনে ওহাব রহ. এর বক্তব্যটি বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ উদাসীন মহল এ থেকে বড়ই আশ্চর্যজনকভাবে উদাসীন রয়েছে।

★ ইমাম তিরমিযি রহ. সুনানে তিরমিযিতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যয়নব রা. এর গোসলের বর্ণনা সম্বলিত উম্মে আতিয়্যা রা. এর হাদিস উল্লেখ করেছেন। এবং এর উপর দীর্ঘ আলোচনা করে শেষে লিখেছেন,

وَكَذِلِكَ قَالَ الفُقَهَاءُ وَهُمْ أَعْلَمُ بِمَعَانِي الحَدِيْثِ

অর্থাৎ ফুকাহায়ে কেরাম এমনটি বলেছেন, তারা হাদিসের প্রকৃত অর্থ সম্পর্র্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।[১২]

★ খতিব বাগদাদি রহ. আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ-এ লিখেছেন,

وليعلم أن الإكثار من كتب الحديث وروايته لا يصير به الرجل فقيها , وإنما يتفقه باستنباط معانيه , وإنعام التفكير فيه

“জেনে রেখো, বেশি বেশি হাদীস লেখা ও অধিক সংখ্যক হাদিস বর্ণনা দ্বারা কেউ ফকিহ হয়ে যায় না। বরং হাদিসের অর্থ আহরণ এবং তা নিয়ে গভীর গবেষণা দ্বারাই ফকিহ হওয়া যায়।”

অতঃপর তিনি ইমাম মালেক থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তার দুই ভাগ্নে আবু বকর ইবনে আবি উয়াইস এবং ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইসকে ওসিয়ত করেছেন।

أراكما تحبان هذا الشأن وتطلبانه ؟ ” قالا : نعم , قال : ” إن أحببتما أن تنتفعا به , وينفع الله بكما , فأقلا منه , وتفقها ”

তিনি তাদেরকে বললেন,“তোমাদের দু’জনকে দেখছি, তোমরা হাদিস সংকলন, তা শ্রবণ এবং অন্বেষণ অধিক পছন্দ করো? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমরা যদি পছন্দ করো যে, তোমরা তা থেকে উপকৃত হবে এবং আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দ্বারা অন্যের উপকার করবেন, তবে কম হাদিস বর্ণনা করো এবং হাদিসের বুঝ তথা ফিকাহ বেশি অর্জন করো।”[১৩]

এজন্য ইমাম মালেক রহ. হাদিস গ্রহণের পূর্বে যাচাই করতেন। তিনি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রাবি সিকা ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি দেখতেন সে ফকিহ কি না। এবং বর্ণিত হাদিস সম্পর্র্কে তার বুঝ আছে কি না।

★ কাজি ইয়াজ রহ.তারতিবুল মাদারেকে উল্লেখ করেছেন, ইবনে ওহাব রহ. বলেন, ইমাম মালেক রহ. আত্তাফ বিন খালেদ সম্পর্র্কে অবগত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিস। ইমাম মালেক রহ. বললেন, তোমরা কি তার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমরা ফকিহ ছাড়া অন্যের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করি না।”[১৫]

এক্ষেত্রে ইমাম মালেকের আদর্শ হলেন, তাঁর উস্তাদ ইমাম রবীয়াতুর রায় রহ.।

★ খতিব বাগদাদি রহ. আল-কিফায়াতে নিজ সনদে ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন, ইমাম রবীয়া রহ. ইবনে শিহাব যুহরীকে বলেছেন, তুমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করে থাকো, সুতরাং সতর্কতার সাথে তা মুখস্থ করবে।[১৬]

★ ইমাম মালেক রহ.তাঁর অপর উস্তাদ আমিরুল মু’মিনিন ফিল হাদিস ইমাম আবুয যিনাদ আব্দুল্লাহ বিন যাকওয়ান রহ.এরও অনুসরণ করেছেন। আবুয যিনাদ রহ. থেকে ইবনে আব্দুল বার রহ. নিজ সনদে উল্লেখ করেছেন,

وأيم الله إن كنا لنلتقط السنن من أهل الفقه والثقة ونتعلمها شبيها بتعلمنا آي القرآن

“আল্লাহর শপথ, আমরা ফকিহ ও সিকা রাবিদের থেকে হাদিস গ্রহণ করতাম এবং সেগুলো পবিত্র কুরআনের আয়াতের মতো শিখতাম।”[১৭]




All References:-


=======
[১] আল-মাজরুহীন, খ.১, পৃ.৪২।
[২] ইমাম হাযেমী রহ. কৃত শুরুতুল আইম্মাতিল খামসা এর উপর ইমাম যাহেদ আল-কাউসারী রহ. এর টীকা সংযোজন। পৃ.৩৬।
[৩] ইমাম তাজুদ্দিন সুবকী রহ. তাঁর ত্ববকাতে ইমাম আহমাদ বিন সালেহ আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেন, ইমাম আব্দুল্লাহ বিন ওহার রহ. এক লাখ বিশ হাজার হাদীস সংকলন করেন। ত্ববাকাত, খ.২, পৃ.১২৮।
[৪] তারতীবুল মাদারেক, খ.২, পৃ.৪২৭।
[৫] জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহি, খ.২, পৃ.১৭৫।
[৬] তাযকেরাতুল হুফফায, পৃ.৭৭৬।
[৭] আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কীহ খ.২, পৃ.৮০।
[৮] ইমাম হাকেম এটি ইমাম মালেক থেকে মা’রেফাতু উলুমিল হাদীসে বর্ণনা করেছেন। পৃ.৬১। এরপর তিনি লিখেছেন, ইমাম মালেক রহ. খুব অল্প হাদীস বর্ণনা এবং হাদীসের বর্ণনার ব্যাপারে যথেষ্ট রক্ষণশীল থাকা সত্ত্বেও হাদীস বর্ণনা থেকে এতটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে অন্যদের অবস্থা কী হবে, যারা অবলীলায় হাদীস বর্ণনা করে থাকে।
[৯] ‘আল-জামে লিআখলাকির রাবী ও আদাবিস সামে, খ.২, পৃ.১০৯।
[১০] মূল বক্তব্যটি ইমাম মালেক রহ. এর।
[১১] আত-তামহীদ, খ.১, পৃ.২৬।
[১২] তিরমিযী শরীফ, খ.৩, পৃ.৩৭২। হাদীস নং ৯৯০।
[১৩] আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কীহ, খ.২ পৃ.৮১-৮২। আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, পৃ.২৪২, ৫৫৯।
[১৪] আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কীহ, খ.১ পৃ.৮৩।
[১৫] তারতীবুল মাদারেক, খ.১, পৃ.১২৪-১৫।
[১৬] আল-কিফায়া, পৃ.১৬৯।
[১৭] জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়াফাযলিহি, খ.২, পৃ.৯৮।