Blog Archive

Showing posts with label নারীদের সম্পর্কে. Show all posts
Showing posts with label নারীদের সম্পর্কে. Show all posts

Saturday, June 6, 2015

অন্ধকার যুগের অভিশাপ থেকে নারীদের মুক্ত করেছে ইসলাম :-



★ সহীহ বুখারী শরীফে আম্মাজান হযরত আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

أن النكاح في الجاهلية كان على أربعة أنحاء فنكاح منها نكاح الناس اليوم يخطب الرجل إلى الرجل وليته أو ابنته فيصدقها ثم ينكحها ونكاح آخر كان الرجل يقول لامرأته إذا طهرت من طمثها أرسلي إلى فلان فاستبضعي منه ويعتزلها زوجها ولا يمسها أبدا حتى يتبين حملها من ذلك الرجل الذي تستبضع منه فإذا تبين حملها أصابها زوجها إذا أحب وإنما يفعل ذلك رغبة في نجابة الولد فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع ونكاح آخر يجتمع الرهط ما دون العشرة فيدخلون على المرأة كلهم يصيبها فإذا حملت ووضعت ومر عليها ليال بعد أن تضع حملها أرسلت إليهم فلم يستطع رجل منهم أن يمتنع حتى يجتمعوا عندها تقول لهم قد عرفتم الذي كان من أمركم وقد ولدت فهو ابنك يا فلان تسمي من أحبت باسمه فيلحق به ولدها لا يستطيع أن يمتنع به الرجل ونكاح الرابع يجتمع الناس الكثير فيدخلون على المرأة لا تمتنع ممن جاءها وهن البغايا كن ينصبن على أبوابهن رايات تكون علما فمن أرادهن دخل عليهن فإذا حملت إحداهن ووضعت حملها جمعوا لها ودعوا لهم القافة ثم ألحقوا ولدها بالذي يرون فالتاط به ودعي ابنه لا يمتنع من ذلك فلما بعث محمد صلى اللهم عليه وسلم بالحق هدم نكاح الجاهلية كله إلا نكاح الناس اليوم ( البخاري)

জাহিলিয়্যাতের যুগে বিবাহ ছিল চার ধরনের৷ (১) একটি বিবাহ ছিল বর্তমান যুগের বিবাহের মত৷ বিবাহের পয়গাম দিয়ে মোহর ধার্য্য করে পুরুষ মহিলাকে বিবাহ করত (২) স্বামী তার স্ত্রীকে বলে দিত হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর অমুক (বড়লোক) পুরুষের সাথে শয়ন করবে, এরপর গর্ভ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রীকে স্পর্শ করতনা৷ গর্ভ নিশ্চিত হওয়ার পর ইচ্চা করলে স্বামী স্ত্রী সহবাস করত৷ ভাল সন্তান লাভের আশায় এটা করা হত৷ এই বিবাহকে “নিকাহুল ইসতিবদ্বা” বলা হত৷ (৩) অনুন্য দশজন একজন মহিলাকে ভোগ করত, গর্ভ ধারণ করলে সন্তান প্রসব করার পর ঐ নারী ওদের সবাইকে ডেকে পাঠাত, সামাজিকভাবে হাজির হতে এবং মানতে বাধ্য বিধায় ওরা সবাই হাজির হলে মহিলা তার পছন্দমত একজনের নাম ধরে বলত হে অমুক এটা তোমার সন্তান৷ (৪) চতুর্থ প্রকার বিবাহ ছিল, ব্যভিচারিনী মহিলাগণ তাদের ঘরের দরজায় বিশেষ ধরনের সাইন লাগিয়ে রাখত, যার ইচ্ছা সঙ্গ নিতে কোন বাধা ছিলনা৷ মহিলা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের পর সংশ্লিষ্ট সবাই হাজির হত এবং সাদৃশ্য দেখে সন্তানের পিতা নির্ধারণ করা হত৷ অতঃপর সত্য দ্বীন নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলে পরে তিনি জাহিলিয়্যাতের সমস্ত বিবাহ প্রথা মূলোত্‎পাটন করে আজকের বিবাহ প্রথাকে স্বীকৃতি দেন৷ (বুখারী শরীফঃ কিতাবুন নিকাহ ৪৭৩২, আবূদাঊদঃ কিতাবুত্তালাক্ব ১৯৩৪)


★ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র ক্বুরআন শরীফে এরশাদ করেছেনঃ

وإذا بشر أحدهم بالأنثى ظل وجهه مسودا وهو كظيم ، يتوارى من القوم من سوء ما بشر به ، أيمسكه على هون أم يدسه في التراب ، ألا ساء ما يحكمون

“আর যখন তাদের কাউকে সুসংবাদ দেয়া হয় মেয়ে সন্তানের তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে, আর সে হয় বড়ই ব্যথিত৷ সে লোকদের থেকে নিজেকে লুকোয় তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে তার গ্লানির জন্য, সে কি একে রাখবে হীনতা / বেইজ্জতী স্বত্তেও, না তাকে মাটিতে পুতে ফেলবে? তাদের ফায়সালা কতইনা নিকৃষ্ট৷” (সূরা নহলঃ ৫৮-৫৯)


                             জীবন্ত কবরঃ


★ প্রাক ইসলামিক যুগে বেইজ্জতীর ভয়ে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হত৷ পবিত্র ক্বুরআনে করীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেনঃ

وإذا الموءودة سئلت ، بأي ذنب قتلت – التكوير

“আর যখন জীবন্তপ্রোথিত কন্যাসন্তানকে প্রশ্ন করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল” (সুরা তাকওয়ীর ৮-৯)

★ সুনান দারিমীতে বর্ণিতঃ

عن مسرة بن معبد من بني الحارث بن أبي الحرام من لخم عن الوضين أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إنا كنا أهل جاهلية وعبادة أوثان فكنا نقتل الأولاد وكانت عندي ابنة لي فلما أجابت وكانت مسرورة بدعائي إذا دعوتها فدعوتها يوما فاتبعتني فمررت حتى أتيت بئرا من أهلي غير بعيد فأخذت بيدها فرديت بها في البئر وكان آخر عهدي بها أن تقول يا أبتاه يا أبتاه فبكى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى وكف دمع عينيه فقال له رجل من جلساء رسول الله صلى الله عليه وسلم أحزنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له كف فإنه يسأل عما أهمه ثم قال له أعد علي حديثك فأعاده فبكى حتى وكف الدمع من عينيه على لحيته ثم قال له إن الله قد وضع عن الجاهلية ما عملوا فاستأنف عملك (الدارمي 2

এক ব্যক্তি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে এসে আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা ছিলাম জাহিলিয়াতের যুগের মানুষ৷ আমরা মুর্তি পুজা করতাম আর হত্যা করতাম আমাদের সন্তানদেরকে৷ আমার একটি কন্যাসন্তান ছিল৷ সে যখন কথা বলতে শুরু করল, আমি ডাকলে সে খুব খুশী হত, একদিন আমি তাকে ডাকলাম, সে আমাকে অনুসরন করল৷ তাকে নিয়ে অনতি দূরে আমার পারিবারিক একটি কুপের কিনারে পৌঁছলাম৷ আমি তার হাতে ধরলাম এবং তাকে কুয়ায় ফেলে দিলাম৷ সর্বশেষ যে কথাটি সে আমার উদ্দেশ্যে বলেছিল তা ছিল “ও বাবাগো, ও বাবাগো”৷ এতদশ্রবনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব কাঁদলেন৷ অবস্থা দেখে উপস্থিত একব্যক্তি লোকটিকে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিয়েছ৷ হুজুর তখন তাকে বললেন থামো, এই লোকটি এমন একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করতে এসেছে যা তাকে শোকাভিভুত করেছে৷ অতঃপর হুজুর পুণরায় আগন্ত্তক লোকটিকে বললেন ঘটনাটি আবার বর্ণনা কর৷ লোকটি পূণরায় ঘটনাটি বর্ণনা করলে হুজুর খুব কাঁদলেন এবং এরশাদ করলেনঃ আল্লাহ জাহিলিয়াতের সমস্ত কিছু ক্ষমা করে দিয়েছেন, নতুন করে আমল শুরু কর৷ (দারিমী ২)



★:শুধু তাই নয়, কন্যাসন্তান জীবন্ত কবর দেয়াকে পূণ্যের কাজ মনে করা হত৷ যেমন ইমাম আহমদ (রাহঃ) বর্ণনা করেছেনঃ

عن سلمة بن يزيد الجعفي قال انطلقت أنا وأخي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قلنا يا رسول الله إن أمنا مليكة كانت تصل الرحم وتقري الضيف وتفعل وتفعل هلكت في الجاهلية فهل ذلك نافعها شيئا قال لا قال قلنا فإنها كانت وأدت أختا لنا في الجاهلية فهل ذلك نافعها شيئا قال الوائدة والموءودة في النار إلا أن تدرك الوائدة الإسلام فيعفو الله عنها ( أحمد 15358)

হযরত সালামাহ ইবনে ইয়াযীদ আলজু’ফী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং আমার ভাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে হাজির হয়ে বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মা মুলাইকা আত্মীয়তা বজায় রাখতেন, মেহমানের কদর করতেন, ইত্যাদী ইত্যাদী ভাল আমল তাঁর ছিল, তিনি জাহিলিয়াতের যুগে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর ঐ ভাল আমলগুলী কি কাজে আসবে? হুজুর বললেন না৷ আমরা বললাম তিনি জাহিলিয়াতের যুগে আমাদের এক বোনকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলেন, এই কাজটা কি তাঁর কোন উপকারে আসবে? হুজুর বললেন তারা উভয় জাহান্নামী তবে যদি সে ইসলাম কবুল করে আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন৷ (মুসনাদ ইমাম আহমদ ১৫৩৫৮)

★ হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

عن عمر بن الخطاب في قوله تعالى ” وإذا الموءودة سئلت ” قال جاء قيس بن عاصم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني وأدت بنات ( في رواية ثمان / وفي رواية اثنتي عشرة / وفي رواية ثلاث عشرة) لي في الجاهلية قال : أعتق عن كل واحدة منهن رقبة ، قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم إني صاحب إبل ، قال : فانحر عن كل واحدة منهن بدنة ( ابن كثير 4/510)

ক্বায়স ইবনে আছিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জাহিলিয়্যাতে আমার কয়েকটি (একটি বর্ণনায় ৮, অন্য বর্ণনায় ১২, আরেকটি বর্ণনায় ১৩) কন্যাসন্তান জীবন্ত কবর দিয়েছি৷ হুজুর বললেন জনপ্রতি একজন গোলাম আজাদ করে দাও৷ ক্বায়স বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার উট আছে৷ হুজুর বললেন জনপ্রতি একটি উট আজাদ কের দাও৷ (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪/৫১০)


★ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ

” يأيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة ” ( النساء 1)

” হে মানবজাতি! ভয় করো তোমাদের প্রতিপালককে, যিনি তোমাদেরকে একটিমাত্র আত্মা থেকে সৃষ্ঠি করেছেন৷” (সূরা নিসাঃ ১)

” يأيها الناس إنا خلقناكم من ذكر وأنثى وجعلناكم شعوبا وقبائل لتعارفوا ” ( الحجرات 13)

★ ” হে মানবজাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্ঠি করেছি এবং বিভক্ত করেছি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে পরিচয় করতে পারো৷” (সূরা হুজুরাতঃ ১৩)


        নারীদেরও রয়েছে অধিকার পুরুষের উপরঃ


★ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ

ولهن مثل الذي عليهن بالمعروف

নারীদেরও রয়েছে অধিকার পুরুষের উপর যেমন পুরুষের রয়েছে নারীদের উপর৷ (সূরা বাক্বারাঃ ২২৮)

                  জান্নাত মায়ের পদতলেঃ

★ বিশ্ববাসী যখন বিশ্বাস করত নারীরা হচ্ছে অভিশাপ, জাহান্নামের গেইট, শয়তানের হাতিয়ার সমগ্র বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষনা দিলেন ”

 الجنة تحت أقدام الأمهات ”

” জান্নাত মায়ের পদতলে”

رضا الرب في رضا الوالدين ، وسخط الرب في سخط الوالدين

” মাতাপিতার সন্ত্তষ্টিতে মালিকের সন্ত্তষ্টি, মাতাপিতার অসন্ত্তষ্টিতে মালিকের অসন্ত্তষ্টি৷”



নারীদের পর্দা,লজ্জা ও শালীনতার বিধান অত্যন্ত কঠোর কারন তাদের থেকেও ফিত্না হবে :-


★ পর্দা করা লজ্জার লক্ষণ, যাদের মধ্যে লজ্জা নাই, তাদের নিকট পর্দার কোন গুরুত্ব নাই।] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« إن لكل دين خُلُقًا , وخُلُقُ الإسلام الحياء. »

“প্রতিটি দ্বীনের একটি চরিত্র আছে, আর ইসলামের চরিত্র হল, লজ্জা”। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]

★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,

« الحياءُ من الإيمان , والإيمان في الجنة »

“লজ্জা ঈমানের অঙ্গ আর ঈমানের গন্তব্য হল জান্নাত”। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]

★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,

« الحياء والإيمان قُرِنا جميعاً , فإذا رُفِعَ أحدُهما, رُفِعَ الآخرُ »

“লজ্জা ও ঈমান উভয়টি একটি অপরটির সম্পূরক। যদি একটি শূন্য হয়, তখন অপরটিও শূন্য হয়ে যায়”। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]

★ উম্মুল মুমীনিন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«كنت أدخل البيت الذي دُفِنَ فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي رضي الله عنه واضعةً ثوبي , وأقول: ( إنما هو زوجي وأبي ) , فلما دُفن عمر رضي الله عنه , والله ما دخلته إلا مشدودة عليَّ ثيابي , حياءً من عمر رضي الله عنه.»

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমার পিতা আবুবকর রা. কে যে ঘরে দাফন করা হয়েছে, সে ঘরে আমি আমার কাপড় (ওড়না) খুলে প্রবেশ করতাম, আমি মনে মনে বলতাম, এরা আমার স্বামী ও পিতা। এখানে পর্দা করার কোন প্রয়োজন নাই। কিন্তু যখন ওমর রা. কে একই ঘরে দাফন করা হল, তখন ওমর রা. এর লজ্জায় আমি সে ঘরে কাপড়কে শক্ত করে পেঁচিয়ে ও কঠিন পর্দা করে প্রবেশ করতাম। [হাদিসটিকে হাকিম সহীহ আখ্যায়িত করেন এবং হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক]


★ সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দাহীনতা অভিশাপ ডেকে আনে এবং আল্লাহর রহমত থেকে মানুষকে দূরে সরায়।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« سيكون في آخر أمتي نساءٌ كاسيات عاريات , على رؤوسهن كأسْنِمَةِ البُخْت , العنوهن , فإنهن ملعونات» [صحيح]

“আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কতক মহিলার আবির্ভাব হবে, তারা কাপড় পরিধান করবে অথচ নগ্ন, তাদের মাথার উপরিভাগ উটের সিনার মত হবে। তোমরা তাদের অভিশাপ কর, কারণ, তারা অভিশপ্ত”। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]

সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দাহীনতা  জাহান্নামীদের চরিত্র:

★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صنفان من أهل النارلم أَرَهُمَا : قوم معهم سِياطٌ كأذناب البقر يضربون بها الناس , ونساء كاسيات عاريات , مُمِيلاتٌ مائلات , رؤوسهن كأسنمة البُخْتِ المائلة , لا يدخلن الجنة , ولا يجدن ريحها , وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا»   .[ مسلم ]

“দুই শ্রেণীর লোক জাহান্নামী হবে, যাদের আমি আমার যুগে দেখতে পাব না। এক শ্রেণীর লোক, তারা এমন এক সম্প্রদায়, তাদের সাথে থাকবে গরুর লেজের মত এক ধরনের লাঠি যদ্বারা তারা মানুষকে পিটাবে। অপর শ্রেণী হল, কাপড় পরিহিতা নারী, অথচ নগ্ন, তারা পুরুষদেরকে আকৃষ্টকারী ও নিজেরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট। তাদের মাথা হবে উটের চোটের মত বাঁকা। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের সু-ঘ্রাণও তারা পাবে না। অথচ জান্নাতের সু-ঘ্রাণ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে”।  [মুসলিম]


★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«خير نسائكم الودود , الولود , المواتية , المواسية , إذا اتقين الله , وشر نسائكم المتبرجات المتخيِّلات , وهن المنافقات , لا يدخلن الجنةَ منهن إلا مثلُ الغراب الأعصم »  [صحيح]

তোমাদের মধ্যে উত্তম নারী হল, যারা অধিক মহব্বতকারী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, ..যখন তারা আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমাদের মধ্যে খারাপ মহিলা হল, যারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী অহংকারী। মনে রাখবে এ ধরনের মহিলারা মুনাফেক তারা কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। একমাত্র লাল বর্ণের ঠোঁট বিশিষ্ট কাকের মত। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]


★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«أَيُّما امرأةٍ وضعت ثيابها في غير بيت زوجها , فقد هتكت سِتْرَ ما بينها وبين الله عز وجل »

কোন নারী যদি তার স্বামীর ঘরের বাহিরে স্বীয় কাপড় খুলে ফেলে, তাহলে সে তারা মাঝে আল্লাহর মাঝে যে বন্ধন ছিল তা ছিঁড়ে ফেলল। [হাদিসটি বিশুদ্ধ]

সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পর্দাহীনতা অশ্লীলতা:

★ অবশ্যই নারীরা হল, সতর। আর সতর খোলা অশ্লীলতা ও নোংরামি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

 ﴿ وَإِذَا فَعَلُواْ فَٰحِشَةٗ قَالُواْ وَجَدۡنَا عَلَيۡهَآ ءَابَآءَنَا وَٱللَّهُ أَمَرَنَا بِهَاۗ قُلۡ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَأۡمُرُ بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ أَتَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ ٢٨﴾] سورة الأعراف[28 :

“আর যখন তারা কোন অশ্লীল কাজ করে তখন বলে, ‘আমরা এতে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন’। বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না”?


★ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ لَا يَفۡتِنَنَّكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ كَمَآ أَخۡرَجَ أَبَوَيۡكُم مِّنَ ٱلۡجَنَّةِ يَنزِعُ عَنۡهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوۡءَٰتِهِمَآۚ﴾ ]سورة الأعراف [27 :

হে বনী আদম, শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল; সে তাদের পোশাক টেনে নিচ্ছিল, যাতে সে তাদেরকে তাদের লজ্জা-স্থান দেখাতে পারে।







★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«العينان زناهما النظر »

“চোখ দুটির ব্যভিচার হল, দৃষ্টি”। [মুসলিম]




★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« فاتقوا الدنيا , واتقوا النساء , فإن أول فتنةِ بني إسرائيل كانت في النساء »     [مسلم]

“তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর এবং নারীকে ভয় কর, কারণ, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীর ফিতনা”। [মুসলিম]


★ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে করিমে এরশাদ করে বলেন,

﴿وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰۖ﴾ [سورة الأحزاب:33 ]

“তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান কর। এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না”।



★ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« أَيُّما امرأةٍ استعطرت , فَمَرَّتْ على قومٍ ليجدوا ريحها , فهي زانية »  [حسن]

“যদি কোন নারী খোশবু ব্যবহার করে কোন পরুষ সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করে যাতে তারা তার সুগন্ধ উপলব্ধি করতে পারে। তাহলে সে নারী ব্যভিচারী”।


★ সুফিয়া বিনতে সাইবাহ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«بينما نحن عند عائشة – رضي الله عنها – قالت فَذَكَرْنَ نساءَ قريشٍ وفضلَهن , فقالت عائشة – رضي الله عنها- : ( إن لنساء قريش لفضلاً , وإني والله ما رأيتُ أفضلَ من نساءِ الأنصار: أشَدَّ تصديقًا لكتاب الله , ولا إيمانًا بالتنزيل , لقد أُنزِلَتْ النور: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} (31) سورة النــور  فانقلب رجالهن إليهن يتلون عليهن ما أنزل الله إليهم فيها , ويتلو الرجل على امرأته , وابنته , وأخته , وعلى كُلِّ ذِي قَرابته , فما منهن امرأةٌ إلا قامت إلى مِرْطِها المُرَحَّلِ, فاعْتَجَرَتْ, به تصديقًا وإيمانًا بما أنزل الله من كتابه , فأصبحن وراءَ رسولِ الله-صلى الله عليه وسلم – مُعْتَجِراتٍ كأن على رؤوسهن الغربان».

“একদিন আমরা আয়েশা রা. এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আমরা কুরাইশী নারীদের আলোচনা ও তাদের গুণাগুণ বর্ণনা করতে ছিলাম। তখন আয়েশা রা. আমাদের বলল, অবশ্যই কুরাইশ বংশের নারীদের মর্যাদা আছে, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। তবে আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আনসারী নারীদের মত এত বেশি আল্লাহর কিতাবের উপর বিশ্বাসী ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারী আর কোন নারীকে আমি কখনো দেখিনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন সূরা নূর নাযিল করল, তখন তাদের পুরুষরা তাদের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি যে কোরআন নাযিল করা হল, তা তিলাওয়াত করল- পুরুষ তার স্ত্রীকে, তার মেয়েকে, বোনকে এবং প্রতিটি নিকটাত্মীয়কে শোনাল। তিলাওয়াত শোনা মাত্রই সাথে সাথে আনসারী নারীরা তাদের নকশী করা কাপড় নিয়ে তাদের দেহকে ডেকে ফেলল। তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনর কথার উপর বিশ্বাস করতে এবং তার প্রতি ঈমান আনতে কোন প্রকার বিলম্ব করল না। তাদের অবস্থা এমন হল, তারা সবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে তাদের মাথা ও চেহারা ডেকে রাখল, যেন তাদের মাথার উপর কাক”।





Saturday, March 28, 2015

Law of Menustration & কোরআন স্পর্শ করার বিধান :

ভুল ফতোয়া প্রদান ও ফিত্নাবাজদের প্রশ্নের জবাবে ""আল-কোরআন স্পর্শ করার বিধান & law of menustration""

লেখক ও সংকলক : Masum Billah Sunny

★ ড জাকির নায়েক ফতোয়া দিয়েছে, ওযু সালাত আদায়ের জন্য অত্যাবশ্যক। কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযু অত্যাবশ্যক নয় বরং এটা মুস্তাহাব। নাউযুবিল্লাহ

তার আরো অনেক ভুলের সঠিক উত্তর উলামায়ে কেরামগন এতিমধ্যে অনেক দিয়েছেন। কিন্তু ওয়াজিব ফরজের কাছাকাছি তাই একে মুস্তাহাব বলা এটা নিতান্তই গোমরাহী ছাড়া কিছু নয়। youtube এ search দিলেই পেয়ে যাবেন।

★ নব্য মুসলিম বিল্লাল ফিলিপস (ড জাকির নায়েকের মতই আহলে হাদিস আকিদার) সে তার বই ""low of menustration"" এ লিখেছে ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়েও মহিলারা কুরআন পড়তে পারবে। (নাউযুবিল্লাহ)

৭ মিনিটের ভিডিওটি এখানে জবাবসহ দেখুন :


https://m.youtube.com/watch?v=cVW7VgC4l8Y


★★★ (১)


হায়েজা মহিলা এবং যার উপর গোসল ফরজ উক্ত ব্যক্তির জন্য তাসবীহ ও দুআ জিকির
পড়তে কোন সমস্যা নেই। তবে কুরআন তিলাওয়াত ও নামায পড়া নিষিদ্ধ। সেই সাথে রোযা রাখাও নিষিদ্ধ।

عن إبراهيم قال : الحائض والجنب يذكران الله ويسميان (مصنف عبد الرزاق، كتاب الطهارة، باب الحائض تذكر الله ولا تقرأ القرآن، رقم الحديث-989)

অনুবাদ-হযরত ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-হায়েজ এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করতে পারবে, এবং তার নাম নিতে পারবে।

★ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৩০৫,
★ সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৮৯




★★★ (২)


কুরআন স্পর্শ করার জন্য পবিত্র হওয়া আবশ্যক। কিন্তু তিলাওয়াত করার জন্য অজু থাকা আবশ্যক নয়। তবে যাদের জন্য গোসল ফরজ তাদের সে অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত জায়েজ নয়।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ :« لاَ تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ »

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-ঋতুবতী মহিলা এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করবে না।

সুত্র :-

★ সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৫৩৫,
★ সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৩১,
★ সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৯০০,
★ মুসনান্না ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১০৯০/১০৯৮
★ সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৯১,
★ মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-১১,
★ মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৩৮২৩


যা থাকছে :

১) কুরআন ও হাদিসে রাসুল থেকে দলিল
২) হাদিসের ব্যাখ্যা এবং কিছু আপত্তি ও তার জবাব
৩) সাহাবা তাবেঈনদের মতামত
৪) পূর্ববর্তি ও সমসাময়িক আলেমদের ফতোয়া



                               আল-কোরআনের হুকুম :-



এ বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ[٥٦:٧٩]

যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। {সূরা ওয়াকিয়া-৭৯}

অর্থ উক্ত আয়াতের শব্দেই স্পষ্ট। আরো স্পষ্ট হতে এ আয়াতের পূর্বের আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেই-

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ [٥٦:٧٧] فِي كِتَابٍ مَّكْنُونٍ [٥٦:٧٨]

নিশ্চয় এটা সম্মাণিত কুরআন। যা আছে এক গোপন কিতাবে {সূরা ওয়াকিয়া-৭৭-৭৮}





                                     হাদিসের আলোকে : –





★ ইয়েমানবাসির উদ্দেশে আমর বিন হাযম (রা) এর কাছে রাসুল (স)
এ চিঠি পাঠান। চিঠিটিতে ইসলামী শরিয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক
দিক নির্দেশনা দেয়া ছিল। মুহাদ্দিসিনে কেরাম তাঁদের গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে এর
সংশ্লিষ্ট অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। পুরো চিঠিটি সাহিহ ইবনে হিব্বানের ১৪ নং খণ্ডে উল্লেখিত হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের যুগে চিঠিটিকে রাসুলের সুন্নাতের এক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হত। কোন বিষয়ে জানা না থাকলে তারা এ চিঠির শরানাপন্ন হতেন। কোন বিষয়ে তাদের মতের বিপরীত এ চিঠিতে কিছু পাওয়া গেলে, তারা তাদের পূর্বের মত থেকে ফিরে আসতেন।



★★★ (১)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍأَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ


হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেনঃ রাসূল সাঃ আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”।

সুত্র :

★ মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৬৮০,
★ কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৩০,
★ মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-২০৯,
★ আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১৩২১৭,
★ আল মুজামুস সাগীর, হাদীস নং-১১৬২,
★ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৬৫,
★ সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৬৬
★ মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক ১/৩৪১,
★ মুসতাদরকে হাকিম ১/৩৯৭,
★ সুনানে বাইহাকি ১/৮৭
★ সহিহ ইবনে হিব্বান ৪ র্থ খন্ড


------------------------


মুয়াত্তা মালিকে বর্ণিত এ সহীহ হাদীসকেও গবেষক সাহেব আলবানী রহঃ এর একটি ভুল গবেষণার উপর ভিত্তি করে বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছেন। অথচ সমস্ত মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ ব্যপারে একমত যে, মুয়াত্তা মালিকের সকল হাদীসই সহীহ।

এবার আসুন দেখি মুহাদ্দিসীনে কেরাম উক্ত হাদীসের ব্যাপারে কী মন্তব্য করেছেন?-

১

হযরত ইমাম আহমাদ রহঃ বলেন, আমার ধারণা মতে উক্ত হাদীসটি সহীহ। {তানকীহ তাহকীকুল তালীক-১/১৩১}

ইমাম আহমদ (র) আরো বলেন – كتبه لا أشك أن رسول الله চিঠিটি যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখেছিলেন এ ব্যপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। (আত-তিবয়ান লিবনিল কায়্যিম ১/৪০৯)

২

ইমাম দারেমী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান। {সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

৩

আবু যুরআ রাজী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান। {সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

৪

আবূ হাতেম রাজী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান।{সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

৫

আল্লামা ইবনে আসাকীর রহঃ বলেন, আমার জানা মতে উক্ত হাদীসটি সহীহ। {তারীখে দামেস্ক-২২/৩০৫}

৬

ইবনে দাকীকুল ঈদ রহঃ বলেন, উক্ত হাদীসটি কতিপয় আহলে হাদীসদের রীতি অনুযায়ী সহীহ। {আললমাম বিআহাদীসিল আহকাম-২/৭২২}

৭

ইবনুল মুলাক্কিন রহঃ বলেন, এটি সহীহ কিংবা হাসান। {তুহফাতুল মুহতাজ-২/৪৪৯}

৮

আবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, এটি সহীহ হওয়ার দলীল হল, জমহুর উলামাগণ এটাকে গ্রহণ করেছেন। {তামহীদ-১৭/৩৯৬}

ইবনে আব্দিল বার (র) আরো বলেন, وهو معروف عند أهل العلم معرفة يستغني بها عن الإسناد হাদিসটি উলামাদের নিকট এতটাই প্রসিদ্ধ যে এর কোন সূত্র বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই (আত-তামহিদ ১/৩৩৮)

৯

ইমাম জুরকানী রহঃ বলেন, মশহুর ও হাসান। {আলআবাতীল ওয়াল মানাকীর-১/৫৫৩}

১০

আব্দুল হক আলইশবিলীর মতে হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলআহকামুস সুগরা- নং-১৩৫}

১১

মুয়াফফিকুদ্দীন ইবনে কুদামা রহঃ বলেন, এটি মাশহুর চিঠি। {আলমুগনী-১/২০৩}

১২

আল্লামা হায়সামী রহঃ বলেন, এর রিজালবৃন্দ সিকা। {মাযমউজ যাওয়ায়েদ-১/২৮১}

১৩

আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। {উমদাতুল কারী-৩/৩৮৭}

১৪

আব্দুল্লাহ বিন বিন বাজ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {মাজমুআ ফাতাওয়া বিন বায-৪/৩৮৩, ১০/১৪৯, ১০/১৫৩} আরো দেখতে- {http://www.binbaz.org.sa/mat/130}

১৫

নাসীরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ। {ইরওয়াউল গালীল, নং-১২২, সহীহুল জামে-৭৭৮০, তাখরীজু মিশকাতুল মাসাবীহ-নং-৪৪৩}

১৬

এ প্রসঙ্গে ইমাম ইয়াকুব বিন সুফিয়ান (র) বলেন,

لا أعلم في جميع الكتب المنقولة كتابا أصح من كتاب عمرو بن حزم فإن الصحابة والتابعين يرجعون إليه ويدعون رأيهم

আমর বিন হাযম (রা) এর এ চিঠির চেয়ে বিশুদ্ধ কোন চিঠির কথা আমার জানা নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা ও তাবেয়িগণ এ চিঠির শরনাপন্ন হতেন এবং এর বিপরীতে তাদের কোন মত থাকলে তা পরিহার করতেন। (আত-তালখিসুল হাবীর ২/৪১৮)

১৭

ইবনে তাইমিয়া বলেন -

وهو كتاب مشهور عند أهل العلم

 আহলে ইলমের নিকট এটি একটি প্রসিদ্ধ চিঠি (শরহুল উমদাহ ১/৩৪২)

১৮

ইমাম হাকেম নিশাপুরি (র) বলেন -

 قد شهد عمر بن عبد العزيز ، والزهري لهذا الكتاب بالصحة

উমর বিন আব্দুল আযিয ও ইমাম যুহরি (র) এ চিঠিটির যথার্থতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। (আল মুসতাদরাক ১/৩৯৭, নাইলুল আওতার ১/২৫৯)



★★★ (২)


عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال : قال النبي صلي الله عليه وسلم لا يمس القرآن إلا طاهر

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পবিত্র ব্যক্তি ব্যতিত কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে।

সূত্র-

★ সুনানে দারাকুতনি ১/১২১,
★ আলমুজামুস সাগির লিত তাবরানী ১/২৭৬
★ মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৫১২

হাদিসটি সম্পর্কে ইমামগণের মন্তব্য –

১

আবু বকর আল আসরাম (র) বলেন, واحتج أبو عبد الله يعني أحمد بحديث ابن عمر আবু আব্দিল্লাহ অর্থাৎ ইমাম আহমদ (র) ইবনে উমর (রা) এর এই হাদিস দিয়ে দলিল দিতেন। (আল-মুনতাকা ১/৯২)

২

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (র) বলেন, وإسناده لا بأس به হাদিসটির সুত্রে কোন সমস্যা নেই (আত তালখিসুল হাবির ১/১৩১)

৩

আল্লামা নূরুদ্দীন বিন আবু বকর হায়সামী (র)বলেনঃ رواه الطبراني في الكبير والصغير ورجاله موثقون ইমাম তাবারানী কাবীর ও সাগীর উভয় গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন। আর এর সকল বর্ণনাকারী সিক্বা তথা গ্রহণযোগ্য। (মাযমাউজ যাওয়ায়েদ ১/২৭৬)

৪

ইমাম নববী (রহ) বলেন,

“إنه قول علي وسعد بن أبي وقاص وابن عمر رضي الله عنهم، ولم يعرف لهم مخالف من الصحابة”،

পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ বক্তব্যটি হযরত আলী রাঃ এবং সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ ওনাদের এ মতের উল্টো কোন মত সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত নয়। {শরহুল মুহাজ্জাব-২/৮০}

৫

 ইবনে তাইমিয়্যা বলেন,

وقال شيخ الإسـلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (21/266): “وهو قول سلمان الفارسي، وعبد الله بن عمر، وغيرهما، ولا يعلم لهما من الصحابة مخالف

পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ নিষেধ বক্তব্যটির পক্ষে মত দিয়েছেন হযরত সালমান ফারসী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এবং অন্যান্যরা। কোন সাহাবী থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণিত নেই। {মাজমূউল ফাতাওয়া-২১/২৬৬}



★★★ (৩)



عن عبد الرحمن بن يزيد ، قال : كنا مع سلمان ، فخرج فقضى حاجته ، ثم جاء فقلت : يا أبا عبد الله ، لو توضأت لعلنا نسألك عن آيات ، قال : إني لست أمسه ، إنه لا يمسه إلا المطهرون ، فقرأ علينا ما شئنا

আব্দুর রহমান বিন ইয়াযিদ বলেন, আমরা সালমান (রা) এর সাথে ছিলাম। (কিছুক্ষন পর) তিনি বের হয়ে ইস্তেঞ্জা করতে গেলেন। (ফিরে আসার পর) আমি তাকে বললাম, হে আবু আব্দিল্লাহ ! আপনি যদি একটু অযু করে আসতেন, আমরা কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম। তিনি জবাব দিলেন – আমি তো এখন কোরআন স্পর্শ করছি না। পবিত্র না হয়ে কোরআন স্পর্শ করা যায় না। (কিন্তু, স্পর্শ না করে শুধু পড়তে তো কোন সমস্যা নেই)। এরপর আমরা যা শুনতে চেয়েছিলাম, তিনি তা আমাদের পড়ে শোনালেন।

সূত্র-

★ মুসতাদরকে হাকেম ২/ ৪৭৭,
★ সুনানে দারাকুতনি ১/১২৪,
★ মুসান্নেফে ইবনে আবি শাইবা ১/১২৬

হাদিসটি সম্পর্কে ইমামগণের মন্তব্য –

ক) আবু আব্দিল্লাহ আল-হাকিম আন নাইসাবুরি (র) বলেন, هذا حديث صحيح على شرط الشيخين হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সাহিহ (মুসতাদরকে হাকেম ২/ ৪৭৭)

খ) আল্লামা জামালুদ্দিন আয-যাইলায়ি (র) বলেন, وصحح الدَّارَقُطْنِيُّ ইমাম দারাকুতনি (র) হাদিসটিকে সাহিহ বলেছেন। (নাসবুর রায়াহ ১/১৯৯)

গ)  ইবনে তাইমিয়্যা বলেন,

وقال شيخ الإسـلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (21/266): “وهو قول سلمان الفارسي، وعبد الله بن عمر، وغيرهما، ولا يعلم لهما من الصحابة مخالف

পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ নিষেধ বক্তব্যটির পক্ষে মত দিয়েছেন হযরত সালমান ফারসী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এবং অন্যান্যরা। কোন সাহাবী থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণিত নেই। {মাজমূউল ফাতাওয়া-২১/২৬৬}




★★★ (৪) হযরত ওমর রাঃ যখন কাফের থাকা অবস্থায় বোনকে কুরআন দেখাতে বলেছিলেন,
 তখন তার বোন বলেছিলেন যে, তুমি নাপাক! আর এ গ্রন্থ পবিত্র ছাড়া কেউ ধরতে পারে না।

সুত্র :

★ মুসনাদুল বাজ্জার-১/৪০১,
★ মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/৬৬,
★ সুনানে দারা কুতনী-১/১২১,
★ তাবাকাতুল কুবরা লিইবনে সাদ-৩/২৬৭,
★ সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী-১/৮৭}


তখন ওমর (রা) ওযু করে আসলেন এবং উক্ত সুরাটি পড়লেন। পড়ে দু চোখ জলে ভিজে গেল রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে নিয়ে যেতে বললেন আর তখনই রাসুল (সা) এর নিকট গিয়ে ইমান এনেছিলেন।


★★★ এ কোরআন কি লাওহে মাহফুজের কুরআন? হ্যা অবশ্যই।



★ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ

وقال شيخ الإسـلام ابن تيمية في شرح العمدة (ص384): “الوجه في هذا، والله أعلم أن الذي في اللوح المحـفوظ هو القرآن الذي في المصحف كما أن الذي في هذا المصحف هو الذي في هذا المصحف بعينه سواء كان المحل ورقاً أو أديماً أو حجراً أو لحافاً، فإذا كان مِنْ حكم الكتاب الذي في السماء أن لا يمسه إلا المطهرون وجب أن يكون الكتاب الذي في الأرض كذلك؛ لأن حرمته كحرمته، أو يكون الكتاب اسم جنس يعم كل ما فيه القرآن سواء كان في السـماء أو الأرض، وقد أوحـــى إلى ذلك قوله تعالى: {رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفاً مُطَهَّرَةً} [البينة:2]، وكذلك قوله تعالى: {فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ} [عبس:13-14]. فوصفها أنها مطهرة فلا يصلح للمحدث مسها

আমাদের কাছে যে কুরআন রয়েছে এটি সেই কুরআনই যা লৌহে মাহফুজে রয়েছে। যেমন কুরআন তাই, যা কুরআনের মাঝে রয়েছে, চাই তার স্থান পাতা হোক, বা চামড়া হোক, বা পাথর হোক বা মোড়ক হোক। সুতরাং আসমানে অবস্থিত লিখিত কিতাবের হুকুম যেহেতু তা পবিত্র ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না, জমিনে থাকা কুরআনের ক্ষেত্রে একই বিধানকে আবশ্যক করে। কেননা, এ [জমিনে থাকা কুরআন] কুরআনের সম্মান সে [আসমানে থাকা কুরআন] কুরআনের মতই। অথবা আয়াতে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইসমে জিনস। যা কুরআনকে বুঝাচ্ছে, চাই তা আসমানে থাকুক বা জমিনে থাকুক। {শরহুল উমদাহ-৩৮৪}


★ এদিকেই ইংগিত বহন করছে আল্লাহ তাআলার বাণী

 رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفاً مُطَهَّرَةً

তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল; যিনি পবিত্র সহীফা তিলাওয়াত করেন। {সূরা বায়্যিনাহ-২}

★ অন্যত্র এসেছে

 فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ

অর্থাৎ সমুচ্চ এবং পবিত্র যা রয়েছে সম্মানিত সহীফায়। {আবাসা-১৩-১৪}






             ★★★ উল্লেখিত হাদিসগুলোর উপর কিছু আপত্তি ও তার জবাব ★★★



★ ১ম আপত্তিঃ কোরআনে কারিম স্পর্শ করতে ওযুর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উল্লেখিত সব হাদিসেই কিছু যু’ফ (দুর্বলতা) রয়েছে। যার কারনে উক্ত আহাদিস আমলযোগ্য নয়।

জবাব- এটি একটি অজ্ঞতাপ্রসূত মত। প্রথমত এ বক্তব্যটিই সঠিক নয়। “পবিত্র না হয়ে কোরআন স্পর্শ করা যায় না” এ প্রসঙ্গে নির্ভরযোগ্য অনেক গুলো হাদিস রয়েছে। যার মধ্যে থেকে তিনটি হাদিস মুহাদ্দিসিনদের মতামত সহ ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর তাছাড়া যদি সবগুলো হাদিসকে যদি যায়িফ মেনেও নেয়া হয়, তাহলেও উক্ত আহাদিসের উপর আমল করা ওয়াজিব। কেননা

১) কিছু যায়িফ হাদিস, একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার দ্বারা তার যু’ফ (ত্রুটি) দূর হয়ে যায়।

২) নির্ভরযোগ্য ও অধিকাংশ আলেমগণ যখন কোন একটি হাদিস যায়িফ জানার পরও তা গ্রহন করে নেন, উম্মতের জন্য সে যাইফ হাদিসের উপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি (র) বলেন,

لأن اتفاقهم على تلقي خبر غير ما في الصحيحين بالقبول ولو كان سنده ضعيفا يوجب العمل بمدلوله

সাহিহাইন ছাড়া অন্য কোথাও উল্লেখিত কোন হাদিস গ্রহন করার ব্যাপারে যদি উলামাগন একমত হয়ে যান, তাহলে সে হাদিসটি যায়িফ হলেও তার উপর আমল করা ওয়াজিব। (আননুকাত লিইবনিল হাজার ১/৩৭২)

এ কারনেই “কোরআন স্পর্শে অযুর আবশ্যকতা” সংক্রান্ত একটি হাদিস আলোচনা করতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন আলবানি (র) বলেন,

أن الحديث طرقه كلها لا تخلو من ضعف , ولكنه ضعف يسير إذ ليس فى شىء منها من اتهم بكذب , وإنما العلة الإرسال أو سوء الحفظ , ومن المقرر فى " علم المصطلح " أن الطرق يقوى بعضها بعضا إذا لم يكن فيها متهم كما قرره النووى فى تقريبه ثم السيوطى فى شرحه , وعليه فالنفس تطمئن لصحة هذا الحديث لا سيما وقد احتج به إمام السنة أحمد بن حنبل كما سبق

হাদিসটির কোন সূত্রই দুর্বলতামুক্ত নয়। তবে যে দুর্বলতা রয়েছে তা খুবই সামান্য। কেননা সূত্রগুলোতে এমন কোন রাবি(বর্ণনাকারী) নেই যাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখানে দুর্বলতার মুল কারন (বর্ণনাকারী থেকে) ইরসাল পাওয়া যাওয়া অথবা রাবির মেধাশক্তির দুর্বলতা । আর “ ইলমুল মুস্তালাহ” এর মধ্যে এটা স্বীকৃত যে, হাদিসের সূত্রসমুহের মধ্যে যদি এমন কোন রাবি না থাকেন, যাকে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাহলে সে ক্ষেত্রে হাদিসটির একাধিক সূত্র - একটি অপরটিকে শক্তিশালি করবে। ইমাম নববি (র) তার “তাকরিব” গ্রন্থে ও আল্লামা সুয়ুতি (র) তার শরাহতে এ মতই ব্যক্ত করেছেন। যার মাধ্যমে এ হাদিসের সিহহাত (নির্ভরযোগ্যতা) এর ব্যাপারে মনে আর কোন সন্দেহ থাকে না। তাছাড়া, পূর্বেই বলা হয়েছে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র)ও এ হাদিসকে প্রমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (ইরওয়াউল গা’লিল লিল আলবানি ১/১৬০)


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,

مذهب الأئمة الأربعة أنه لا يمس المصحف إلا طاهر كما قال في الكتاب الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن حزم : أن لا يمس القرآن إلا طاهر . قال الإمام أحمد : لا شك أن النبي صلى الله عليه وسلم كتبه له وهو أيضا قول سلمان الفارسي وعبد الله بن عمر وغيرهما . ولا يعلم لهما من الصحابة مخالف .

চার মাযহাবের ইমামদের মত হল, পবিত্র ব্যক্তিগণ ছাড়া আর কারো কোরআনে কারিম স্পর্শ করার অনুমতি নেই। যেমন আমর বিন হাযম (রা)কে পাঠানো চিঠিতে রাসুল (স) বলেছিলেন - পবিত্রতা অর্জন না করে কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে। ইমাম আহমদ (র) বলেন, চিঠিটি যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখেছেন এ ব্যাপারে কোনই সন্দেহ নেই। সালমান ফারসি (রা), আব্দুল্লাহ বিন উমর(রা) ও অন্যান্য সাহাবাদেরও মত। এবং সাহাবাগনের মধ্যে থেকে তাদের মতের বিরোধিতা করেছেন, এরকম কারো কথাও জানা যায় না। (মাজমুআতুল ফতোয়া, ২১/১৫৬)

অন্যত্র বলেন,

وَأَمَّا مَسُّ الْمُصْحَفِ: فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يَجِبُ لَهُ الْوُضُوءُ كَقَوْلِ الْجُمْهُورِ

কোরআনে কারিম স্পর্শ করার ব্যাপারে সহিহ রায় হল, অধিকাংশ আলেমদের মত অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে অযু করা ওয়াজিব। (মাজমুআতুল ফতোয়া,২১/১৬৪)

---------------------
তাই, কোরআন স্পর্শ করার জন্য অযুর বাধ্যবাধকতা সংশ্লিষ্ট সবগুলো হাদিসকে যদি যায়িফ মেনেও নেয়া হয়, হাদিসগুলোর একাধিক সুত্র থাকার কারনে এবং সাহাবা তাবেয়িন সহ প্রায় শতভাগ উলামাগন তা গ্রহন করে নেয়ার কারনে, উক্ত আহাদিসের উপর আমল করা ওয়াজিব।

★ ২য় আপত্তিঃ উপরোল্লিখিত হাদিস গুলোতে বলা হয়েছে لا يمس القرآن إلا طاهر পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে – এখানে পবিত্র ব্যক্তি দ্বারা মুমিন ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে। কেননা সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন المؤمن لا ينجس মুমিন কখনও নাপাক হয় না। (অর্থাৎ মুমিন সবসময় পবিত্র)
সুতরাং, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কোরআন স্পর্শ করবে না - এর অর্থ হল মুমিন ছাড়া কেউ কোরআন স্পর্শ করবে না। কাফির, মুশরিক কোরআন স্পর্শ করতে পারবে না। মুমিন করতে পারবে, সর্বাবস্থায় পারবে, অযু থাকুক বা না থাকুক।

জবাব- প্রথম কথা হল, উপরোল্লিখিত হাদিস সমুহে পবিত্র ব্যক্তি দ্বারা যদি মুমিন ব্যক্তিই বোঝানো উদ্দেশ্য হত, তাহলে রাসুল (স) সরাসরি “মুমিন ব্যক্তি” বললেই পারতেন। “পবিত্র ব্যক্তি” বলে “মুমিন ব্যক্তি” বোঝানোর কি দরকার? এভাবে বললেই হত "মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে।"

দ্বিতীয়ত, সুরা মায়েদার ৬নং আয়াতে অযু গোসল ও তায়াম্মুমের বিধানাবলি বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন
مَا يُرِيدُ اللّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ

"(এ সমস্ত বিধানের দ্বারা) তিনি তোমাদের অসুবিধায় ফেলতে চান না, বরং তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান।" লক্ষণীয় বিষয় হল, একজন মুমিন যদি সব সময় পবিত্রই থাকেন, নাপাক না হন, তাহলে আল্লাহ তাকে পবিত্র করতে কেন চাইলেন? পবিত্র তো তাকেই করা যায়, যিনি পূর্বে নাপাক ছিলেন। তাই নয় কি?

বাকি থাকলো, সহিহ মুসলিমের সেই হাদিস যেখানে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, المؤمن لا ينجس মুমিন কখনও নাপাক হয় না। পুরো হাদিসটি হল -

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ، وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ، فَتَفَقَّدَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ: «أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ» قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجُسُ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর সাথে মদিনার কোন এক রাস্তাতে সাক্ষাত করলেন। আবূ হুরাইরা (রা) তখন নাপাক অবস্থায় ছিলেন। তাই তিনি চুপচাপ সরে গেলেন এবং গোসল করে আবার ফিরে আসলেন। এদিকে রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খোঁজ করছিলেন। তিনি ফেরত এলে রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আবু হুরাইরা (রা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যখন আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন আমি জুনুবি ছিলাম (এমন ব্যক্তিকে বলে যার উপর গোসল করা ওয়াজিব)। তাই গোসল না করে আপনার সাথে বসতে আমার খারাপ লাগছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন জবাব দিলেন, সুবহানাল্লাহ ! মুমিন ব্যাক্তি তো কখনও নাপাক হয় না।

ঠাণ্ডা মাথায় এ হাদিসটি কেউ পড়লে, সহজেই বুঝতে পারবে, “ মুমিন ব্যাক্তি কখনও নাপাক হয় না ” - এ কথা বলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন ব্যাক্তির অন্তর বা আত্মার পরিশুদ্ধি বা পবিত্রতার দিকে ইংগিত দিয়েছেন বলে মনে হয়।


★ ৩য় আপত্তিঃ অনেকে বলেন, হাদিসে তহির বা পবিত্র ব্যক্তি বলতে ঐ ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি বড় নাপাকি থেকে পবিত্র। অর্থাৎ বড় নাপাকি থেকে পবিত্র থাকলে, জুনুবি (গোসল ফরয) না হলে, তাকে পবিত্র বলা হবে। তাই, সেই ক্ষেত্রে ওযু না থাকলেও কোরআন স্পর্শ করা যাবে।

জবাব- এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিমত। যার কোন দলিল নেই।

আরবি “ত্বহির” শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্র। কোরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, এ শব্দ দ্বারা ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য, যিনি বড় ও ছোট- উভয় নাপাকি থেকে পবিত্র। যার প্রমান-

ক) আল্লাহ তাআলা সুরা মায়েদার যে আয়াতে ওযু গোসলের বিধান দিয়েছেন, সেখানে তিনি এ বিধান প্রদানের উদ্দেশ্যও ব্যক্ত করেছেন। আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ বলেন,

مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ

তিনি তোমাদেরকে কষ্টে ফেলতে চান না, বরং তিনি তোমাদের “তহির”(পবিত্র) বানাতে চান। এর দ্বারা বোঝা যায়, এই ওযু গোসল দ্বারা উদ্দেশ্য হল, পবিত্র হওয়া। যদি কেবল বড় নাপাকি থেকে পবিত্র থাকলেই কাউকে পবিত্র ধরা হত, ছোট নাপাকি থেকে (ওযুর মাধ্যমে) পবিত্র না হলেও তাকে অপবিত্র বলা না হত, তাহলে ওযুর বিধান আল্লাহ তাআলা কেন দিলেন? কোরাআনের এই বর্ণনাভঙ্গিই প্রমাণ করে, তহির বা পবিত্র বলতে ঐ ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়েছে, যিনি বড় ও ছোট - উভয় নাপাকি থেকে পবিত্র।

দ্বিতীয়ত, সহিহ মুসলিমের বিখ্যাত হাদিস,

لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ

পবিত্রতা ব্যতিত সালাতকে কবুল করা হয় না।

যদি জুনুব বা বড় নাপাকি থেকে গোসলের দ্বারা পাক হলেই তাকে পবিত্র বা তাহির বলা যায়, তাহলে এই হাদিস অনুযায়ী তার ওযু ছাড়া নামায আদায় করলেও আদায় হয়ে যাবে। কেননা, হাদিসে নামায কবুলের জন্য তাহির হওয়াকে শর্ত করা হয়েছে। আর উপরোল্লিখিত আপত্তি অনুযায়ী, বড় নাপাকি থেকে পবিত্র হলেই সে তাহির।

কিন্তু বিষয়টি আসলেই কি তাই? নাকি সব আলেমগণই বলবেন, আলোচ্য হাদিসে “পবিত্র হওয়া” বলতে ছোট ও বড়- উভয় নাপাকি থেকে পাক হতে বলা হয়েছে। তাহলে এবার বলুন, কোরআন স্পর্শের ব্যাপারে যে হাদিসে "পবিত্র না হয়ে কোরআন স্পর্শ করো না" বলা হয়েছে – সেখানে পবিত্র বলতে কেবল বড় নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়া বোঝানো হয়েছে, এ অদ্ভুত দাবী কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?