Blog Archive

Showing posts with label যে গল্পে হৃদয় গলে. Show all posts
Showing posts with label যে গল্পে হৃদয় গলে. Show all posts

Sunday, August 23, 2015

যে গল্পে হৃদয় গলে (২) : হজরত মালেক বিন দিনার রহ. এর ঘটনা :-

প্রথম পর্ব :

যে গল্পে হৃদয় গলে (১) : হযরত সাদ সালামি (রা) এর ১টি ঘটনা :-

http://sunni-encyclopedia.blogspot.com/2015/06/blog-post_23.html?m=1

২য় পর্বে →

মদখোর থেকে পৃথিবী খ্যাত ইমাম হয়েছিলেন যিনি -

তিনি ছিলেন ২য় হিজরির বিখ্যাত সুফি।
একদিন লোক
ভরপুর এক মাহফিলে বক্তব্য
দিচ্ছিলেন তিনি।
শুরুতেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন এক
শ্রোতা।
বললেন, আপনার বক্তৃতা পড়ে শুনব।
তার আগে
আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
বছর দশেক আগে আপনাকে মাতাল
অবস্থায় রাস্তায়
পড়ে থাকতে দেখেছিলাম। আপনি
ছিলেন ছন্নছাড়া
এক ব্যক্তি। খারাপ কাজ ছাড়া
ভালো কাজে দেখিনি
কখনো। অথচ আজ আপনি আমাদের
সামনে ওয়াজ
করছেন। আপনার এই পরিবর্তন
কিভাবে হলো?
শ্রোতার এমন প্রশ্ন এড়াতে
পারলেন না বক্তা।
বললেন, শুনুন তাহলে আমার ঘটনা।
সেদিন ছিল শবে কদরের রাত। শহরের
মদের
দোকানগুলো বন্ধ ছিল। এক
দোকানিকে
অনুরোধ করে মদ কিনলাম। তারপর
চলে এলাম
বাসায়। রাতে মদ ছাড়া ঘুমই আসত
না।
সেদিন বাসায় ঢুকেই দেখি স্ত্রী
নামাজ পড়ছে।
নিশ্চুপে আমার ঘরে চলে এলাম।
টেবিলে রাখলাম
বোতলটা। হঠাৎ আমার তিন বছরের
মেয়েটা দৌড়ে
এলো। টেবিলে সঙ্গে তার ধাক্কা
লেগে
মদের বোতলটি পড়ে ভেঙে গেল।
সেটা
দেখে অবুঝ মেয়েটি খিলখিল করে
হাসতে
লাগল। মেয়ে বলে তাকে কিছু বলতেও
পারছিলাম
না।
ভাঙা বোতল ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে
গেলাম।
সেরাতে আর মদ খাওয়া হল না।
তারপর চলে
গেছে এক বছর। আবার এল
লাইলাতুল কদর। অভ্যাস
মতোই আমি মদ নিয়ে বাড়ি এলাম।
বোতলটা
টেবিলে রাখলাম। হঠাৎ বোতলের
দিকে তাকাতেই
বুক ভেঙে কান্না এলো। কারণ তিন
মাস আগে
আমার মেয়েটি মারা গেছে। গতবার
তার বোতল
ভাঙার কাহিনী আমার চোখের সামনে
ভেসে
উঠছে। মদটা আর খেতে পারলাম না।
ঘুমিয়ে
পড়লাম।
মাঝ রাতে স্বপ্নে দেখলাম এক
বিরাট সাপ আমাকে
তাড়া করছে। এত বড় সাপ আমি
জীবনে দেখিনি।
সেই ভয়ে আমি দৌড়াচ্ছি। এমন
সময় এক দুর্বল
বৃদ্ধকে দেখলাম। তাকে অনুরোধ
করলাম সাপটি
থেকে আমাকে রক্ষা করতে। কিন্তু
বৃদ্ধ বলল,
আমি খুব দুর্বল এবং ক্ষুধার্ত। এ
সাপের সাথে আমি
পারব না। তুমি বরং এই পাহাড়ের
ডানে যাও।
বৃদ্ধের কথা মতো পাহাড়ে উঠেই
দেখি দাউদাউ
করে আগুন জ্বলছে। আর পেছনেই
এগিয়ে
আসছে সেই মোটা কুৎসিত সাপ।
আমি বৃদ্ধের কথা
মতো ডানে ছুটলাম। দেখলাম সুন্দর
এক বাগান।
বাচ্চারা খেলছে। গেটে দারোয়ান।
বাগানে ঢুকতে চাইলে দারোয়ান বাধা
দিল। বাচ্চাদের
ডেকে বললো, দেখতো এলোকটি
কে?
ওকে তো সাপটা খেয়ে ফেলবে,
নয়তো
আগুনে ফেলে দেবে। দারোয়ানের
কথায়
বাচ্চারা ছুটে এলো। এর মধ্যে তিন
মাস আগে
মৃত্যুবরণ করা আমার মেয়েটাকেউ
দেখলাম।
মেয়েটা আমাকে ডান হাতে জড়িয়ে
বাম হাতে
সাপটাকে থাপ্পর দিলো। ভয়ে সাপ
পালিয়ে
গেলো।
ঘটনা দেখে চোখ কপালে উঠল।
বললাম, মা তুমি
কত ছোট আর এত বড় সাপ
তোমাকে ভয় পায়?
তুমি এতো সাহস কোথায় পেলে।
মেয়ে বললো, আমি তো জান্নাতি
মেয়ে।
জাহান্নামের সাপ আমাদের ভয় পায়।
বাবা ওই সাপকে
তুমি চিনতে পেরেছো?
বললাম, না মা সাপকে তো চিনতে
পারিনি।
বাবা ওতো তোমার নফস। তুমি
নফসকে এতো
বেশি খাবার দিয়েছো যে সে এমন বড়
আর
শক্তিশালী হয়েছে। সে তোমাকে
জাহান্নাম
পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়েছে।
বললাম, পথে এক দুর্বল বৃদ্ধ
তোমার এখানে
আসার পথ বলে দিয়েছে। সে কে?
মেয়ে বললো, তাকেও চেনোনি? সে
তোমার রুহ। তাকে তো কোনোদিন
খেতে
দাওনি। তাই না খেয়ে দুর্বল হয়ে
কোনো মতে
বেঁচে আছে।
এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেলো।
দীর্ঘ স্বপ্নের কথা বলে বক্তা একটু
দম নিলেন।
এরপর বললেন, সেইদিন থেকে আমি
আমার
রূহকে খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি আর
নফসের খাদ্য একদম
বন্ধ করে দিয়েছি। এখনো চোখ
বুঝলেই
নফসের সেই ভয়াল রূপ দেখতে পাই।
আর দেখি
রূহকে। আহা কতো দুর্বল হাঁটতে
পারে না।
তারপর ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন
বক্তা।
বিখ্যাত এ বক্তার নাম হজরত
মালেক বিন দিনার রহ.।
হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের বিখ্যাত সুফি
ও ইসলাম
বিশ্লেষক। এক সময় মদ খেয়ে
মাতাল হয়ে পড়ে
থাকতেন রাস্তায়। একটা স্বপ্ন তার
জীবনকে
পাল্টে দিল। তিনি হয়ে গেলেন
ইসলামের মহা
মনীষী। পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল
তার
খ্যাতি।

Tuesday, June 23, 2015

যে গল্পে হৃদয় গলে (১) : হযরত সাদ সালামি (রা) এর ১টি ঘটনা :-


সাহাবীয়ে কেরাম (রা) ওনাদের ঘটনা শুনলে সত্যি চোখে পানি এসে যায় :-

হযরত সাদ সালামি আল্লাহর নবীর একজন সাহাবী ছিলেন । তিনি অত্যন্ত গরীব সাহাবী ছিলেন। গায়ের রং ছিল খুবই কালো এবং মুখের মধ্যে ছিল বসন্তের দাগ | একদিন সাদ (রা: ) রাসূলে পাকের দরবারে বসে কাঁদতে ছিলেন। হুজুর ( সা: ) তাকে কান্না করার কারন জিজ্ঞেস করলেন? জবাবে সাদ (রা: ) বলতে শুরু করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি আপনার হাতে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি ৮ মাস হল। এই ৮ মাস আমি মদিনার অলিতে গলিতে কত জায়গায় ঘুরলাম বিয়ের জন্য কিন্ত আমি দেখতে অসুন্দর বলে কেউ আমাকে মেয়ে দেয়না। আমি আপনার সকল সুন্নাত পালন করতে পারলেও আপনার একটি সুন্নাত বিয়ে যা আমি পালন করতে পারিনি । তাই আমি ভয়ে কান্না করছি যদি এই সুন্নাত না মানার জন্য আল্লাহ্ আমাকে জান্নাত হতে বঞ্চিত করেন।


রাসুল (স: ) সাদকে বললেন এই মদিনার সবচেয়ে ধনী লোক আমর ইবনে ওহাবের মেয়ে মদিনার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের সাথে আমি রাসূল তোমার বিয়ে দিয়ে দিলাম। এখন তুমি আমর ইবনে ওহাবের বাড়িতে যাও এবং তাকে গিয়ে বল আমি তার মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছি । সাদ (রা: ) আমর ইবনে ওহাবের বাড়িতে গেলেন এবং আমর ইবনে ওহাবকে সব কিছু খুলে বললেন । সাদ (রা: ) এর কথা শুনে আমর ইবনে ওহাব খুব রাগন্নিত হয়ে তার সাথে খারাপ আচরণ করে বাড়ি হতে বের করে দিলেন ।


এদিকে আমর ইবনে ওহাবের মেয়ে ঘরের ভেতর থেকে সব শুনতে পেলেন । যখন আমর ইবনে ওহাব ঘরে ঢুকলেন তার মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো বাবা তোমাকে এত বড় সাহস কে দিল যে রাসূলের কথা অমান্য করলেন? আল্লাহর রাসূল আমার জন্য যে ছেলেকে পছন্দ করেছেন আমিও তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিলাম। মেয়ের কথা শুনে আমর ইবনে ওহাব দৌড়ে রাসূলের দরবারে গেলেন এবং রাসূলের কাছে মাফ চাইলেন। আমার দয়াল নবীজী তাকে মাফ করে দিলেন। আর সাদ (রা: ) এর বিয়ের জন্য ৬০০ দিরহাম মোহরানা ধার্য করলেন এবং বললেন এখন তুমি তোমার স্ত্রীর কাছে যাও। কিন্ত সাদ (রা: ) এত গরীব ছিলেন তার পক্ষে ৬০০ দিরহাম জোগাড় করা সম্ভব ছিল না | তাই অন্যান্য সাহাবীরা মিলে সাদ (রা: ) কে সাহায্য করলেন যাতে উনি উনার স্ত্রীর মোহরানা আদায় করেও নতুন বৌয়ের জন্য কিছু সদাই করতে পারেন। ওদিকে সাদ (রা: ) বাজারে চলে গেলেন কেনাকাটা করার জন্য। যখন নতুন বৌয়ের জন্য কেনাকাটা করতে দোকানে ঢুকলেন হঠাৎ শুনতে পেলেন মদিনার বাজারে কে যেন জিহাদের ডাক দিচ্ছে ? জিহাদের ডাক শুনে সাদ (রা: ) ভাবলেন আমি সাদ ফুলের বিছানা বাসর ঘরে নতুন স্ত্রীর কাছে যাবো না আমি রাসূলের মহব্বতে জিহাদে যাবো । তাই তিনি বিয়ের টাকা খরচ করে যুদ্ধের সরঞ্জাম ক্রয় করে জিহাদে চলে গেলেন।


এদিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সাদ (রা: ) একের পর এক কাফিরকে হত্যা করে জাহান্নামে পাঠাতে লাগলেন। যুদ্ধ করতে করতে এরকম হঠাৎ সাদ (রা: ) শাহাদাতের পেয়ালায় শরবত পান করে শহীদ হয়ে গেলেন। এদিকে যুদ্ধ শেষ হল। দূর হতে দেখা যায় কার যেন লাশ পড়ে আছে ? রাসুল (স: ) ও সাহাবীরা কাছে গিয়ে দেখলেন এ যে সাদের লাশ। মাথার লোহার টুপি ভেঙ্গে মগজ বের হয়ে গেছে আর জিহ্বা বের হয়ে আছে। সাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে রাসূল (স: ) কেঁদে দিলেন আবার পরক্ষণেই আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং আবার আকাশ হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।


একজন যুবক সাহাবী আবু লুবাবা রাসূলকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। রাসুল (স: ) বললেন আমার সাদ ফুলের বিছানা বাসর ঘরে যায়নি, আমার মহব্বতে শহীদ হয়ে গেল তাই স্নেহের কারণে আমার চোখ হতে পানি ঝড়ে পড়ল। আর আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলাম কারণ আল্লাহ আমার সাদকে খুব সুন্দর একটা মাকাম দান করেছেন আর চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হল আমার সাদ শহীদ হয়েছে তাই আকাশের সব দরজা খুলে গিয়েছে। বেহেস্ত হতে অসংখ্য হুর দৌড়ে আসতেছে যে কার আগে কে সাদকে কোলে নিবে ? দৌড় দেওয়ার কারণে হুরদের সামনের পর্দা সরে যাচ্ছিলো যা দেখে আমি রাসূল লজ্জায় চোখ ফিরিয়ে নিলাম।

আল্লাাহু যেন আমাদের সকলের ওনার মত ঈমান নিয়া পরকালে যাবার তৌফিক দান করেন। সকলে বলি আমিন।।।