Blog Archive

Sunday, November 8, 2015

মিথ্যা জাল অনুচ্ছেদের কবলে জোরে আমীন বলার দলিলটির জবাব


(প্রসঙ্গ ইসলামিক ফা: বুখারী শরীফের ৫০২ নং জাল অনুচ্ছেদকে হাদীস বাননোর চেষ্টা)
প্রিয় পাঠকগণ আমাদের দেশে বেশ কিছু অঙ্গ ভাইয়েরা বলে বেড়ায় নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিরা জোরে আমীন বলবে এবং তাও নাকি বুখারী শরীফের হাদীস আর সেটা হলো ইস:ফা: এর ২য় খন্ডের ৫০২ নং অনুচ্ছেদ যা কখনো হাদীসের সাথে সামঞ্জস্য না কারণ অনুচ্ছেদ কখনো হাদীস হয়না.তবে অনুরুপ একটি রেওয়াত ইবনে মাযাহ বর্ণনা করেছেন আবু হুরাইয়রা (রা:)থেকে হাদীসটি উক্ত বুখারী শরীফের ২য় খন্ডের ৫০২ নং অনুচ্ছেদর সহিত মিল পাওয়া যায় হাদীসটি নিম্নরুপ :-
আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,মানুষ আমীন বলা ছেড়ে দিয়েছে,অতচ রাসূল (:)আমীন বলতেন,এমন কি প্রথম কাতারের লোকেরা শুনতে পেতো,এবং আমীনের আওয়াযে মসজিদ গুঞ্জরিত হতো বা গুম গুম আওয়ায হতো.-ইবনে মাযাহ খন্ড--পৃ:৬২
সম্মানিত উক্ত হাদীসটি সনদ সম্পর্কে তখনকার যুগের ইমামগণ থেকে শুরু করে হাদীসের ইমামগণ বর্তমান যুগের ইমামগণ পর্যন্ত এই হাদীসটি ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পক্ষে ফতোয়া জারী করেছেন.
.এই হাদীসটি সনদ পর্যালোচনা:-
ইলাউস সূনানের লেখক বলতেছেন এটার সনদ মতন দুটোই অসুষ্ঠ আর সনদের অসুষ্ট কারণ এই যে,এই হাদীসটি মধ্যে (বিশর ইবনে রাফে)নামক একজন লোক রয়েছেন যার সম্পর্কে থোদ
.ইমাম বুখারী (:)বলেছেন,হাদীসের ক্ষেত্রে তার অনুগমন করা উচিত নয়.
.ইমাম আহমদ (:)বলেন দুর্বল.
.ইমাম ইবন মাঈন বলেন সে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন.
.ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সবল নন.
.ইবনে হিব্বান বলেন সে মাওযু হাদীস বর্ণনা করে সে এজন্যাই নিয়োজিত-সূত্র-আল মীযান.
এই বিশর ইবনে রাফে নামক ব্যক্তিটির ব্যাপারে এমন কঠিন ফতোয়া জারী করেছেন তা নিম্নরুপ :-
তাহযীবুত তাহযীব কিতাবে ইবন আবদুল বার কৃত এর বরাতে বলা হয়েছে মুহাদ্দিসের মতে সে দুর্বল এবং মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন.আর বলা হয়েছে তার হাদীস মুনকার হওয়ার ব্যপারে এবং তার বর্নিত হাদীস ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ব্যপারে এবং তাকে প্রমানরুপে বর্জনের ব্যাপারে সবাই একমত.সমস্ত উলামায়ে হাদীস বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন না.
সম্মানিত পাঠক আপনাদের সামনে মাযহাবের ইমাম হাদীসের ইমাম এবং বর্তমান ইমামদের সনদ যাচাই তুলে ধরলাম আশাকরি আমার যে ভাইয়েরা বলে আমীন জোরে বলতে হবে তাদের জন্য উক্ত হাদীস বা অনুচ্ছেদটি যে জাল বলে প্রমাণিত হলো তা বলার উপেক্ষা রাখেনা.তাই আমি সকল ভাইদের বলব কোন হাদীস দেখেই ফতোয়া দেওয়া দেখে বিরত রাখি এবং সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার সাহায্য কামনা করি.আমিন-প্রচারে-মোখলেছিয়া সূন্নী খানকা শরীফ

মিলাদুন্নবী (সাঃ) সম্পর্কে মক্কা মদীনার মুফতীগনের ফতোয়াঃ


মিলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ সম্পর্কে মক্কা শরীফ-মদিনা শরীফ-এর মুফতীগণের প্রাচিন ফতোয়ার কালেকশন

মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ খাছ সুন্নত মুবারক. ·

بسم الله الرحمن الرحيمআল্লামা আব্দুর রহীম তুর্কমানী (রহঃ) ১২৮৮ হিজরী সনে মক্কা ও মদিনা এবং জেদ্দাহ ও হাদিদার উলামায়ে কেরামের দ্বারা মিলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে একটি ফতোয়া লিখিয়ে হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং নিজ গ্রন্থ ” রাওয়াতুন নাঈম ” -এর শেষাংশে ছেপে প্রকাশ করেন ।
( আনওয়ারে ছাতেয়া দেখুন )প্রশ্নঃ আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমত আপনার উপর বর্ষিত হোক । নিম্নে বর্নিত বিষয়ে আপনার অভিমত ও ফতোয়া কি ?” মিলাদ শরীফ পাঠ করা – বিশেষ করে নবী করিম সাল্লাল্লাহয় আলাইহে ওয়াসাল্লামের পবিত্র জন্ম বৃত্তান্ত পাঠকালে কিয়াম করে সম্মান প্রদর্শন করা , মিলাদের জন্য দিন তারিখ নিদিষ্ট করা , মিলাদ মজলিস কে সাজানো , আতর গোলাপ ও খুশবু ব্যাভার করা। কুরআন শরীফ হতে সুরা ক্বেরাত পাঠ করা এবং মুসলমানদের জন্য খানাপিনা (তাবারুক) তৈরি করা – এই ভাবে অনুষ্ঠান করা জায়েয কিনা এবং অনুষ্ঠানকারীগন এতো সাওয়াবের অধিকারী হবেন কিনা ? বর্ণনা করে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কৃত হোন ।
– আব্দুর রহীম তুর্কমানী – হিন্দুস্তান ,১২৮৮ হিজরি ।

মক্কা শরীফের ফতোয়াদাতাগনের জবাব ও ফতোয়া ।অনুবাদঃ ” জনে নিন – উপরে বর্নিত নিয়মে (কিয়াম) মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করা মোস্তাহসান ও মুস্তাহাব । আল্লাহ ও সমস্ত মুসলমানের নিকট ইহা উত্তম । ইহার অস্বীকারকারীগন বিদআতপন্থী ও গোমরাহ্‌ । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্নিত হুজুর (দঃ) -এর হাদিস আছে –
” মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন -তা আল্লাহর নিকট ও পছন্দনীয় “।
( মুসলিম )।
এখানে মুসলমান বলতে ঐ সমস্ত মুসলমানকে বুঝায়-যারা কামেল মুসলমান । যেমন পরিপুর্ন আমলকারী উলামা , বিশেষ করে আরবেরদেশ , মিশর , সিরিয়া ,তুরস্ক ও স্পেন-ইত্যাদি দেশের উলামাগন সলফে সালেহীনদের যুগ থেকে অদ্যবধি (১২৮৮ হিঃ)
সকলেই মিলাদ কেয়াম কে মুস্তাহসান, উত্তম ও পছন্দনীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন । সর্বযুগের উলামাগনের স্বীকৃতির কারনে মিলাদও কিয়ামের বিষয় বরহক ।
উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন । ” আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না ” ( আল হাদিস )
সুতরাং যারা মিলাদ ও কিয়াম কে অস্বিকার করবে-শরিয়তের বিচারকের উপর তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব । ( ফতুয়া সমাপ্ত )
মক্কা শরিফের ফতোয়াদাতা মুফতীগনের স্বাক্ষর ও সিলমোহর
১। আল্লামা আব্দুর রহমান সিরাজ ।
২।আল্লামা আহনদ দাহলান ।
৩।আল্লামা হাসান ।
৪। আল্লামা আব্দুর রহমান জামাল ।
৫। আল্লামা হাসান তৈয়ব।
৬।আল্লামা সোলায়মান ঈছা ।
৭। আল্লামা আহমদ দাগেস্তানী ।
৮। আল্লামা আব্ডুল কাদের সামস ।
৯। আল্লামা আব্দুর রহমান আফেন্দী ।
১০। আল্লামা আব্দুল কাদের সানখিনী।
১১। আল্লামা মুহাম্মদ শারকী ।
১২ । আল্লামা আব্দুল কাদের খোকীর ।
১৩। আল্লামা ইবরাহিম আলফিতান।
১৪। আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ ।
১৫। আল্লামা আব্দুল মুত্তালিব ।
১৬। আললামা কামাল আহমেদ ।
১৭। আল্লামা মুহাম্মাদ ছায়ীদ আল-আদাবি ।
১৮। আল্লামা আলি জাওহাদ ।
১৯। আল্লামা সৈয়দ আব্দুল্লাহ কোশাক।
২০। আল্লামা হোসাইন আরব।
২১ । আল্লামা ইব্রাহিম নওমুছি।
২২। আল্লামা আহমদ আমিন।
২৩। আল্লামা শেখ ফারূক ।
২৪। আল্লামা আব্দুর রহমান আযমী ।
২৫। আল্লামা আব্দুল্লাহ মাশশাত ।
২৬। আল্লামা আব্দুল্লাহ কুম্মাশী।
২৮। আল্লামা মুহাম্মদ বা-বাসীল।
২৯। আল্লামা মুহাম্মদ সিয়ুনী।
৩০। আল্লামা মুহাম্মদ সালেহ জাওয়ারী।
৩১। আল্লামা আব্দুল্লাহ জাওয়ারী।
৩২। আল্লামা মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ ।
৩৩। আল্লামা আহমদ আল মিনহিরাভী ।
৩৪ । আল্লামা সোলাইমান উকবা ।
৩৫। আল্লামা সৈয়দ শাত্বী ওমর ।
৩৬। আল্লামা আব্দুল হামিদ দাগেস্তানী ।
৩৭। আল্লামা মুস্তফা আফীফী ।
৩৮। আল্লামা মানসুর।
৩৯ । আল্লামা মিনশাবী ।
৪০। আল্লামা মুহাম্মদ রাযী ।
'(১২৮৮ হিজরী) 

Saturday, November 7, 2015

অহংকার ও গর্ব করার ভয়াবহ পরিনামঃ (পর্ব ২)




গর্ব ও অহংকার একমাত্র আল্লাহর জন্য


  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই গৌরব আমার পোশাক এবং অহংকার আমার চাদর। এতএব, যে তা নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি শাস্তি দেব।”

তিবরানী এ হাদীসটি হযরত আলী (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।


  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ বলেন, “শ্রেষ্ঠত্ব, গর্ব ও অহংকার আমারই। আর মত আমার গোপনীয় বিষয়। এতএব, যে লোক এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করে, আমি তাকে জাহান্নামে ছুড়ে মারব।”

হাকেম ও তিরমিযী এ হাদীসটি হযরত আনাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।


  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “অহংকার আমার চাদর এবং শ্রেষ্ঠত্ব আমার পোষাক। অনন্তর যে এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি জাহান্নামে ছুড়ে মারব।”

আহমদ এ হাদীসটি হযরত আবূ হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।


  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যখন চুল ঝুলিয়ে দেয়া হয় ও অহংঙ্কারের সাথে চলাচল করে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, “আমি আমার সত্ত্বার কসম করে বলছি, আমি তাদের কতককে দিয়ে অপর কতকের প্রতি অকল্যাণ প্রেরণ করব।”

খারায়েতী এ হাদীসটি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।


  • পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে।’ (সূরা আ’রাফ-১৪৬)
  • তাফসিরে রূহুল-বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে, অহংকার এমন এক মন্দ অভ্যাস যা ঐশী জ্ঞান লাভের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, আল্লাহর জ্ঞান লাভ হতে পারে একমাত্র আল্লাহরই রহমতে। আর আল্লাহর রহমত হয় একমাত্র বিনম্রতার মাধ্যমে। (তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন-৪/৬৭)
  • অন্যত্র আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি ভূপষ্ঠকে কখনোই বিদীর্ণ করতে পারবে না।’ (সূরা বনী ইসরাঈল-৩৭)

অর্থাৎ, এমন ভঙ্গিতে চলো না, যদ্দারা অহংকার ও দম্ভ প্রকাশ পায়। কেননা এটি অনর্থক কাজ।


  • অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পাক অহংকারকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা নাহল-২৩)
  • কালামে পাকের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘এমনিভাবে আল্লাহ পাক প্রত্যেক অহংকার-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেন।’ (সূরা মুমিন-৩৫)
  • সূরা মুমিনের অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সূরা মুমিন-৬০)
  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে শস্যদানা পরিমাণ ঈমান থাকবে এবং এমন কোনো ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে শস্যদানা পরিমাণ অহংকার থাকবে।’ (মুসলিম শরীফ-১/৬৫)
  • রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহ পাক বলেন, অহংকার আমার চাদর এবং শ্রেষ্ঠত্ব আমার ইযার। সুতরাং যে ব্যক্তি এদু’টির কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে বিরোধিতা করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।’ (ইবনে মাজাহ -২/৩০৮)
  • অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ পাক তিন প্রকার ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি (দয়ার) দৃষ্টিপাতও করবেন না এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। তারা হলেন, এক. বৃদ্ধ ব্যভিচারী দুই. মিথ্যাবাদী শাসক তিন. অহংকারী ভিক্ষুক। (মুসলিম শরীফ-১/৭১)
  • অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, আমি কী তোমাদেরকে জান্নাতবাসী সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা হলেন, দুর্বল লোক তাদেরকে লোকেরাও দুর্বল ও হেয় মনে করে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তারা এতো সম্মানিত যে, তারা যদি আল্লাহর নামে কসম করে, অবশ্যই আল্লাহ পাক তা সত্যে রূপান্তরিত করেন। তিনি আরো বলেছেন, আমি কী তোমাদেরকে জাহান্নাম সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা হলেন, অনর্থক বিবাদকারী, বদমেজাজী ও অহংকারী। (বুখারি শরীফ-২/৮৯৭)
  • অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহ পাক ওহির মাধ্যমে আমার কাছে নির্দেশ প্রেরণ করেছেন যে, নম্রতা এবং হেয়তা অবলম্বন করো। অহংকার ও গর্ব করা থেকে বিরত থাকো।’ কেননা এগুলো আল্লাহ পাকের কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও নিকৃষ্ট।(ইবনে মাজাহ-২/৩০৮)

এছাড়া কিয়ামতের দিনে অহংকারীদেরকে ভয়াবহ শাস্তি প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে হাদিস শরীফে কঠোর হুঁশিয়ার বাণী উচ্চারিত হয়েছে। 

  • রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে পিপীলিকার ন্যায় একত্রিত করা হবে এবং তাদের আকৃতি হবে পুরুষের মতো। অপমান-লাঞ্ছনা তাদেরকে বেষ্টন করে নিবে, তারপর তাদেরকে ‘বাওলাস’ নামক জাহান্নামের দিকে তাদেরকে হেঁকে নেয়া হবে। আগুনের অগ্নিশিখা তাদের ওপর ছায়া হবে এবং তাদেরকে পান করানো হবে জাহান্নামীদের দেহ নিংড়ানো ‘ত্বীনাতুল খাবাল’ নামক পুঁজ-রক্ত।’ (তিরমিজি শরীফ-২/৭৬)
  • হযরত ওমর রা. এর কণ্ঠে, তিনি বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা বিনয়ী হও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, যে আল্লাহর জন্যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। সে নিজের কাছে তুচ্ছ এবং মানুষের দৃষ্টিতে সম্মানি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অহংকার করে আল্লাহ পাক তাকে হেয় করে দেন। সে মানুষের দৃষ্টিতে অসম্মানি ব্যক্তিতে পরিণত হয় এবং নিজেকে অনেক বড় মনে করে। পরিশেষে সে মানুষের কাছে কুকুর অথবা শুকরের চেয়েও ঘৃণিত ও তুচ্ছে পরিণত হয়।’(শু‘য়াবুল ঈমান- ৬/২৭৬)


অহংকার ও গর্ব করার ভয়াবহ পরিনামঃ (পর্ব ১)



অহংকার বা কিবিরের সংজ্ঞা

কিবিরের আভিধানিক অর্থ:

আল্লামা ইবনে ফারেছ রহ. বলেন, কিবির অর্থ: বড়ত্ব, বড়াই, অহংকার ইত্যাদি। অনুরূপভাবে الكبرياء অর্থও বড়ত্ব, বড়াই, অহংকার। প্রবাদে আছে:

ورثوا المجد كابرًا عن كابر.

অর্থাৎ, ইজ্জত সম্মানের দিক দিয়ে যিনি বড়, তিনি তার মত সম্মানীদের থেকে সম্মানের উত্তরসূরি বা উত্তরাধিকারী হন।
আর আল্লামা ইবনু মানযূর উল্লেখ করেন, الكِبْر শব্দটিতে কাফটি যের বিশিষ্ট। এর অর্থ হল, বড়ত্ব, অহংকার ও দাম্ভিক।
আবার কেউ কেউ বলেন, তাকাব্বারা শব্দটি কিবির হতে নির্গত। আর تَكابَر من السن শব্দটি দ্বারা বার্ধক্য বুঝায়। আর তাকাব্বুর ও ইস্তেকবার শব্দটির অর্থ হল, বড়ত্ব, দাম্ভিক ও অহমিকা।

________________________
 লিসানুল আরব ১২৫/৫০


ইসলামী পরিভাষায় কিবিরের সংজ্ঞা:


রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নিজেই স্বীয় হাদিসে কিবিরের সংজ্ঞা বর্ণনা করেন।

عن عبد الله بن مسعود، عن النبي صلى الله عليه و سلم  قال: «لا يْدخُلُ الجَنةََّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبهِِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كبِرٍ قَالَ رَجُلٌ: إِنَّ الرَّجُلَ يُحبُِّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حسَنًا، وَنْعُلُه حَسَنَةً. قَالَ: إِنَّ الله جَميِلٌ يُحبُ الجَمَالَ، الْكبِر بَطَرُ الحَقِّ، وَغَمْطُ الناَّسِ»

অর্থ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ অহংকার থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ কথা বললে, এক লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, কোন কোন লোক এমন আছে, সে সুন্দর কাপড় পরিধান করতে পছন্দ করে, সুন্দর জুতা পরিধান করতে পছন্দ করে, এসবকে কি অহংকার বলা হবে? উত্তরে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহর তা‘আলা নিজেই সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। [সুন্দুর কাপড় পরিধান করা অহংকার নয়] অহংকার হল, সত্যকে গোপন করা এবং মানুষকে নিকৃষ্ট বলে জানা।
★  মুসলিম ৯১


عن سهل بن سعد الساعدي قال: «مَرَّ رجل على رسول الله صلى الله عليه و سلم  فقال مَا تَقُولُونَ فِي هَذَا قالوا حِرٌّي إن خطب أَنْ ينكح  وَإن شفع أن يُشَفَّعَ، وإن قال أَنْ يْسَتَمعَ، قال ثم سكت، فَمَرّ رجل من فقراء المسلمين، فقال مَاتَقُولُونَ فِي هَذَا قالواحِرٌّي إنْ خطب أن لا ينكح و َإِنْ شفع أَنْ لَا يُشَفَّعَ، وإن قال أَنْ لَا يْسَتَمعَ، فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم  هَذَا خَيٌر مِنْ مِلِْء الْأرَْضِ مِثْلَ هَذَا»

অর্থ, সাহাল ইবনে সা’দ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করে যাচ্ছিল, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সমবেত লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ লোকটি সম্পর্কে কি বল, তারা উত্তরে বলল, লোকটি যদি কাউকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার ডাকে সাড়া দেয়া হয়, যদি কারো বিষয়ে সুপারিশ করে, তাহলে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয়, আর যদি কোন কথা বলে, তার কথা শোনা হয়। তাদের কথা শোনে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] চুপ করে থাকেন। একটু পর অপর একজন দরিদ্র মুসলিম রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করে যাচ্ছিল, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে দেখে সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করে বলেন, তোমরা এ লোকটি সম্পর্কে মতামত দাও! তারা বলল, যদি সে প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়া হয় না, আর যদি সে কারো বিষয়ে সুপারিশ করে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না,  আর যদি সে কোন কথা বলে তার কথায় কান দেয়া হয় না। তখন রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, এ লোকটি যমিন ভরপুর যত কিছু আছে, তার সব কিছু হতে উত্তম।
★ বুখারি ৫০৯১


খালেদ ইবনে মেদান রহ. বর্ণনা করেন, আমর ইবনে আসওয়াদ আল-আনাসি যখন মসজিদ থেকে বের হতেন, তখন তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাতকে চেপে ধরতেন। তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, আমি আশংকা করি, আমার হাত আমার সাথে বেঈমানি করবে!।
★ সীয়ারু আলামীন নুবালা ৮০/৪

আল্লামা হাফেয যাহবী রহ. বলেন, তিনি হাঁটার সময় হাত নড়াচড়া করা ও দোলানোর আশংকায় হাত-দ্বয় জোড়া করে রাখতেন। কারণ, হাত দোলানো অহংকারের অন্তর্ভুক্ত।
আলী ইবনে হুছাইন রা. যখন হাঁটতেন, তার হাত-দ্বয় তার উরু অতিক্রম করত না এবং সে হাত নড়াচড়া করত না।
★ সীয়ারু আলামীন নুবালা ৩৯৬/৪ তারিখে দেমেশক ৪১৭/৪৫

আল্লামা মুজাহিদ বলেন, অহংকারী ও লজ্জিত লোক কখনোই জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।
reference :
★ বুখারি সংক্ষিপ্ত সনদে কথাটি বর্ণনা করেন। পরিচ্ছেদ: ইলম অর্জনে লজ্ঝা, আর আবু নয়াই হুলিয়াতে ২৮৭/৩ বর্ণনা করেন, আল্লামা ইবনে হাজর ফতহুল বারীতে [২২৯/১] বলেন, মুজাহিদের এ কথাটি আলী ইবনে আল মাদীনের সনদে আবু নুয়াইমের নিকট পোছে। তিনি ইবনে উয়াইনা থেকে আর তিনি মানছুর থেকে 
বর্ণনা করেন। মুসান্নিফের শর্তানুযায়ী সনদটি বিশুদ্ধ।

অহংকার জমি ধ্বস ও কবর আযাবের কারণ হয়।
রাসূল সা. হাদিসে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। যেমন- 

عن أبي هريرة قال: «قال النبي صلى الله عليه و سلم  بَيْنَمَا رَجُلٌ مِمنّْ كَانَ قَبْلكُمْ يمْشِي فِي حُلَّةٍ تُعْجُبهُ نَفْسُهُ، مُرَجِّلٌ جُّمتَهُ، إذِْ خَسَفَ الله بهِِ الْأرَض فَهُو يَتَجْلَجُل فيِهَا إلِى يَوِْم الْقِيَاَمِة»
অর্থ, আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, তোমাদের পূর্বের যুগের এক লোক একটি কাপড় ও লুঙ্গি পরিধান করে ও তার চুল গুলো তার কাঁধের উপর ঝুলিয়ে অহংকার করে হাঁটছিল। কাপড়দ্বয় লোকটিকে অহংকারের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা লোকটিকে যমিনের অভ্যন্তরে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত পুঁততে থাকবে। আর সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এ দিক সেদিক নড়াচড়া করতে থাকবে।
Reference :
★ বুখারী ৫৭৮৯ মুসলিম ২০৮৮

আল্লামা ফিরোজ আবাদি রহ. বলেন, স্থান ধ্বসে যাওয়া অর্থ হল, সে ভু-গর্বে চলে গেল। আর আল্লাহ অমুককে যমিনে ধ্বসে দিল, অর্থাৎ, তাকে যমিনে গায়েব করে ফেলল।
আল্লামা ইবনে হাজার রহ. বলেন, يمشي في حلة এর অর্থ হল, একটি চাদর ও লুঙ্গি পরিধান করে হাঁটছিল। আর মুসলিম শরিফে আবু হুরাইরা রা. হতে হাদিসটি এ শব্দে বর্ণিত-

«بَيْنمَا رجُل يتَبخْتَر فِي بُرْدَيْهِ»
مرجل جمته
এ কথাটির অর্থ, চুলগুলোকে একত্র করে মাথা থেকে নিয়ে কাঁধ পর্যন্ত অথবা তার চেয়ে আরও বেশি ঝুলিয়ে দেয়া। الشعر ترجيل “তারজীলুশ শার” কথাটির অর্থ, মাথা আঁচড়ানো ও মাথায় তেল লাগানো।
]إذْ خَسَفَ الله بهِِ الْأرَْض فَهَو يتَجَلْجَل فيِهَا إلَى يَوْم الْقِيَامَة[
:التجلجل  التحرك
তাজালজুল শব্দের অর্থ হল, নড়াচড়া করা। আবার কেউ কেউ বলেন, আওয়াযের সাথে নড়াচড়া করা। আর আল্লামা ইবনে ফারেস রহ. বলেন, التجلجل শব্দের অর্থ, কঠিন ভু-কম্পনসহ যমিনে ধ্বসে যাওয়া এবং এদিক সেদিক নড়বড় করা। সুতরাং,  يتجلجل في الأرض শব্দের অর্থ হল, যমিনে নামতে থাকবে কঠিন কম্পন ও হরকত সহ। আর হাদিসের অর্থ হল, যমিন এ লোকটির দেহকে ভক্ষণ করবে না ফলে তাকে ধ্বংস করা সহজ হবে। আর বলা হবে সে এমন এক কাফের যার দেহ মৃত্যুর পর নি:শেষ হবে না।
 ★ ফাতহুল বারী ২৬১/১০

• পরকালের জীবনে অহংকারের শাস্তি:

এক. অহংকারী ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকদের সাথে ধ্বংস হবে।

عن فضالة بن عبيد قال: «قال النبي صلى الله عليه و سلم ثلاَثةٌ لا تَسْألَ عَنْهُمْ: رَجٌل يُناَزِعُ الله فِي كبِريَاءِهِ، فَإنَ رِدَاءَُه الْكبِريَاءُ، وَإزارهُ الِعَّزُة، وَرُجلٌ يَشُك فِي أَمْرِ الله، وَالْقَنُوطُ مِنْ رَحَمةِ الله »

অর্থ, ফুযালা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, তিন ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে তোমরা আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবে না। এক-যে ব্যক্তি আল্লাহ বড়ত্ব নিয়ে আল্লাহর সাথে ঝগড়া করে। কারণ, বড়ত্ব হল আল্লাহর চাদর আর তার পরিধেয় হল ইজ্জত। দুই- যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে। তিন. যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়।
★ ইবনে হাব্বান ৪৫৫৯

দুই. অহংকারীরা কিয়ামত দিবসে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ও অবস্থানের দিক দিয়ে\ অনেক দুরে হবে।

عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: «إنَِّ مْن أََحبِّكُمْ إلِيَّ وَأَقْرَبِكْم مِنِّي مَجْلسًا يَوَْم الْقِيَاَمِة أَحَاسِنكُمْ أَخْلَاقًا، وَإِنَّ أَبْغَضُكمْ إلَّي وَأَبعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلسًا يَوَْم الْقِيَاَمِة الَّثْرثارونَ وَالَمُتَشِّدقُونَ وَالمُتَفَيْهِقُونَ. قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، قَدْ عَلمِناَ الَّثْرَثاُرونَ وَالَمُتَشِّدقُونَ، فَمَا المُتَفَيْهِقُونَ؟ قَالَ: المُتَكَبِّرُونَ»

অর্থ, জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, কিয়ামত দিবসে তোমাদের মধ্যে যে আমার খুব প্রিয় ও মজলিশের দিক দিয়ে আমার একেবারে নিকটে অবস্থান করবে, সে হল তোমাদের মধ্যে যারা আখলাক ও চরিত্রে উত্তম। আর তোমাদের মধ্যে যে সর্বাধিক ঘৃণিত এবং মজলিশের দিক দিয়ে আমার অনেক দুরে অবস্থান করবে, সে হল, যে অতিরিক্ত ও দীর্ঘ কথা বলে এবং মানুষের নিকট মুখ ভরে কথা বলে। সাহাবারা বললেন, যারা অতিরিক্ত ও দীর্ঘ কথা বলে, তাদের আমরা জানলাম, কিন্তু যারা মানুষের নিকট মুখ ভরে কথা বলে, তারা কারা? তিনি বললেন, অহংকারীরা।
★  তিরমিযি ২০১৮

তিন. অহংকারীরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা তার উপর ক্ষুব্ধ:

عن ابن عمر قال: «سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم    يقول :مَن تَعَّظمَ فِي نَفْسِهِ أَوْ اخْتَالَ فِي مِشْيَتهِِ لِقيَ الله وَهُوَ علَيْهِ غَضْبَانُ»

অর্থ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মনে মনে নিজেকে বড় মনে করে এবং হাঁটার সময় অহংকার করে, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে যে অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা তার উপর রাগান্বিত।
★ আহমদ: ৫৯৫৯

চার. অহংকারীদের আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন অত্যন্ত অপমান অপদস্ত করে একত্র করবে:

عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : « يُحْشَرُ المُتَكَبِّرُوَن يَوَْم الْقِيَاَمِة أَمْثاَل الَّذرِّ فِي  صَوِر الِّرجَالِ، يَغْشَاهُمْ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ، فَيُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ في جَهَنمََّ يسَمَّى بُولَس، تَعلُوُهْم نَارُ الْأنيَاِر يُسَقوَْن مِنْ عُصَاَرةِ أهْلِ النَّارِ طيِنةََ الَخبَالِ»

অর্থ, আমর ইবনে শোয়াইব হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, অহংকারীদের কিয়ামতের দিন বড় মানুষের আকৃতিতে ছোট ছোট পিপড়ার মত করে একত্র করা হবে। অপমান অপদস্থ সব দিক থেকে তাকে গ্রাস করে ফেলবে। তারপর তাকে জাহান্নামের মধ্যে একটি জেলখানা যার নাম ‘বুলাস’, তার দিকে টেনে হেঁচড়ে নেয়া হবে। তাদেরকে জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন চতুর্দিক থেকে গ্রাস করে ফেলবে। আর তাদেরকে জাহান্নামীদের পিত্ত, পুঁজ ও বমি থেকে তাদের পানীয় দেয়া হবে।
★ তিরমিযি ২৪৯২ তিনি বলেন হাদীসটি হাসান।

পাঁচ. অহংকার জান্নাতে প্রবেশের প্রতিবন্ধক:

عن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه و سلم قال: « لا يْدخُلُ الجَنةََّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبهِِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كبْرٍ قال رجل: إن الرجل  : يحب أن يكون ثوبه حسنا ونعله حسنة. قال إن الله جَميِلٌ يُحبُ الجْمَالَ، الِكْبر بَطُر اْلحقَِّ، وَغمط الناَّسِ»

অর্থ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ অহংকার থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ কথা বললে, এক লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, কোন কোন লোক এমন আছে, সে সুন্দর কাপড় পরিধান করতে পছন্দ করে, সুন্দর জুতা পরিধান করতে পছন্দ করে, এসবকে কি অহংকার বলা হবে? রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহর তা‘আলা নিজেই সুন্দর তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। অহংকার হল, সত্যকে গোপন করা এবং মানুষকে নিকৃষ্ট বলে জানা।
★ মুসলিম ৯১

ছয়. অহংকারীদের জন্য জাহান্নামের ওয়াদা দেয়া আছে:

عن حارثة بن وهب الخزاعي قال:  «سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول ألَا أُخْبِركُمْ بأَهْلِ الجَنَّةِ، كُلُّ ضِعيفٍ مَتضِّعفٍ لَوْ أَْقسَمَ عَلَى الله لَأبَّرُه، أَلَا أُخْبِركُمْ بأَهْلِ النَّارِ، كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِر »

অর্থ, হারেসা ইবনে ওহাব আল খাজায়ী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি, আমি তোমাদের থেকে কারা জান্নাতি তাদের বিষয়ে খবর দিব কি? তারা হল সব দুর্বল ও অসহায় লোকেরা তারা যদি আল্লাহর শপথ করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের দায় মুক্ত করে। তারপর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, আমি কি তোমাদের কারা জাহান্নামে যাবে তাদের বিষয়ে খবর দিব? তারা হল, সব অহংকারী, দাম্ভিক ও হঠকারী লোকেরা।
★ বুখারি ৪৯১৮, মুসলিম ২৮৫৩


অপর হাদিসে আছেঃ-

عن أبي هريرة قال:  «قال رسول الله صلى الله عليه و سلم  اْحَتجّْت النَّارُ وَالجَنَّةُ فَقَالَتْ الناَّرُ: يْدخُلُنِي الجَبَّارُونَ وَالمُتَكَبِّرُونَ وَقَالَتْ الجَنَّةُ: مَا لِي لَا يْدخُلُنيِ إلا ضعَفَاءُ الناَّسِ وَسَقَطُهُمْ؟ فَقَالَ الله عزَّ وَجَلَّ للِناَّرِ أَنْتِ عَذَابِي أَُعذِّب بكِِ مَنْ أَشَاءُ وَرَُّبمَا قَالَ أُصِيبُ بكِِ مَنْ أَشَاءُ وَقَالَ للِجَنةَِّ: أَنْتِ رَحَمتيِ أَرْحُم بكِِ مَنْ أَشَاءُ وَلكُلِّ وَاحِدٍة مِنْكُمَا مِلْؤُهَا»

অর্থ, আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে বিতর্ক করে, জাহান্নাম বলে, আমার নিকট বড় বড় দাম্ভিক ও অহংকারীরা প্রবেশ করবে আর জান্নাত আল্লাহকে বলে, কি ব্যাপার আমার ভিতর শুধু দুর্বল ও বিতাড়িত লোকেরা প্রবেশ করে। তখন আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামকে বলে, তুমি হলে আমার আযাব। আমি তোমার মাধ্যমে যাকে চাই তাকে আযাব দিব। অথবা আল্লাহ বলেন, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে চাই তাকে পাকড়াও করবো আর জান্নাতকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি আমার রহমত আমি তোমার দ্বারা যাকে চাই তাকে রহম করব। আর তোমাদের উভয়ের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে যথাযোগ্য অধিবাসী।
★  বুখারি: ৪৮৫০ মুসলিম: ২৮৪৬

আল্লামা ইবনে হাজার রহ. বলেন, হাদিসে দুটি শব্দ অর্থাৎ, المُتَكِّبِرينَ ও المتَجِّبرينَ উল্লেখ করা হয়, কেউ কেউ বলেন, শব্দ দুটির অর্থ একই। আবার কেউ কেউ বলেন, না, দুটি শব্দের অর্থ দুটি المُتَكِّبِرينَ শব্দের অর্থ হল ঐ সব অহংকারী যারা তাদের মধ্যে নাই এমন কিছু নিয়ে অহংকার করে। আর المتَجِّبرينَ শব্দের অর্থ, তার নিকট যা আছে তা নিয়ে বড়াই করা।

সাত. অহংকারীদের অপমান অপদস্ত করে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتۡ أَبۡوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَآ أَلَمۡ يَأۡتِكُمۡ رُسُلٞ مِّنكُمۡ يَتۡلُونَ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِ رَبِّكُمۡ وَيُنذِرُونَكُمۡ لِقَآءَ يَوۡمِكُمۡ هَٰذَاۚ قَالُواْ بَلَىٰ وَلَٰكِنۡ حَقَّتۡ كَلِمَةُ ٱلۡعَذَابِ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ ٧١ قِيلَ ٱدۡخُلُوٓاْ أَبۡوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَاۖ فَبِئۡسَ مَثۡوَى ٱلۡمُتَكَبِّرِينَ ٧٢﴾ ]الزمر: 71,72[

অর্থ, আর কাফিরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে এসে পৌঁছবে তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে কি রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করত এবং এ দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করত’? তারা বলবে, ‘অবশ্যই এসেছিল’; কিন্তু কাফিরদের উপর আযাবের বাণী সত্যে পরিণত হল। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর চিরকাল তোমরা সেখানে অবস্থান করবে। অহংকারীদের বাসস্থান কতই না মন্দ।[সূরা যুমার, আয়াত: ৭১,৭২]


আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِي سَيَدۡخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ﴾ ]غافر: 60[

অর্থ, আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ [সূরা গাফের, আয়াত: ৬০]

عن أبي هريرة قال: «قال رسول الله صلى الله عليه و سلم  قَالَ الله عَّز وَجَلَّ: الْكبْريَاءُ رِدَائيِ، وَالَعظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنيِ وَاِحًدا مِنهُمَا قَذَفْتُهُ فِي الناَّرِ»

অর্থ, আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অহংকার হল আমার চাদর আর বড়ত্ব হল আমার পরিধেয়। যে ব্যক্তি আমার এ দুটির যে কোন একটি নিয়ে টানাটানি করবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।
★ আবুদাউদ:৪০৯০, আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেন।