Blog Archive

Wednesday, March 4, 2015

ইসলামের ইতিহাসে এক মারাত্মক ফিত্না হল ওহাবী নজদী ফিৎনা :-



★ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন ” আমি নজদের জন্য কি করে দোয়া করবো ? কারন নজদ থেকেই তো ভুমিকম্প ও ফিৎনার সৃষ্টি (শুরু) হবে , এবং এখান থেকেই শয়তানের মাথার দিকটার আবির্ভাব ঘটবে।” অর্থাৎ ফিত্নাবাজ দলের প্রধান অংশ এখান থেকেই আবির্ভুত হবে।

দলীল-
√ বুখারী শরীফ -২/১০৫১
√ মিশকাত শরীফ ৫৮২ পৃষ্ঠা- ইয়ামন ও শামের বর্ননা অধ্যায় !

★ the Prophet (s) said, “There (in NAJD ) is the place of earthquakes and afflictions and from there comes out the side of the head of Satan ( শয়তানের মাথার দিকটার আবির্ভাব ঘটবে).”
Sahi Bukhari (Book #88 , Hadith #214 )


তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করেছে যখন তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যায় তখন তাদের পরিচয় পাল্টে ফেলে। যেমন : তাদেরই ১টা দল হেফাজতে ইসলাম নাম দিয়েছিল যদিও এটা রাজনিতিক ফায়দা ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। তেমনি বর্তমানে প্রচলিত ইলিয়াসী ""তাবলিগ"" এর আকিদা হল ""ওহাবীদের"" অনুরুপ (same) আকিদা।

হাদিসে পাকে চির অভিশপ্ত নজদ আর আব্দুল ওহাব নজদীর জন্ম সেই নজদ প্রদেশেই। ভবিষ্যতবাণী হিসেবে সেই ""শয়তানের শিং"" যার প্রভাব আজ সারা পৃথিবীতে বিস্তার করছে ওহাবীয়া ওরফে তাবলিগ or ohabism, Dewbond movement নামে।


Origin Ohabism Fitnah :


ওহাবীদের প্রধান নেতা Muhammad ibn ʿAbd al-Wahhāb

Full name : Muhammad ibn Abd al-Wahhab
Born : 1703 'Uyayna, Najd
Died : 1792 (aged 88–89) Emirate of Diriyah
Era :  18th century
Region : present day Saudi Arabia
Main interests : Aqeedah
Notable ideas : Views on innovations within Islam, Islamic monotheism and polytheism, Takfeer of Associanists who supplicate to dead saints and prophets for divine providence[1][2]

Influenced by : এরা হল প্রাথমিক সুত্রপাতকারী
Ibn Taymiyyah
Mohammad Hayya Al-Sindhi
Ibn Qayyim Al-Jawziyya

Influenced : আব্দুল ওহাবের প্রধান শিষ্য এরা
Abd al-Aziz ibn Abd Allah ibn Baaz
Muhammad ibn al Uthaymeen
Muhammad Nasiruddin al-Albani
Syed Ahmed Khan

Muhammad ibn ʿAbd al-Wahhab (/wəˈhɑːb/; Arabic: محمد بن عبد الوهاب‎; 1703 – 22 June 1792)[3] was a preacher and scholar from Nejd in central Arabia who founded an Islamic movement today often known as "Wahhabism", although many adherents see this as a derogatory term coined by his opponents, and prefer it to be known as "Salafism".[4][5][3][6]


রেফারেন্স সমুহ :- সার্বজনীন wiki থেকে দেখে নিন [১-৬]

http://en.m.wikipedia.org/wiki/Muhammad_ibn_Abd_al-Wahhab




এই কুখ্যাত শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী পরিচয় সম্পর্কে কিতাবে বর্নিত আছে :-

” ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী ১১১৪ হিজরী মুতাবিক ১৭০৩ সালে আরবের নজদ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতার নাম আব্দুল ওহাব। বড় ভাইয়ের নাম সুলাইমান। পিতা ও ভ্রাতা দুজনেই ওই সময় বিজ্ঞ আলেম হিসাবে খ্যাত ছিলেন। কিন্তু আব্দুল ওহাবের কনিষ্ঠ পুত্র ইবনে ওহাব অত্যন্ত উদাসীন ও গোঁড়া চরিত্রের অধিকারী ছিলো। সে তার পিতা ও ভ্রাতার মতের বিপরীত চলতো এবং প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতো এবং মনগড়া নতুন মত প্রচার করে ফিৎনা পয়দা করতো। ১১৪০ হিজরী হতে এই নজদী ফিৎনার সৃষ্টি হয়। সে পবিত্র মক্কা শরীফ মদীনা শরীফের নিরীহ লোকদের পাইকারী হত্যা করে। হেরেমাইন শরীফাইনের বসবাস কারী স্ত্রী- কন্যা দের ধর্ষন করেছে। পুরুষদের দাস এবং মহিলাদের দাসীতে পরিনত করেছে। সাইয়্যিদ বংশের অনেককে শহীদ করেছে। এমনকি মসজিদে নববী শরীফের মূল্যবান সব বিছানা ও ঝাড়বাতি গুলো সে নজদে নিয়ে যায়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের মাজার শরীফগুলোকে এবং আহলে বাইত শরীফ উনাদের মাজার শরীফ গুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। এমনকি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য একদল নজদী অনুসারী উদ্যাত হলে আল্লাহ এক সাপ পাঠিয়ে তাদের হত্যা করলেন।”


এরা নিজে বেপর্দা কিন্তু মানুষকে পর্দার বয়ান করে।

দলীল–
√ ফতোয়ায়ে শামী
√ ইশয়াতে হক্ব
√ সাইফুল মাজাহাব
√ সাইফুল জব্বার


এই প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ” রদ্দুল মুখতার ” কিতাবে বর্নিত হয়েছে–

كما وقع في زماننا في اتباع عبد الوهاب الذين خرجوا من نجد وتغلبوا علي الحرمين وكانوا ينتحلون الي الحنا بلة لكن هم اعتقدوا انهم هم المسلمون وان من خللف اعتقادهم مشركون و استباعوا بذلك قتل اهل السنة و قتل علماء هم

অর্থ- যেমন আমাদের সময় সংঘটিত আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসারীদের লোমহরর্ষক ঘটনা প্রনিধান যোগ্য। তারা নজদ থেকে বের হয়ে মক্কা মদীনার উপর অধিপত্য বিস্তার করেছিলো। তারা নিজেদের হাম্বলী মাজহাবের অনুসারি বলে দাবি করতো। আসলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, তারাই শুধু মুসলমান বাকি সবাই মুশরিক। এজন্য তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদের হত্যা করা জায়িয মনে করেছে , এবং অনেক আলেম কে হত্যাও করেছে !”

দলীল-
√ রদ্দুল মুখতার-৩ খন্ড ৪২৭ পৃষ্ঠা – বাবুল বুগাত !

এছাড়া অনুরুপ বর্ণনা বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ” তাফসিরে সাবী ” ৩ খন্ড ২৫৫ পৃষ্ঠায় ও বর্নিত আছে !

এই ইবনে ওহাব নজদীর কিছু কুফরী আক্বীদা –
* মুসলমান দের তুলনায় কাফিররা লা ইলাহা ইল্লাহ এর অর্থ ভালো জনতো ! ( কাশফুল শুবহাত ৩য় অধ্যায় ৭ পৃষ্ঠা )

* নবীজী মক্কা শরীফের নেককার কাফিরদের মূর্তি ভেঙ্গে অন্যায় করেছেন !( কাশফুল শুবহাত ২য় অধ্যায়)

* রওজা শরীফ জিয়ারত নিষেধ !

* ৬০৬ হিজরী হতে তার সময় পর্যন্ত সবাই কাফের !

* নবীগন রওজা পাকে জীবীত নন !

* চার ইমামের অধিকাংশ কথাই ভুয়া !

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

দলীল–
√আব্দুল ওহাব নজদী রচিত কিতাবুল আক্বায়িদ


ওহাবী মতবাদ কিভাবে সৃষ্টি হলো জানতে Confession of a British Spy বইটি পড়ুন। (গুগলে সার্চ করলে বইটি পাবেন)



দেওবন্দী মৌলবীরা এই নজদীর প্রতি কি ধারনা রাখতো সেটা দেখুন তাহলেই হিসাব সহজে মিলাতে পারবেন।

(১) দেওবন্দী দের ইমাম রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী বলেছে-

” মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসারী কে ওহবী বলা হয় । তার আক্বীদা ভালো ছিলো !”

দলীল-
√ ফতোয়ায়ে রশিদীয় ১/১১৯ – তাকলীদ অধ্যায় !

(২) আশরাফ আলী থানবীর খলীফা শামসুল হক ফরিদপুরী লিখেছে –

” অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে আরব দেশে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নামক এক ধর্মীয় নেতা এবং রাষ্ট্রীয় নেতা গুজারিয়াছেন। ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হইলেও তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন আরব দেশে বেশ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিলেন। অনেকগুলো সংস্কার মূলক কাজও তিনি করিয়াছিলেন !’

দলীল-
√ তাছাউফ তত্ত্ব ৩৮ পৃষ্ঠা !

(৩) বাংলাদেশের ওহবী মতবাদ প্রচারকারী দেওবন্দীদের মাসিক মদীনা পত্রিকায় লিখা হয়েছে –

” শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদি ছিলেন আরবের একজন সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) আলেম। ধর্মের নামে ভন্ডামীর বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।”

দলীল-
√ মাসিক মদীনা- সেপ্টেম্বর,২০১০ সংখ্যা ! ৫০ পৃষ্ঠা !


★★★ এবার এদের সম্পর্কে কিছু ভবিষ্যতবানী হাদিস থেকে *****







♦HADITH---

Hazrat Abu Huzaifa (Radiallhu Anhu) narrates a Hadith concerning the leaders of the mischief makers: “I swear by Allah that the Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) has not left out a single leader of Fitna from this day to the day of Qiyamah. Their followers would number 300 or more and further gave their names and that of their tribes.” (Abu Dawood)

♦HADITH---

Narrated Ibn ‘Umar: The Prophet (s)said, “O Allah! Bestow Your blessings on our Sham! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.” The People said, “And alsoon our NAJD .” He said, “O Allah! Bestow Your blessings on our Sham(north)! O Allah! Bestow Your blessings on our Yemen.” The people said, “O Allah’s Apostle! Andalso on our NAJD .” I think the third time the Prophet (s) said, “There (in NAJD ) is the place of earthquakes and afflictions and from there comes out the side of the head of Satan.” Sahi Bukhari (Book #88 , Hadith #214 )



♦HADITH----

Abdullah bin Umar (Radiallhu Anhu) narrates in Muslim Shareef: “The Holy Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) once emerged from the room of his wife, Hazrat Ayesha (Radiallahu Anha) and pointing towards Najd exclaimed:
‘This is the center of Kufr from where the horn of Shaitaan will rise’.”
(Muslim Shareef Vol. ii, PP. 1394)

♦HADITH----

Malik related to me from Abdullah ibn Dinar Radi Allahu anhu that Abdullah ibn Umar Radi Allahu anhu said, “ I saw the Messenger of Allah Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam pointing at the EAST ( Najd) and saying, ‘The cause of dissension is here. The cause of dissension is here, from where the helpers of shaytan arise.’ “

IMAM MALIK’S Radi Allahu anhu MUWATTA (Book #54, Hadith #54.11.29)

♦HADITH---

Sahl b. Hunaif reported Allah’s Apostle Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam as saying: There would arise from the east( Najd) a people with shaven heads. Sahi Muslim (Book#005, Hadith #2338)

(Mishkat Shareef pp/309 – Prints may vary and pages may be different in other publications)


♦HADITH----

Ibn ‘Umar reported
that he heard Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying (in a state) that he had turned his face towards the EAST ( Najd) : Behold, turmoil would appear from this side, from where the horns of Satan would appear.

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6938 )

U can seE here also::- this hadith in some different narration

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6939 )

Sahi Muslim
Book #041 , Hadith #6940 )

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6942 )

Sahi Muslim
(Book #041 , Hadith #6943 )

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0087 )

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0088 )


♦HADITH----

It is reporter on the authority of Abu Huraira that the Messenger of Allah (may peace and blessings be upon him) observed: There came the people of Yemen who are soft of hearts, tender in feelings: the beliefis that of the Yemenites, the sagacity is that of the Yemenites and the summit of unbelief is towards the EAST ( Najd)
.
Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0092 )

♦HADITH----

It is reported on the authority of Jabir b. Abdullah that the Messengerof Allah (may peace and, blessings be upon him) observed: The callousness of heart and sternness is in the EAST ( Najd) and faith is among the people of the Hijaz(Medina).

Sahi Muslim
(Book #001 , Hadith #0095 )

★NAJD IS THE CENTRAL EASTERN PART OF ARABIA LYING EXACTLY TO THE EAST OF HEJAZ OR MEDINAH, PRESENTLY CALLED AS RIYADH HAIL , BURRAYDAH THE CAPITAL OF HYPOCRITES WAHHABIS AND SALAFIS , THE BIRTHPLACE OF THE GREAT DEVILS AND FITNAH IBN ABDUL WAHHAB AND THE PRESENT WAHHABI SALAFI SAUD DYNASTY



♦HADITH----

It is reported in Mishkat from Hazrat Abu Said Khudri (Radiallhu Anhu) who narrates that: “Once we
were in the presence
and company of the Holy Prophet (sallallahu alai hi wa sallam). He was distributing the booty (Spoils ofWar) when a person
named Zul-Khawaisara, who was from the tribe of Bani Tamim(Prominent Najd Tribe) addressed the Holy Prophet
(sallallahu alai hi wa sallam) “Oh Muhammad Be Just!” “. The Prophet(Sallal Laahu Alaihi Wasallam) replied: “A Great pity
that you have doubts, if I am unjust then who will be just, you are a loser and a failure. “
Zul-Khawaisara’s attitude infuriated
Hazrat Umar (Radiallhu Anhu) and he pleaded with the Prophet (sallallahu alai hi wa sallam)to permit
him to slay
Zul-Khawaisara. The Prophet (sallallahu alai hi wa sallam) remarked: “Leave him, as his slaying will serve no good purpose,
as he is not the only individual but there are a host of others like him and and if you compare their
prayers and fasting to
that of yours, you yourself will feel ashamed. These are the people whowill recite the Quran but it will
not go beyond their
throats, with all these apparent virtues they will leave the fold of Deen just like the arrow leaves the
bow.

Miskhat Shareef, pp/535 /

Sahi Bukhari 9:527 & 8:184

SAHI BUKHARI (Book #84 , Hadith #67 )






                              IMPORTANT NOTE :



                              1) Ibn ‘Abd al-Wahhab :

""" belonged to the """"Bani Tamim tribe"""". He was born in Uyayna village near the town of Huraimila in the Najd Desert
in 1111 A.H. (1699) and died in 1206 (1792).

                              2) Zul Khuwaisra :

– the man who showed so much disrespect to the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) was from the """"tribe of Bani
Tamim(a Prominent Tribe of Najd)""""

                                     NOTE :

THE HADITH OF NAJD (নজদ) AND EAST (পুর্বাঞ্চল) ARE

1.NAJD IS NAJD AND IRAQ IS IRAQ
2.PROPHET MUHAMMAD (SAW) CLEARLY
distinguished between Najd and
Iraq. (রাসুলুল্লাহ সা. স্পষ্টভাবে নজদ ও ইরাকের পার্থক্য সহিহ হাদিসে দ্বারা করে দিয়েছেন আমি নিজে পড়েছি এগুলো সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে)

------------------------------------



♦Narrated Ibn ‘Umar: I took part in a Ghazwa towards NAJD along with Allah’s Apostle and we clashed with the enemy, and we lined up for them.

Sahi Bukhari
(Book #59 , Hadith #455 )


♦It is also established in the authentic Sunna that after Abu Talib’s death by about three years, in the 10th year of the Hijra,

""""""""""""""""on the
actual night that the Prophet was preparing to leave Makka for Madina, they plot to kill him by the
collective hand of a conspiracy of the tribes was hatched up by Iblis in the guise of a venerable old man
(shaykh jalîl) who, when asked who he was, he simply answered”An old man from Najd” (shaykhun min
Najd). The reports go on to refer to him as “The Old Man from
Najd” (al-shaykh al-najdî).


★Hadith cited by Ibn Hisham, al-Sira al-Nabawiyya (3:6-8);
★al-Tabari, Tafsir (9:227-228) and
★Tarikh (1:566-567);
★Ibn Kathir, Tafsir (“sahîh” 2:303 on verse 8:30) and
★al-Bidaya wa al-Nihaya;
★al-Suyuti,
★al-Durr al-Manthur (verse 8:30).


HADITH----

Hazrat Imraan, the son of Hazrat Haseen (Radiallhu Anhu) reports:

that the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) disliked three tribes life long.

(1) Banu Saqeef;

(2) Banu Hanifa(a Najd Tribe );

(3) Banu Umayya.

Hadith (Tirmizi Shareef)

♦IMPORTANT NOTE :
Ibn ‘Abd al-Wahhab belonged to theBani Tamim tribe

________________________________

Zul Khuwaisra – the man who showed so much disrespect to the Prophet (Sallal Laahu Alaihi Wasallam) was from the tribe of Bani
Tamim(a Prominent Tribe of Najd).

"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
The royal family of Saudi Arabia, Al Saud , , trace their lineage to """"""""Banu Hanifa Tribe of Najd""""""""""""""""
Moulana Muhammad Ali Jauhar""""""""""""""""
has made the following observations about the Wahhabi Najdi
Jamaat



♦HADITH----

Sahl b. Hunaif reported Allah’s Apostle Salla Allahu ta’ala ‘alayhi wa Sallam as saying: There would arise from the east( Najd) a people with shaven heads.

Sahi Muslim (Book#005, Hadith #2338)

visit here for more details. here shown this najd with map :-
এই লিংকে বিস্তৃত ভাবে ম্যাপ সহ দেয়া হয়েছে :-

https://najd2.wordpress.com/










Tuesday, March 3, 2015

লোক দেখানো আমল বা রিয়াকারীর শাস্তি :-

© আমাদের সকল কাজ ও ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত :-


★ “আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু - বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।”
সুরা আল-আনআ’মঃ ১৬২।


© শিরিক ও এর প্রকারভেদ :-

শিরক একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ সমকক্ষ করা, মিলানো, সংমিশ্রণকরা, একত্রকরণ, অংশীদার, ভাগাভাগি, সমান করা, সম্পৃক্ত করা

★ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তুমি যদি শিরক করো, তাহলে তোমার আমল নিষ্ফলহয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা জুমার :৬৫)।

শিরক দুই প্রকার :
(১) শিরিকে আকবর বা বড় শিরিক। যেমন : আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা এবং তার ইবাদত করা,
(২) শিরিকে আসগর বা ছোট শিরিক। যেমন : লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ কাজকরা।



এই পোস্টের মুল আলোচনা রিয়া :-


© রিয়া কি?


★ রিয়া হল লোকের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কোন ইবাদাত করা। { ফাতহুল মাজীদ, পৃঃ- ৫৩০}


© রিয়ার ছোট বা গুপ্ত শিরিক এবং এর পরিনাম সম্পর্কে :-


★ লোক দেখানো নামাজ মুনাফিকদের ১টি কাজ ছিল :-

وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّـهَ إِلَّا قَلِيلًا

আর এই মুনাফিকরা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, লোকদের দেখায় এবং আল্লহ তায়া’লার যিকির খুবই কম করে। (সূরা নিসাঃ ১৪২)


★ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ

অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, [সুরা মাউন: ৪]

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ

যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; [সুরা মাউন: ৫]

الَّذِينَ هُمْ يُرَاؤُونَ

যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে [সুরা মাউন: ৬]



★ রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদাত করা ছোট শির্ক। যা কবীরা গুণাহর চাইতেও ভয়ংকর।


★ রিয়াকে গুপ্ত শির্ক বলা হয়েছে। যা মাসীহ দাজ্জালের চাইতেও মারাত্মক। { ইবনু মাজাহ, হা/ ৫২০৪}


★ রাসুল (সা) যুগে রিয়াকে ছোট শিরকে গণ্য করা হতো। { তাবারানী, হা/ ৭১৬০; হাকিম, ৪/ ৩২৯ ; ছহীহ তারগীব, ১/ ১৮}


★ মাহমুদ ইবন লুবাইদ বর্ণনা করেছেন:
 “রাসূল (সা) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশী ভয় করি, তা হল ছোট শিরক বা শিরক আল আসগার।’ সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, ছোট শিরক কি?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘রিয়া (লোক দেখানোর জন্য কাজ করা), নিশ্চয়ই আল্লাহ পুনরুত্থান দিবসে প্রতিদান দেওয়ার সময় লোকদের বলবেন, ”পার্থিব জীবনে যাদেরকে দেখানোর জন্য তোমরা কাজ করেছিলে, তাদের কাছে যাও এবং দেখ তাদের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পার কিনা।’ ” (আহমাদ, বায়হাকী,তাবারানী,বাগাভী)


★আরেকটি হাদীসে মাহমুদ ইবন লুবাইদ বলেন,
 “রাসূল (সা) বের হয়ে এলেন এবং ঘোষণা করলেন, ‘হে জনগণ, গোপন শিরক সম্বন্ধে সাবধান!’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, গোপন শিরক কি?’ তিনি বললেন, ‘যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায় এবং লোকে তাকিয়ে দেখছে জেনে তার সালাত সুন্দরভাবে আদায়ের চেষ্টা করে; এটাই গোপন শিরক।’ ”
{ ইবনু মাজাহ, হা/ ৪২৭৯ ; আহমাদ, ৩/ ৩০; ইবনু খুযাইমাহ, হা/ ৯৩৭ }


★  হযরত যুনদুব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য এবং মানুষের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য কোন আমল করে আল্লাহ তাআলা তার অবস্থা মানুষকে শুনিয়ে দিবেন। (অথাৎ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের সামনে তার দোষ-ক্রটি প্রকাশ করে তাকে অপমান ও অপদস্ত করবেন।) আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করে আল্লাহ তাআলা তাকে রিয়াকারীর শাস্তি দিবেন।

(বুখারী- ২/৯৬২, মুসলিম- ২/৪১২, তিরমিযী- ২/৬১,ইবনে মাজাহ- ২/৩১০, মুসনাদে আহমাদ- ৩/৪০, শুয়াবুল ঈমান- ৫/৩৩০, তারগীব- ১/৩১, মেশকাত- ৪৫৪)
কোন কোন আলেম এর উদ্দেশ্যে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, রিয়াকারীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার প্রাপ্ত ছওয়াব শুধু দেখাবেন, দিবেন না । ছওয়াব দেখে সে খুব আফসোস করতে থাকবে।


★ রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ
“কিয়ামাতের দিন যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্ত্বার কিয়দংশ উন্মোচিত করবেন, তখন ঈমানদার নারী-পুরুষগণ সকলেই তাঁর সম্মুখে সিজদায় পড়ে যাবে। তবে সিজদা থেকে বিরত থাকবে কেবল ঐ সমস্ত লোক, যারা দুনিয়াতে মানুষকে দেখানোর জন্য ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য সিজদা (সালাত আদায়) করতো। তারা সিজদা করতে চাইবে বটে, কিন্তু তাদের পিঠ ও কোমর কাঠের তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে (ফলে সিজদা করতে পারবে না)।”
বুখারী, মুসলিম, মিশকাতঃ ৫৩০৮।


★ হান্নাদ (রহঃ) আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কেউ বাহাদুরী প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, কেউ গোত্রীয় গৌরব রক্ষার্থে লড়াই করে আর কেউ রিয়াকারী করে লড়াই করে এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এই জন্য লড়াই করে যেন আল্লাহর নাম সমুন্নত হয় সে ব্যক্তই আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত। এই বিষয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত রিওয়ায়াতটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নম্বরঃ 1652
গ্রন্থের নামঃ জামে তিরমিজী (ইফাঃ)



★ আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হবে একজন (ধর্মযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী) শহীদ। তাকে আল্লাহ্‌র নিকট উপস্থিত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ পাক তাকে (দুনিয়াতে প্রদত্ত) নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। এরপর আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, দুনিয়াতে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য (কাফেরদের সাথে) লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তোমাকে যেন বীর-বাহাদুর বলা হয়, সেজন্য তুমি লড়াই করেছ। আর (তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী) তোমাকে দুনিয়াতে তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে। তখন তাকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অতঃপর সে ব্যক্তিকে বিচারের জন্য উপস্থিত করা হবে, যে নিজে দ্বীনী ইলম শিক্ষা করেছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। আর পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করেছে (এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে)। তাকে আল্লাহ্‌ পাকের দরবারে হাযির করা হবে। অতঃপর তিনি তাকে নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন এবং সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি স্বয়ং দ্বীনী ইলম শিক্ষা করেছি এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে কুরআন তেলাওয়াত করেছি।

তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং তুমি এজন্য ইলম্ শিক্ষা করেছ, যেন তোমাকে ‘বিদ্বান’বলা হয় এবং এজন্য কুরআন অধ্যয়ন করেছ, যাতে তোমাকে‘ক্বারি’ বলা হয়। আর (তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী ) তোমাকে বিদ্বান ও ক্বারীও বলা হয়েছে। অতঃপর (ফেরেশতাদেরকে) তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে। সুতরাং তাকে উপুড় করে টানতে টানতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অতঃপর এমন এক ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত করা হবে, যাকে আল্লাহ্ তাআলা বিপুল ধন-সম্পদ দান করে বিত্তবান করেছিলেন। তাকে আল্লাহ্‌ তাআলা প্রথমে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর সে তখন সমস্ত নেয়ামতের কথা অকপটে স্বীকার করবে। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, যে সমস্ত ক্ষেত্রে ধন- সম্পদ ব্যয় করলে তুমি সন্তুষ্ট হবে, তোমার সন্তুষ্টির জন্য সেসব খাতের একটি পথেও ব্যয় করতে ছাড়িনি। আল্লাহ্‌ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়; বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে দান করেছিলে, যাতে তোমাকে বলা হয় যে, সে একজন ‘দানবীর’। সুতরাং (তোমার অভিপ্রায় অনুসারে দুনিয়াতে) তোমাকে ‘দানবীর’বলা হয়েছে। অতঃপর (ফেরেশতাদেরকে) তার সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দেশ মোতাবেক তাকে উপুড় করে টানতে টানতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে । [মুসলিম হা/১৯০৫ ‘নেতৃত্ব’অধ্যায়, অনুচেছদ-৪৩; মিশকাত-আলবানী হা/২০৫, ‘ইলম’অধ্যায় ]


★ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনো শিরক থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ একটা দুয়াঃ

আবু মুসা বলেন, “একদিন আল্লাহর রাসূল (সা) এক ভাষণে বললেন ‘হে লোকসকল, শিরককে ভয় কর, কারণ এটি পিঁপড়ার চুপিসারে চলার চেয়েও গুপ্ত।’ যারা আল্লাহ চেয়েছিলেন জিজ্ঞাসা করল, ‘আমরা কিভাবে এ থেকে বেঁচে থাকব যদি তা পিঁপড়ার চলার চেয়েও গুপ্ত হয়, ইয়া রাসূলুল্লাহ?’ তিনি বললেন,


اللَّهُمَّ  إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লাম, ওয়া আস-তাগফিরুকা লিমা লা আ’লাম।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমার অজানা অবস্থায় কোনো শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আহমাদ ৪/৪০৩, হাদীসটি সহীহ, সহীহ আল-জামে ৩/২৩৩।
হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ২৪৬।

Friday, February 13, 2015

নারী ও পুরুষের নামাজের মধ্যে পার্থক্য :-



০) * নারীর জন্য আযান-ইকামত নেই পুরুষের জন্য তা ওয়াজিব :-

★ পুরুষ :-

সালাতের কার্যাদি শুরু করার প্রাথমিক ধাপ আযান দেওয়া । এ প্রসঙ্গে অসংখ্য হাদীস শরীফ বর্নিত হয়েছে । তন্মধ্যে দু-একটি উল্লেখ করছি । ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ননা করেন, নবী করিম (সঃ) বলেন

যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মাঝের বড়জন ইমামতি করবে ।
— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৮
ইমাম আহমাদ (রহঃ) বর্ননা করেন- নবীজি (সঃ) বলেন

কোন গ্রামে তিনজন থাকাকালে আযান ও জামা’আত অনুষ্ঠিত না হলে শয়তান তাঁদের উপর বিজয়ী হয় ।
— আহমদ ,হাদিস নং ২১৭১০, সকল ইমামের মতে হাদিসখানা গ্রহনযোগ্য । লা-মাযহাবীদের মান্যবর মুহাদ্দিস শুয়াইব আল আরনাউত এ হাদীসকে হাসান(উত্তম) বলেছেন

★ নারী :-

ইমাম বায়হাকী (রহঃ) সহীহ্‌ সনদে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ননা করেন নবীজী (সঃ) বলেছেন

মহিলাদের উপর আযান ও ইকামত কোনটিই নেই ।
— সুনানে কুবরা, হাদীস নং ১৯২০,
কাজী শাওকানী হাদীসখানাকে সহিহ বলেছেন  নাইলুল আওতার ২/৩৯
আরো সহিহ হাদীসে রয়েছে

মহিলাগন অষ্পষ্টভাষী ও আচ্ছাদিত থাকার বস্ত । সুতরাং তোমরা তাঁদের অস্পষ্টতাকে চুপ থাকার দ্বারা এবং ঘরে থাকার দ্বারা তাদের গোপনীয়তাকে রক্ষা কর ।
— তারতীবুল আমালী , হাদিস নং ২০১



১) তাকবীরে তাহ্‌রীমার সময় পুরুষ চাদর ইত্যাদি হইতে হাত বাহির করিয়া কান পর্যন্ত উঠাইবে, যদি শীত ইত্যাদির কারণে হাত ভিতরে রাখার প্রয়োজন না হয় । স্ত্রীলোক হাত বাহির করিবে না, কাপড়ের ভিতরে রাখিয়াই কাঁধ পর্যন্ত উঠাইবে । - তাহ্‌তাবী

★ সালাতে পুরুষগণ কান বরাবর হাত উত্তোলন করবে । এ বিষয়ে অনেক হাদীস শরীফ বর্নিত হয়েছে । ইমাম দারা কুতনী (রহঃ) বর্ননা করেন হযরত আনাস (রাঃ) বলেন,

রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন সালাত শুরু করতেন তাকবীর বলে দু’হাত এমনভাবে উঠাতেন যে দু’বৃদ্ধাঙ্গুলী কান বরাবর হত ।
— দারা কুতনী, হাদীস নং ১১৪৮, তিন বলেন এ সনদের সকল বর্ননাকারী নির্ভরযোগ্য

কেউ কেউ এ কথা বলতে চেষ্টা করেন যে, হাদীসে তো পুরুষ অথবা নারী কারো কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই বিধায় এটা সকলের জন্য প্রযোজ্য । কিন্তু হুজুরে আকরম (সঃ) মহিলাদেরকে আলাদাভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা বুক বরাবর হাত উত্তোলন করবে ।

★ ইমাম তাবরানী (রহঃ) মু’জামুল কাবীরে হাসান সনদে হাদীস শরীফ বর্ননা করেছেন যে,

হযরত ওয়াইল বিন হুজর (রাঃ) নবীজি (সঃ) এর দরবারে আসলে তিনি তাকে বললেন হে ওয়াইল বিন হুজর তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন দু’হাত কান বরাবর উত্তোলন করবে আর মহিলা তার বুক বরাবর হাত উত্তোলন করবে ।

— তাবরানী (রহঃ) মু'জামুল কাবীর, মাজমাউয যাউয়াইদ হাদিস নং ২৫৯৪ , ইমাম হাইসামী (রহঃ) বলেন এই হাদিসে উম্মু ইয়াহইয়া ব্যতীত সকল রাবী সিকা

★ সাহাবীর আমলঃ
মহিলা সাহাবী হযরত উম্মু দারদা (রাঃ) তাকবীরে তাহরীমাতে কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন । ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ননা করেন

তিনি সালাতে কাঁধ বরবর হাত উঠাতেন ।
— জুযঊ রফউল ইয়াদাইন , হাদিস নং ৫০

★ বিখ্যাত তাবেঈ ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (রহঃ) বলেন

মহিলা তার দু হাত কাঁধ বরাবর উঠাবে
— মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা, হাদিস নং ২৪৭২, হাদিসখানা গ্রহনযোগ্য

★ প্রসিদ্ধ তাবেঈ ইমাম আত্বা ইবনু আবি রাবাহ (রঃ) এর ফাতাওয়াঃ

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, মহিলা সালাতে হাত কিভাবে উঠাবে ? তিনি বলেন, তার বুক বরাবর ।
— মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা , হাদিস নং ২৪৭১

★ প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম ইবনু সীরিন (রহঃ) এর কন্যা হাফসা (রহঃ) থেকেও উক্ত আমল প্রমানিত । ইমাম ইবনু শাইবা (রহঃ) বর্ননা করেন

হাফসা বিনতে সীরিন (রহঃ) বুক বরাবর হস্তদ্বয় উঠিয়ে তাকবীর বললেন ।
— মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা , হাদিস নং ২৪৭৫





২) তাকবীরে তাহ্‌রীমা বলিয়া পুরুষ নাভির নিচে হাত বাধিবে । স্ত্রীলোক বুকের উপর (স্তনের উপর ) হাত বাঁধিবে । - তাহ্‌তাবী -


★ মহিলাগণ তাকবীরে তাহরীমা বলে তাদের হাতকে বুকের উপর জড়সড় অবস্থায় রাখবে । ইমাম ইবন আবি শাইবা (রহঃ) সহীহ সনদে বর্ণনা করেন

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) কে মহিলাদের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন- খুব জড়সড় ও অঙ্গের সাথে মিলিয়ে সালাত আদায় করবে ।মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা
— হাদিস নং ২৭৭৮, হাদীসখানা সহীহ
এ হাদীসখানা দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, মহিলারা তাকবীরে তাহরীমা বলা হপর হাত দুখানা বুকে রাখবে ।

★ তাবেঈর বক্তব্য
ইবনু জুরাইজ হযরত আত্বা (রঃ) হতে বর্ননা করেন, তিনি বলেছেন-

মহিলাগণ দাঁড়ানো অবস্থায় সাধ্যমত তার দু’হাত একত্রিত করে রাখবে ।
— মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৫০৬৭
একটু চিন্তা করলেই বুঝা সম্ভব যে, দু’হাত সাধ্যমত মিলিয়ে রাখা তখনই সম্ভব যখন তা একত্রিতবস্থায় বুকের উপরে থাকবে ।




৩) পুরুষ হাত বাঁধিবার সময় ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলী দ্বারা হালকা বানাইয়া বাম হাতের কব্জি ধরিবে এবং ডান হাতের অনামিকা, মধ্যমা ও শাহাদত অঙ্গুলী বাম হাতের কলাইর উপর বিছাইয়া রাখিবে । আর স্ত্রীলোক শুধু ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠের উপর রাখিয়া দিবে, কব্জি বা কলাই ধরিবে না । -দুররুল মুখতার

৪) রুকু করিবার সময় পুরুষ এমনভাবে ঝুঁকিবে যেনো মাথা, পিঠ ও চুতড় এক বরাবর হয় । স্ত্রীলোক এই পরিমাণ ঝুঁকিবে যাহাতে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে ।

৫) রুকুর সময় পুরুষ হাতের আঙ্গুলগুলি ফাঁক ফাঁক করিয়া হাঁটু ধরিবে । আর স্ত্রীলোক আঙ্গুল বিস্তার করিবে না বরং মিলাইয়া হাত হাঁটুর উপর রাখিবে ।

৬) রুকুর অবস্থায় পুরুষ কনুই পাঁজর হইতে ফাঁক রাখিবে । আর স্ত্রীলোক কনুই পাঁজরের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে । -মারাকী


৭) সিজদায় পুরুষ পেট উরু হইতে এবং বাজু বগল হইতে পৃথক রাখিবে । পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক পেট রানের সঙ্গে এবং বাজু বগলের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে ।
৮) সিজদায় পুরুষ কনুই মাটি হইতে উপরে রাখিবে । পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক মাটির সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে ।-মারাকী-

★ ৭ ও ৮ একসাথে :-

পুরুষগণ সিজদা করার সময় হাতকে পেট, উরু ও জমিন হতে উঠিয়ে রাখবে । আর মহিলাগণ একটিকে অন্যটির সাথে মিলিয়ে জমিনে লাগিয়ে দেবে ।

নবী পাক (সঃ) এর নির্দেশঃ
ইমাম আবু দাউদ, বায়হাকী বর্ণনা করেন

ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব (রাঃ) হতে বর্ণিত নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ (সঃ) সালাতরত দু’জন মহিলাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন- তোমরা যখন সিজদা করবে তখন শরীর জমিনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয় ।
— আবু দাউদ মারাসিল হাদিস নং ৮০, বায়হাকী হাদিস নং ৩৩২৫

এ হাদীসের ক্ষেত্রে সালাফী দাবীদারগণের অবস্থান
পাক ভারত উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ লা-মাজহাবী আলেম মাওলানা নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান সাহেব বলেন- উল্লেখিত হাদীসখানা সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলিল প্রদানের যোগ্য । আওনুল বারী শরহে বুখারী ১/৫২০ এমনকি আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস দ্বয়িফাতে এ হাদীসের ব্যাপারে শুধুমাত্র ইরসাল ছাড়া অন্য কোন দোষ বর্ণনা করতে পারেন নি ।

ইমাম বায়হাকী (রঃ) হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন নবীজী (সঃ) বলেছেন

যখন মহিলা সিজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী । সুনানে কুবরা, হাদিস নং ৩১৯৯
— হাদিসটি হাসান
সাহাবীর বক্তব্য
ইমাম আব্দুর রাজ্জাক হযরত আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন

মহিলা যখন সিজদা করবে তখন যেন খুব জড়সড় হয়ে উরুদ্বয়কে পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফ
— হাদিস নং ৫০৭২
তাবেঈর বক্তব্য
হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন

মহিলা সিজদার সময় এক অংগ অন্য অঙ্গের সঙ্গে মিলিয়ে জড়সড় হয়ে সিজদা করবে ।
— মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা , হাদিস নং ২৭৯৭


৯) সিজদার মধ্যে পুরুষ পায়ের আঙ্গুলগুলি কেবলার দিকে মোড়াইয়া রাখিয়া তাহার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতা দুইখানা খাড়া রাখিবে; পক্ষান্তরে স্ত্রীলোক উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া মাটিতে বিছাইয়া
রাখিবে ।-মারাকী

১০) বসার সময় পুরুষ ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি কেবলার দিকে মোড়াইয়া রাখিয়া তাহার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতাটি খাড়া রাখিবে এবং বাম পায়ের পাতা বিছাইয়া তাহার উপর বসিবে । আর স্ত্রীলোক পায়ের উপর বসিবে না বরং চুতড় নিতম্ব) মাটিতে লাগাইয়া বসিবে এবং উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া দিবে; এবং ডান রান বাম রানের উপর এবং ডান নলা বাম নলার উপর রাখিবে ।-মারাকী

১১) স্ত্রীলোকের জন্য উচ্চ শব্দে কেরাআত পড়িবার বা তকবীর বলিবারও এজাযত নাই । তাহারা সব সময় সব নামাজের কেরাআত (তকবীর, তাস্‌মী ও তাহ্‌মীদ) চুপে চুপে পড়িবে -শামী

অভিশপ্ত ইয়াজিদ (লানতুল্লাহ) সম্পর্কে ভবিষ্যৎবানী :-

Related Topics :-

কারবালার ক্রিমিনাল কুখ্যাত ইয়াজিদ ড. জাকির নায়েকের চোখে হিরো ! (Mega post)

http://goo.gl/2aqwdm 

কাফির ইয়াজিদ কি ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকারী? 

http://goo.gl/hyGvBy 

ইয়াযীদ সম্পর্কে মহানবী(সাঃ) এর ভবিষ্যত বাণী :-

# তৃতীয় শতাব্দীর এক বিখ্যাত মুহাদ্দীস ইমাম আবু ইয়া’আল(রঃ) তাঁর মুসনাদ(ভলি. ২, পেজ ৭১) সহীহ চেইনে উল্লেখ করেনঃ
হযরত আবু উবায়দাহ বিন জারাহ(রাঃ) থেকে বর্ণীত, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন – “মুসলিম উম্মাহ এর যাবতীয় কাজ কারবারে ততক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণতা পরিলক্ষিত হবে যখন বনি উম্যায়াহ গোত্রের এক জন এসে দ্বীনের মধ্যে ফাটল ধরাবে। তার নাম হবে ইয়াজিদ”
হাদীসটির বর্ণনাকারীর সকলেই সৎ এবং নির্ভরযোগ্য।

# আরেক বিখ্যাত মুহাদ্দীস ইমাম সাহাবুদ্দীন আহমেদ বিন হাজর হায়তামী(রঃ) তাঁর আস-সাবাক আল-মুহরিকা গ্রন্থের ১৩২ পৃঃ একই হাদীস উল্লেখ করেছেন।
হযরত আবু দারদা(রাঃ) বলেছেন, “আমি শুনেছিলাম রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন – আমার সুন্নাহকে পরিবর্তনকারী প্রথম ব্যক্তি হবে বনি উম্যায়াহ গোত্রের ইয়াজিদ”।

# হাফিজ ইবন কাথীর(রঃ) একই হাদীস উল্লেখ করেছেন তাঁর সুবিখ্যাত আল-বিদ্যায়াহ আন-নিহ্যায়াহ গ্রন্থের ভলি. ৬, পেজ ২৫৬ তে হযরত আবুযার ঘিফারী(রাঃ) থেকে। এই বর্ণনায় ‘যার নাম ইয়াজিদ হবে’ এই কথাটি অনুপস্থিত।

# হাদীসটি এই গ্রন্থেও বর্ণীত আছে
মুসান্নাফ ইবন আবি শায়বা- ভলি. ৮, পেজ ৩৪১, হাদীস নং ১৪৫; দালাইল উন নবুয়্যাত লিল বায়হাকী আবওয়াব ঘাজওয়া তাবুক- হাদীস নং ২৮০২; মাতালিব আল-আলিয়্যাহ- হাদীস নং ৪৫৮৪।

# আমর বিন ইয়াহিয়া সায়ে’দ বিন আমর বিন সায়ে’দ তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) এর সাথে মসজিদে নববীতে বসেছিলাম এবং মারওয়ান আমাদের সাথে ছিলেন। হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) বলেছিলেনঃ “আমি শুনেছিলাম রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, কুরাইশ বংশের কিছু যুবকদের দ্বারা আমার উম্মত ধ্বংস প্রাপ্ত হবে”। মারওয়ান বলেন, আল্লাহ এই ধরণের যুবকদের অভিশাপ দেন। হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) বলেন, আমি বলতে পারি অমুক, অমুকের পুত্র অমুক, তমুকের পুত্র তমুক যদি আমি চাই। হযরত আমর বিন ইয়াহিয়া বলেন, আমি আমার দাদার সাথে বনী মারওয়ানে গিয়েছিলাম যখন তারা সিরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং এক জন যুবককে দেখতে পেলাম। আমার দাদা বললেন তারাও তাদের একজন হবে। আমরা বললাম তা আপনি ভাল বলতে পারবেন।
[সহীহ বুখারী ভলি. ২, কিতাবুল ফিতনা]

# হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) সূত্রে বর্ণীত, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন- আল্লাহ তা’আলার সাহায্য প্রার্থনা কর ৭০ দশক হতে এবং এক যুবকের রাজত্বকাল হতে।
[মুসনাদ ইমাম আহমদ, হাদীস নং ৩৮০০]

# সহীহ বুখারী শারীফের ব্যাখ্যাকারী এবং ফাতহুল বারীর লেখক হাফিজ আহমদ বিন হাজর আসকলানী(রঃ) মুসান্নাফ ইবন আবি শায়বা সূত্রে বর্ণনা করে লিখেন, মুসান্নাফ ইবন আবি শায়বার হাদীসে বলা আছে, হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) বাজারে যাওয়ার সময় প্রার্থনা করত ‘ও আল্লাহ, আমাকে ৬০ A.H. এবং যুবকের রাজত্বকাল পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখ না’


হাফিজ ইবন হাজর আসকলানী(রঃ) এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এই হাদীসে ৬০A.H. এ এক জন শাসকের কথা বলা হয়েছে। হাদীস অনুসারে তাই ঘটে। ইয়াজিদ বিন মুয়্যাবিয়্যা এই বছরেই শাসনে বসেন ৬৪A.H. পর্যন্ত এবং এই সময়ে মারা যান।

# সহীহ বুখারীর বর্ণোনাকারী ইমাম বদরুদ্দীন আইনি(রঃ) সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘প্রথম বালক যে শাসন করবে’ এই কথা দ্বারা ইয়াজিদকে বুঝানো হয়েছে।
[উমদাত উল কাদরী ভলি. ১৬, পেজ ৩৩৩]

মূলত এই কারণে আগেরকার যুগের বড় বড় আলেমগণ ইয়াজিদ বিন মুয়্যাবিয়্যার নামের শেষে ‘আল্লাহ এর লানত বর্ষিত হোক’ কথাটি লিখতেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েক জন হলেন –

# Imam Ibn Hajr (rah) made the whole title in his book al-Imta bil al-Arb’ain as “SENDING LANAH ON YAZID (لعن يزيد)”
وأما المحبة فيه والرفع من شأنه فلا تقع إلا من مبتدع فاسد الاعتقاد فإنه كان فيه من الصفات ما يقتضي سلب الإيمان عمن يحبه لأن الحب في الله والبغض في الله من الإيمان والله المستعان
Translation: Loving and glorifying him (Yazid) is not done “EXCEPT BY A HERETIC” who has void belief because he (Yazid) had such characteristics that his lover deserves to be faithless, because to love and hate just for the sake of God is a sign of faith. [Publisher’s name: Dar ul Kutb al iLmiyyah, Beirut, Lebanon, Book name: al-Imta bil al-Arba’in al-Matbainatus Samah (الإمتاع بالأربعين المتباينة السماع), Author: Imam Ibn Hajr al Asqalani (rah), Publication date: 1997, Page No. 96]

قال يحيـى بن عبد الملك بن أبـي غنية أحد الثقات، ثنا نوفل بن أبـي عقرب ثقة قال: كنت عند عمر بن عبد العزيز فذكر رجل يزيد بن معاوية، فقال: قال أمير المؤمنين يزيد، فقال عمر: تقول أمير المؤمنين يزيد، وأمر به فضرب عشرين سوطاً
Translation: Yahya bin Abdul Mulk bin Abi Ghania “WHO WAS AMONGST THIQA NARRATORS” he heard from Nawfl bin Abi Aqrab “WHO IS THIQA” he narrates: Once in the gathering of Umar Bin Abdul Aziz [R.A] people talked about Yazid bin Muawiya, someone among the people mentioned Yazid with the title of Ameer ul Momineen, hearing this Hadrat Umar bin Abdul Aziz [ra] replied (in anger): You have called Yazeed Amir Ul Mominein? Then he gave order of 20 lashes to be given to the person [Imam Ibn Hajr al Asqalani in Tahdhib ut Tahdhib, Volume No. 6, Page No. 313].

# নবম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি(রঃ) তাঁর সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ “তারিখ উল খুলাফা” গ্রন্থে ইয়াজীদ সম্পর্কে লিখেনঃ
“You (Imam Hussain – Radhi Allaho Anho) were martyred and your head was brought to Ibn Ziyad on a plate. “May Allah’s Lanah (Curse) be upon the person who killed you, also Ibn Ziyad “AND UPON YAZID” [As-Suyuti in Tarikh ul Khulafa, Page No. 165]”
আরবী বই এর স্ক্যান কপিঃ

http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=31

# হাম্বলী মাযহাবের প্রবর্তক এবং ফিকাহ শাস্ত্রের সুবিখ্যাত ইমাম আহমদ বিন আহমদ(রঃ) যখন ইয়াজিদ বিন মুয়্যাবিয়্যার নামের শেষে ‘আল্লাহ এর লানত বর্ষিত হোক’ বললেন তখন থেকেই তার নামের শেষে তা বলা চালু হয় এবং সেটাই পরবর্তিতে ৪ মাযহাবের ইযমা হিসেবে সাব্যস্থ হয়।
The Proof of sending Lanah upon Yazid is derived from this (ayah), as was mentioned by Al-Barzanji (rah) in his Al-Ashaat and Imam Haythami (rah) in As-Sawaiq from Imam Ahmed (rah) that his son Abdullah asked him about sending Lanah on Yazid, and how sending Lanah upon him is mentioned in the book of Allah (i.e. Quran). Imam Ahmed (rah) in proof of (sending Lanah upon Yazid) mentioned these verses:Would ye then, if ye were given the command, work corruption in the land and sever your ties of kinship? Such are the men whom Allah has cursed…(47:22-23), So could there be a greater fitnah than the actions committed by Yazid? [Ruh ul Ma’ani by Imam Al-Alusi, Volume 9 Under Surah Muhammad 22-23]

# Allama Alusi said: And I say what is prevalent over my mind that (Yazid) Khabith did not testify to the messengership of the Holy Prophet (Peace Be Upon Him). According to me it is correct to curse a person like Yazid, although one cannot imagine a Fasiq like him and apparently he never repented, the possibility of his repentance is weaker than the possibility of his faith (Iman). Along with Yazid, Ibn Ziyad, Ibn Sa’ad and his group shall also be included. Verily, may Allah’s curse be upon all of them, their friends, their supporters, their group and upon everyone who inclines towards them until Qayamah and until an eye sheds a tear for Abu Abdullah Hussain (ra). [Tafsir Ruh al-Ma’ani, Volume 26, Page No. 73]
আরবী বই এর স্ক্যান কপিঃ

http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=43

অথচ এই শেষ যুগে এসে ওহাবী/সালাফী/আহলে হাদীস নামের দলটির নেতারা এই ব্যক্তির নামের শেষে ‘আল্লাহ এর রহমত বর্ষিত হোক’ কথাটি ব্যবহার করে চলেছে। সত্যিই প্রসংশা করার মতো তাদের প্রতিভা ও ধর্মজ্ঞান! যেই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর প্রাণপ্রিয় নাতির হত্যাকারী তার নামের শেষে ……., এটা ভাবতেও যে কি কষ্ট তা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। তার থেকেও বড় কথা এই সব থেকে বড় ফিতনা ফাসাদের যুগে এসে ইতিহাস বিকৃত করে নতুন নতুন ইতিহাস রচণা করে মুসলিম উম্মার ইজমাকে বাতিল প্রমানের চেষ্টা করা এবং এর মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে মিথ্যা ইতিহাস জানানোর চেষ্টা করা কতটা দুঃসাহসের ব্যাপার তা ভাবলেই অবাক হই!

আল্লাহ তা’আলা আমাদের রক্ষা করুন এদের হাত থেকে। সুম্মা আমীন

NB: আমাদের কাছে আপাতত বাংলায় রচিত ইতিহাস বই এর ডাউনলোড লিঙ্ক নেই। কেউ ইংরেজীতে ইতিহাস জানতে চেলে দেখুনঃ
১. http://salafiaqeedah.blogspot.com/2010/12/yazid-laanati.html
২. http://salafiaqeedah.blogspot.com/2010/12/yazid-la-and-city-of-caesar.html
৩. http://salafiaqeedah.blogspot.com/2010/12/yazid-may-allah-give-him-what-he.html

নবম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি(রঃ) তাঁর সুবিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ “তারিখ উল খুলাফা” গ্রন্থ এখান থেকে ডাউনলোড করে পড়ে দেখুন।

http://www.mediafire.com/?3tichlnnj84p0nb

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালবাসার ফজিলত :-




★ রাসূলুল্লাহ (ﷺসা ) বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي

‘‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের নিমিত্তে পরস্পর ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপনকারীরা কোথায় ? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া দান করব। আজ এমন দিন, যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই।’’

(মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস-সিলাহ, হাদিস নং৪৬৫৫)



★ রাসূলুল্লাহ (সাﷺ) বলেন,

إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ

‘‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কারো সাথে শত্রুতা রাখা।’’

(আহমদ, মুসনাদুল আনসার, হাদিস নং২০৩৪১)



★ রাসূলুল্লাহ (সাﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, "

إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ لَأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخْبِرُنَا مَنْ هُمْ قَالَ هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا فَوَ اللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ وَإِنَّهُمْ عَلَى نُورٍ لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ..

‘‘নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নবীও নয় শহীদও নয়; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে তাঁদের সম্মানজনক অবস্থান দেখে নবী এবং শহীদগণও ঈর্ষান্বিত হবে। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমাদেরকে বলুন, তারা কারা ? তিনি বলেন, তারা ঐ সকল লোক, যারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একে অপরকে ভালবাসে। অথচ তাদের মধ্যে কোন রক্ত সম্পর্কও নেই, এবং কোন অর্থনৈতিক লেন-দেনও নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় তাঁদের চেহারা হবে নূরানি এবং তারা নূরের মধ্যে থাকবে। যে দিন মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে,সে দিন তাঁদের কোন ভয় থাকবে না। এবং যে দিন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে, সে দিন তাঁদের কোন চিন্তা থাকবে না..।’’

(সুনানু আবী দাঊদ, কিতাবুল বুয়ূ‘, হাদিস নং ৩০৬০)



★ তিনি বলেন,

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ..*

‘‘তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার না হবে, তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা ও সৌহার্দ্য স্থাপন করবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হবে ? সাহাবীগণ বললেন, নিশ্চয় ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (তিনি বললেন) তোমাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে সালামের প্রচলন কর।’’

(মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ৮১)

Monday, February 9, 2015

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) এর সংখিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত :-

★ ইমাম তিরমিযি (রহ.)এর আসল নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু ঈসা, নিসবতি নাম তিরমিজি ও বুগি। আর বাবার নাম ছিল ঈসা ইবনে সুরাত। তাঁর উপাধি ছিল আল-ইমাম। তিনি বর্তমান উজবেকিস্তানের জিহুন নদীর বেলাভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত শহর তিরমিজের ‘বুগ’ নামক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.)-কে তাঁর জন্মস্থানের সঙ্গে সম্পর্ক করে তিরমিজি ও বুগি বলা হয়। ইমাম তিরমিজির পূর্বপুরুষরা ‘মুরাদ’ নামক শহরের বাসিন্দা ছিলেন। অতঃপর তাঁরা উজবেকিস্তানের তিরমিজ শহরে হিজরত করেন। তিরমিজ ছিল অসংখ্য মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ আলেমের জন্মস্থান। ইমাম তিরমিজি (রহ.) পারিবারিক পরিমণ্ডলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। খুব অল্প বয়সেই ইমাম তিরমিজি (রহ.) প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ সম্পন্ন করে ইলমে হাদিসের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

★ ইলমে হাদিসে উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ইমাম তিরমিজি (রহ.) খুব অল্প বয়সেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। তিনি হিজাজ, মিসর, বসরা, কুফা, শাম, খুরাসান, বাগদাদসহ বহু দেশ ও শহর ভ্রমণ করেন। তিনি তৎকালীন সব বিখ্যাত মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন এবং ইলমে হাদিসে গভীর জ্ঞান লাভ করেন।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.) ১০০০ এর ও বেশি মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন। তাঁর ওস্তাদদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন_ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানি, আইমাদ বিন মুনা, মুহাম্মদ বিন মুছান্না, মুহাম্মদ বিন বাশ্শার, হান্নাদ বিন সুরি, কুতাইবা বিন সাঈদ, মাহমুদ বিন গায়লান, ইসহাক বিন মুসা আনসারী প্রমুখ মুহাদ্দিস।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.) ইমাম বুখারি (রহ.)-এর ছাত্র ছিলেন, আবার তিনি ইমাম বুখারি (রহ.)-এর ওস্তাদও ছিলেন। কারণ ইমাম বুখারি (রহ.) ইমাম তিরমিজি (রহ.) থেকে কিছু হাদিস গ্রহণ করেছেন। ইমাম বুখারি (রহ.) বিভিন্ন সময়ে ইমাম তিরমিজি (রহ.)-কে লক্ষ করে বলতেন, ‘তুমি আমার থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছ, তার থেকে বেশি উপকৃত হয়েছি আমি তোমার থেকে।’

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.) তিরমিজি শরিফে দুটি হাদিসের ক্ষেত্রে লিখেছেন_ইমাম বুখারি (রহ.) আমার কাছ থেকে অত্র হাদিস গ্রহণ করেছেন। মুহাদ্দিসরা তাঁকে ইমাম বুখারির খলিফা বলে উল্লেখ করেছেন।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি : ইমাম তিরমিজি (রহ.) ছিলেন অসাধারণ এবং বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। এ বিষয়ে শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দেসে দেহলভি (রহ.) বুসতানুল মুহাদ্দিসিনে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

**  ইমাম তিরমিজি (রহ.) কোনো এক মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিসের দুটি পাণ্ডুলিপি ইজাজাতান লাভ করেছিলেন। অর্থাৎ ওই মুহাদ্দিস তাঁকে পাণ্ডুলিপি দুটিতে লিপিবদ্ধ হাদিসগুলো বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর আকাঙ্ক্ষা ছিল পাণ্ডুলিপি দুুটির বিষয়ে সরাসরি ওস্তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। একবার এক সফরে ওই ওস্তাদের সঙ্গে ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি নিজের বাসনার কথা তাঁকে জানান। ওস্তাদ বললেন ঠিক আছে, পাণ্ডুলিপি দুটি নিয়ে এসো। ইমাম তিরমিজি (রহ.) নিজ অবস্থানস্থলে গিয়ে তালাশ করে পাণ্ডুলিপি পেলেন না। তিনি বুঝতে পারলেন হাদিসের পাণ্ডুলিপি বাড়িতে রয়ে গেছে, তার পরিবর্তে তিনি সাদা কাগজ নিয়ে এসেছেন।

তিনি খুবই পেরেশান হলেন। অতঃপর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে ইমাম তিরমিজি (রহ.) পাণ্ডুলিপিসদৃশ সাদা কাগজ নিয়ে ওস্তাদের সামনে বসে গেলেন। ওস্তাদ হাদিস পড়তে লাগলেন আর ইমাম তিরমিজি (রহ.) ওই কাগজের ওপর এমনভাবে চোখ ঘোরাতে লাগলেন, যেন তিনি ওস্তাদের পঠিত হাদিসের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু একসময় ওস্তাদ বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে মজা করছ? ইমাম তিরমিজি (রহ.) অত্যন্ত আদবের সঙ্গে ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করে বললেন, হজরত, আপনার পঠিত সব হাদিসই আমার স্মৃতিতে গেঁথে গেছে। আমি মুখস্থ করে নিয়েছি। ওস্তাদ তখন তাঁকে হাদিসগুলো শোনাতে বললেন। তখন তিনি সব হাদিস নির্ভুলভাবে শুনিয়ে দিলেন। অতঃপর ওস্তাদ তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত আরো ৪০টি হাদিস শোনালেন। ইমাম তিরমিজি (রহ.) সেগুলোও হুবহু শুনিয়ে দিলেন। ওস্তাদ আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘তোমার মতো আর কাউকে আমি কোনো দিন দেখিনি।’


★ ইমাম তিরমিজি (রহ.) ইলমে হাদিসের যে বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার আত্দস্থ করেছিলেন, তা দিয়ে তিনি অসংখ্য যোগ্য মুহাদ্দিস তৈরি করে রেখে গেছেন। একই সময়ে তাঁর হাদিসের দারসে হাজারো উচ্চতর জ্ঞানপিপাসু উলামায়ে কেরাম উপস্থিত হতেন। এক বর্ণনা থেকে জানা যায়, ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর কাছ থেকে ৯০ হাজার মুহাদ্দিস ইলমে হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইমাম তিরমিজির ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন_মুহাম্মদ ইবনে সাহর, আহমাদ ইবনে ইউসুফ আন্ নাসাফি, দাউদ ইবনে নসর আল বায়জাবি ও মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ প্রমুখ। ইমাম তিরমিজি (রহ.) ইলমে হাদিসের শিক্ষাদানের পাশাপাশি বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে জামে তিরমিজি, ‘কিতাবুশ শামায়িল’ ও ‘কিতাবুল ইলাল’ আজও জ্ঞানপিপাসুদের পিপাসা নিবারণ করে চলেছে। ইবনে নাদিম ও হাফেজ ইবনে কাসার (রহ.) লিখেছেন যে ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাফসির ও ইতিহাস বিষয়েও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ইমাম মুহাম্মদ বিন ঈসা প্রণীত জামে তিরমিজি একটি অতুলনীয়, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.) তাঁর স্মৃতিবদ্ধ লাখ লাখ হাদিসের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে সংকলন করেছেন। তিরমিজি শরিফে মোট ৪৬টি অধ্যায় ও দুই হাজার ১১৪ পরিচ্ছেদে তিন হাজার ৯৫৬টি হাদিস সনি্নবেশিত হয়েছে। এ জামে গ্রন্থটিতে হাদিসের পুনরুল্লেখ খুবই কম হয়েছে। ইমাম তিরমিজি (রহ.) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হাদিস নির্বাচন করেছেন। তিনি তিরমিজি শরিফ রচনার পর সমকালীন বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের সামনে উপস্থাপন করেন। তাঁদের কাছ থেকে গ্রন্থে সংকলিত হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি পাওয়ার পরই তিনি চূড়ান্তভাবে গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এ সম্পর্কে ইমাম তিরমিজি (রহ.) নিজেই বলেছেন, আমি সহিহ সনদযুক্ত এ গ্রন্থখানা প্রণয়ন সম্পন্ন করে হিজাজের হাদিসবিদদের সামনে উপস্থাপন করলাম। তাঁরা এটা দেখে খুবই পছন্দ করলেন ও সন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর আমি এটাকে খুরাসানের হাদিসবিদদের সামনে পেশ করলাম। তাঁরাও এটাকে খুবই পছন্দ করলেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করলেন। তিরমিজি শরিফ অত্যন্ত উঁচুমানের একটি হাদিস গ্রন্থ। শায়খুল ইসলাম হাফেজ ইমাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ আনসারি (মৃ. ৪৮১ হি.) তিরমিজি শরিফ সম্পর্কে বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে তিরমিজি শরিফ বুখারি ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয় অপেক্ষা অধিক ব্যবহারোপযোগী। কেননা বুখারি ও মুসলিম এমন হাদিস গ্রন্থ যে শুধু বিশেষ পারদর্শী আলেম ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে ফায়দা লাভ করতে পারে না। কিন্তু ইমাম আবু ঈসা তিরমিজির গ্রন্থ থেকে যে কেউ ফায়দা গ্রহণ করতে পারে।

★ জামে তিরমিজি হাদিস গ্রন্থখানা একাধারে জামে এবং সুনান। জামে বলা হয় ওইসব হাদিস গ্রন্থকে, যেগুলোর মধ্যে আটটি বিষয়ের হাদিস সনি্নবেশিত হয়েছে।

ওই আটটি বিষয় হলোঃ

1. আকাইদ,
2. ইতিহাস,
3. তাফসির,
4. শিষ্টাচার,
5. ফিতান বা উম্মতের মধ্যে উদ্ভূত বাতিল মতবাদ,
6. আহকাম বা শরীয় বিধান,
7. কিয়ামতের নিদর্শন ও
8. সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদাবিষয়ক।

★ এই তিরমিযি শরীফের কিছু বিশেষত্ব্য :-

1. যেগুলো ইলমে ফিকাহর ধারাবাহিকতায় বিন্যাস করা হয়েছে। ইমাম তিরমিজি (রহ.) স্বীয় হাদিস গ্রন্থখানা ফিকাহ ধারায় বিন্যাস করায় উম্মতের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা বহু মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

2. তিরমিজি শরিফের অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আরো একটি হলো, ইমাম তিরমিজি (রহ.) সব মুজতাহিদের মৌলিক দালিলিক হাদিসগুলোকে একত্রিত করেছেন।

3. ইমাম তিরমিজি (রহ.) স্বীয় কিতাবে ফকিহদের মতামত উল্লেখ করেছেন। যার ফলে এটি হাদিসের কিতাব হওয়া সত্ত্বেও ইলমে ফিকাহর ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

4. ইমাম তিরমিজি (রহ.) হাদিসের দালিলিক ভিত্তি বর্ণনা করেছেন এবং সনদ সম্পর্কে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন।

5. ইমাম তিরমিজি (রহ.) প্রত্যেক পরিচ্ছদের শুরুতে এমন একটি, দুটি অথবা তিনটি হাদিস সংকলন করেছেন, যেগুলো অন্য কোনো ইমাম থেকে সংকলিত হয়নি। অতঃপর তিনি ‘ওয়া ফিল্ বাবি’ বলে বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হাদিস সংকলন করেছেন। ইমাম তিরমিজির এই ‘ওয়া ফিল্ বাবি’-এর ওপর অনেকেই স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

6. দীর্ঘ হাদিসের মধ্য থেকে ইমাম তিরমিজি (রহ.) শুধু বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অংশ তাঁর কিতাবে সংকলন করেছেন।

7. ইমাম তিরমিজি (রহ.) সন্দেহপূর্ণ বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবির নাম, উপনাম, উপাধি ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন, যাতে কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট না থাকে।
জামে তিরমিজির বিন্যাস খুবই চমৎকার। এর থেকে হাদিস খুঁজে বের করা খুবই সহজ।

8. তিরমিজি শরিফে বর্ণিত সব হাদিসের ওপর উম্মতে মুসলিমা আমল করে। কিতাবটিতে এমন কোনো হাদিস নেই, যার ওপর পৃথিবীর কোনো না কোনো মাজহাবের লোক আমল করে না।

9. সিহাহ সিত্তার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তিরমিজি শরিফের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এমনকি ওহাবী দেওবন্দি উলামায়ে কেরাম তিরমিজি শরিফকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিসের ক্লাসে পাঠদান করে থাকেন।

★ ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর সংকলিত হাদিস গ্রন্থে কিছু মওজু হাদিস আছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আল্লামা ইবনে জাওজি (রহ.) বলেছেন, তিরমিজি শরিফের মধ্যে মোট ২৩টি মওজু হাদিস রয়েছে।

কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, তিরমিজি শরিফে কোনো মওজু হাদিস নেই। কারন ইবনে জাওজি ইমাম তিরমিযি (রহ) থেকে বড় কোন মুহাদ্দিস ছিলেন না আর ইমাম তিরমিযি এত বড় মুহাদ্দিস হয়েও কি ভাবে তিনি জাল হাদিস লিপিবদ্ধ করতে পারেন is it possible?যে তিনি না জেনে হাজার হাজার হাদিস থেকে বেছে কিছু জাল হাদিস ওনার সহিহ কিতাবে ওঠাবেন?

ইমাম তিরমিজি অত্যন্ত উচ্চমার্গের জাহেদ ও আবেদ ছিলেন।
তিনি সারা রাত ইবাদতে রত থাকতেন। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে এত বেশি কাঁদতেন যে এ কারণেই শেষ বয়সে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

★ মৃত্যুঃ ইলমে হাদিসের এ মহান ইমাম ১৩ রজব ২৭৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে তিরমিজে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।



সহিহ হাদিসের আলোকে ঘুমের সুন্নাত আমলসমুহ :-


আসুন দেখি আমাদের আদর্শ আমাদের একমাত্র পথ প্রদর্শক নুরে মুজাসসাম রাহ্মাতাল্ললিল আলামিন হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সুন্নতি তরিকায় ঘুমাতেন।

1. ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে এই দোয়াটি পড়বেন, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু আহইয়া অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনার নামে মৃত্যুবরণ করছি এবং আপনার নামেই পুর্নজীবিত হই.বুখারী -6312।

2. ঘুম থেকে জেগে উঠে এই দোয়া পড়বেনঃ আলহামদুলিল্লাহি ললাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিননুশুর. অর্থাৎ সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন,আমরা পুর্নজীবিত হয়ে তার নিকটেই ফিরে যাবো. বুখারী -6312।

3. দুই হাতের তালু একত্রে করে এর মধ্যে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পাঠ করে ফু দিবে.পরে পুরো শরীর মুছে দিবেন, যতদুর সমভব(মাথা ও মুখ মনডল সহ) বুখারী -5017।

4. আয়াতুল কুরসী পাঠ করা.বুখারী -3275. ফজিলত -একজন ফিরেসতা নিয়োগ করে দেন।

5. ডান কাতে শুয়ে ও ডান হাত গালের নিচে দিয়ে নিচের দোয়াটি পড়বেন. আল্লাহুম্মা কিনি’ই আযা-বাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা অর্থাৎ হে আল্লাহ্! যেদিন আপনি আপনার বান্দাগণকে পুর্নজীবিত করবেন. সে দিনের(পরকালীন) আযাব হতে আমাকে বাচান. তিনবার পড়তে হবে. আবু দাউদ -5045.তিরমিযী -3398।

6. শোয়ার সময় সুবহানাল্লাহ 33 বার আলহামদুলিল্লাহ 33 বার ও আল্লাহু 34 বার পড়তে হবে. বুখারী-5362 ও মুসলিম-2728।

7. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা.বুখারী ও মুসলিমে আছে,যে বেক্তি এই দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এই আয়াত দুটোই যতেষ্ট হবে মানে বিপদাপদ ও শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা পাবে.বুখারী -5009 ও মুসলিম-807।

8. অযু অবস্থায় ঘুমাবেন ‘মুসলিম-27…

9. ডান কাত হয়ে ঘুমাবেন, বুখারী -247 ও মুসলিম-2710।

10. ডান হাত গালের নিচে দিয়ে ঘুমাবেন. আবু দাউদ -5045।

11. বিসমিল্লাহ্ বলে বিছানা ঝেরে নিবেন বা (পরিষ্কার করার জন্য একটু ঝাড়ু) দিবেন, বুখারী-6320 ও মুসলিম 2714।

12. সুরা কাফিরুন পাঠ করা. আবু দাউদ 5055, তিরমিজি ও আহমাদ।