Blog Archive

Wednesday, May 27, 2015

ওযুতে গর্দান মাসেহ করা মুস্তাহাব, বেদায়াত নয় :


ওযুতে গর্দান মাসেহ করা মুস্তাহাব

************************


★ ১ম দলিলঃ

فَإِنَّ عَلِيَّ بْنَ ثَابِتٍ , وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ حَدَّثَانَا عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ , قَالَ: ্রمَنْ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ (كِتَابُ الطَّهُورِ لِأَبِي عُبَيْدٍ الْقَاسِمِ بْنِ سَلَّامٍ الْخُزَاعِيِّ)

হযরত মুসা বিন তালহা রহ. বলেন: যে ব্যক্তি মাথার সাথে তার গর্দান মাসেহ করবে সে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই পাবে। (কিতাবুত তুহুর লিআবি উবায়েদ-৩৬৮, পৃষ্ঠা-৩৭৪)। হাফেজ ইবনে হাজার রহ.ও তালখীছুল হাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (তালখীছুল হাবীর-৯৮ নং হাদীসের আলোচনায়)

★ সনদের আলোচনাঃ
———
সনদ হিসেবে হাসান। উল্লিখিত হাদীসের রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। কেবল মাসউদীকে নিয়ে এতটুকু আপত্তি পাওয়া যায় যে, শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু উক্ত অভিযোগ এ কারণে ক্ষতিকর হবে না যে, আবু হাতিমের বর্ণনানুযায়ী তাঁর মৃত্যুর এক বা দুই বছর পূর্বে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো। আর তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পূর্বে আব্দুর রহমান বিন মাহদী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন; কিন্তু তখন তাঁকে কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। (তাহজীবুত তাহজীব: ৩৯১৯)।

তাহলে বুঝা যায়, আব্দুর রহমান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার পূর্বেই। সুতরাং এ বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই।




★ ২য় দলিল :-

হযরত আবু উবায়েদ এ হাদীসটি আরও একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যা নিচে প্রদত্ব হলো-

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدٍ قَالَ: ثنا حَجَّاجٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ مِثْلَ ذَلِكَ

(তালখীছুল হাবীর, হাদীস নং-৩৬৯)

★ সনদের আলোচনা
————
ইবনে হাজার রহ. তালখীছুল হাবীর-৯৮ নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন:

قُلْتُ : فَيَحْتَمِلُ أَنْ يُقَالَ : هَذَا وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا فَلَهُ حُكْمُ الرَّفْعِ ، لِأَنَّ هَذَا لَا يُقَالُ مِنْ قِبَلِ الرَّأْيِ ، فَهُوَ عَلَى هَذَا مُرْسَلٌ

এ হাদীসটি যদিও মাওকুফ তবু মারফু’র হুকুম রাখে। কারণ, এটা এমন একটি বিষয় যা বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে বলা যায় না (বরং রসূলুল্লাহ স. থেকে জেনেই বলতে হয়)। এতদসত্ত্বেও (সাহাবার নাম নাম উল্লেখ না থাকায়) হাদীসটি মুরসাল। ইবনে হাজার রহ. শরহু নুখবাতিল ফিকারে বলেন, ثقةٌ (নির্ভরযোগ্য) রাবীদের মুরসাল বর্ণনার পক্ষে কোন সমার্থক বর্ণনা পাওয়া গেলে চার ইমামের নিকটেই তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। (সারসংক্ষেপ: শরহু নুখবাতিল ফিকার: ৫০-৫১)

★ ৩য় দলিলঃ

وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو حَصِينٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُو إِسْرَائِيلَ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ : أَنَّهُ كَانَ إِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ. هَذَا مَوْقُوفٌ وَالْمُسْنَدُ فِى إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

হযরত ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত: তিনি যখন মাথা মাসেহ করতেন তখন মাথার সাথে গর্দানও মাসেহ করতেন। (সুনানে বাইহাকী: ২৮২)

★ সনদের আলোচনাঃ
————-
মাওকুফ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইমাম বাইহাকী রহ. এ হাদীসটিকে মুসনাদ তথা মারফু’ হিসেবে জঈফ বলেছেন; তবে মাউকুফ হিসেবে কোন আপত্তি করেননি। যার অর্থ হল মাউকুফ হিসেবে এটা অগ্রহণযোগ্য নয়।

★ ৪র্থ দলিল :-

حَدَّثنا إبراهيم بن سَعِيد، قَال: حَدَّثنا مُحَمد بْنُ حُجْر، قَالَ: حَدَّثني سَعِيد بْنُ عَبد الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْر، عَن أَبيهِ، عَن أُمِّهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْر، رَضِي اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ شَهِدْتُ النَّبِيّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيه وَسَلَّم وَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ فَأَكْفَأَهُ عَلَى يَمِينِهِ ثَلاثًا …..ثُمَّ مَسَحَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاثًا وَظَاهِرَ أُذُنَيْهِ ثَلاثًا وَظَاهِرَ رَقَبَتِهِ

হযরত ওয়াইল বিন হুজর (রা). বলেন, আমি দেখেছি যে, রসূলুল্লাহ স.-এর জন্য পানির পাত্র আনা হলো। তিনি তা থেকে তিনবার ডান হাতের উপর ঢাললেন। ….অতঃপর মাথা, কান ও গর্দানের উপরিভাগ তিনবার করে মাসেহ করলেন। (মুসনাদে বাঝ্ঝার-৪৪৮৮)।

★ সনদের আলোচনাঃ
————-
জঈফ।



★ ৫ম দলিলঃ

عَنْ فُلَيْحِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “مَنْ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِيَدَيْهِ عَلَى عُنُقِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ” وَقَالَ هَذَا إنْ شَاءَ اللَّهُ حَدِيثٌ صَحِيحٌ. قُلْتُ: بَيْنَ ابْنِ فَارِسٍ وَفُلَيْحٍ مَفَازَةٌ فَيُنْظَرُ فِيهَا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অযু করলো আর উভয় হাত দ্বারা আপন গরদান মাসেহ করলো তাকে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই দেয়া হবে। (আল্লামা রুইয়ানী বলেন, ইংশাআল্লাহ হাদীসটি সহীহ। (তালখীছুল হাবির: ৯৮ নম্বর হাদীসের আলোচনায়)

★ সনদের আলোচনাঃ
————
সনদ জানা যায়নি।

★ হাফেজ ইবনে হাজার রহ বলেন ইবনে ফারেস এবং ফুলইহ-এর মধ্যে দীর্ঘ দুরত্ব রয়েছে তাই বিশুদ্ধতার বিষয়টি আরও ভাবা উচিত।

উপরোক্ত ৫টি হাদীসের মধ্যে প্রথম দুটি মুরসাল রেওয়াত।
আর সহীহ মুরসাল রেওয়াত ইমাম আবু হানিফা ,
ইমাম মালেক রাহঃ এর নিকট হুজ্জত।
আর ইমাম শাফী রাহঃ এর কাছে শর্ত সাপেক্ষে হুজ্জত।
আর তার শর্ত হল মুরসাল রেওয়াতের সাথে অন্য রেওয়ায়েত থাকা জরুরী।

আর প্রথম মুরসাল রেওয়াতের সাহেদ হিসেবে আমরা আরো ৪ টি রেওয়েত বর্ণনা করেছি। আর অন্য হাদীসের সনদগুলো স্বতন্ত্রভাবে দুর্বল হলেও পারস্পারিক সমর্থনের কারণে সম্মিলিতভাবে যে শক্তি সৃষ্টি হয়েছে মুহাদ্দিসীনে কিরাম সেটাকে হাসান লিগায়রিহী বলে থাকেন। যেমনটি বলেছেন শায়খ আব্দুল হক রহ. মিশকাত শরীফের ভুমিকায়। (মুকাদ্দামায়ে মেশকাত,পৃষ্ঠা- ৫ ও ৬)।


★ ইমাম আহমাদ রহ.-এর আমল :-

وَذَكَرَ الْقَاضِي وَغَيْرُهُ أَنَّ فِيهِ رِوَايَةً أُخْرَى: أَنَّهُ مُسْتَحَبٌّ. وَاحْتَجَّ بَعْضُهُمْ أَنَّ فِي خَبَرِ ابْنِ عَبَّاسٍ: ্রامْسَحُوا أَعْنَاقَكُمْ مَخَافَةَ الْغُلِّগ্ধ . وَاَلَّذِي وَقَفْت عَلَيْهِ عَنْ أَحْمَدَ فِي هَذَا، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ: رَأَيْت أَبِي إذَا مَسَحَ رَأْسَهُ وَأُذُنَيْهِ فِي الْوُضُوءِ مَسَحَ قَفَاهُ. [فَصْل مَا يُسْتَحَبّ فِي الْوُضُوء]

অনুবাদ : কাজী আবু ইয়া’লা রহ.সহ অন্যান্য মনিষিগণ বলেন, গর্দান মাসেহ করা মুসতাহাব মর্মে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে। আবার কেউ কেউ দলীল পেশ করেছে যে, ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীসে রয়েছে যে, বেড়ী পরানোর আশংকায় তোমরা গর্দান মাসেহ কর। এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ থেকে আমি যা জানতে পেরেছি তা এই যে, ইমাম আহমাদ রহ.-এর ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি অযুতে যখন তিনি মাথা এবং কান মাসেহ করতেন তখন গর্দানও মাসেহ করতেন। (আল মুগনী লিইবনে কুদামা, অযুর মুস্তাহাব অধ্যায়)।

শেষ কথা হল-
★ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত মারফু’ হাদীস (তারীখে আসফাহান, মুসনাদে ফেরদাউস),

★ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত মাউকুফ হাদীস (সুনানে বাইহাকী, ইবনুল ফারেস),

★ বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত মুসা বিন তলহার আছার (কিতাবুত তুহুর লিআবি উবায়েদ),

★ শাফেঈ মাজহাবের ইমামগণের মধ্যে আল্লামা বাগাবী (রাফেঈ আল কাবীর),

*** রুয়ানী (রাফেঈ আল কাবীর),
***  ইবনে হাজার আসকালানী (তালখীছুল হাবীর),

★ হানাফী মাজহাবের ইমামগণ থেকে :-

*** আল্লামা আইনী (আল বিনায়াহ),
*** মুল্লা আলী কারী, (আল মাউযুআতুল কুবরা)

★ হাম্বলী মাজহাবের ইমাম হযরত আহমাদ বিন হাম্বল, (মুগনী লিইবনে কুদামা),

★ বিশিষ্ট গায়রে মুকাল্লিদ আলেম আল্লামা শাওকানী (নাইলুল আওতার)
প্রমুখসহ অসংখ্য মুহাদ্দিসীনে কিরাম গর্দান মাসেহ করার আমল গ্রহণ করেছেন।

★ মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন :-

حَدِيثُ مَسْحُ الرَّقَبَةِ أَمَانٌ مِنَ الْغُلِّ : قَالَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ إِنَّهُ مَوْضُوعٌ : قُلْتُ لَكِنْ رَوَاهُ أَبُو عُبَيْدِ

الْقَاسِمِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ مَنْ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ وُقِيَ مِنَ الْغُلِّ

وَالْحَدِيثُ مَوْقُوفٌ إِلَّا أَنَّهُ فِي الْحُكْمِ مَرْفُوعٌ لِأَنَّ مِثْلَهُ لَا يُقَالُ بِالرَّأْيِ وَيُقَوِّيهِ مَا رُوِيَ مَرْفُوعًا مِنْ مُسْنَدِ

الْفُرْدَوْسِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ لَكِنَّ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ وَالضَّعِيفُ يُعْمَلُ بِهِ فِي فَضَائِلِ الْأَعْمَالِ اتِّفَاقًا وَلَذَا قَالَ

أَئِمَّتُنَا إِنَّ مَسْحَ الرَّقَبَةِ مُسْتَحَبٌّ أَوْ سُنَّةٌ

অনুবাদ : গর্দান মাসেহ করা বেড়ী থেকে নিরাপদ (হাদীস)। ইমাম নববী শরহুল মুহাজ্জাবে বলেন, এটা মাউযু’। (মুল্লা আলী কারী রহ.) বলেন, আবু উবায়েদ কাসেম সূত্রে মুসা বিন তলহা থেকে বর্ননা করেন, যে ব্যক্তি মাথার সাথে তার গর্দান মাসেহ করবে সে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই পাবে। হাদীসটি যদিও মাউকুফ তবে মারফু’-এর শ্রেণীভুক্ত। কারণ এরকম বিষয়ে বিবেক খাটিয়ে কিছু বলা যায় না। এ হাদীসটিকে আরও শক্তিশালী করে মুসনাদে ফিরদাউসে ইবনে উমর থেকে জঈফ সনদে বর্ণিত মারফু’ হাদীস। আর ফজিলতের ক্ষেত্রে জঈফ হাদীস সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য। এ কারণে আমাদের ইমামগণ বলেন, গর্দান মাসেহ করা সুন্নাত বা মুস্তাহাব। (আল মাউযুআতুল কুবরা-৪৩৪)।




কারামতে আউলিয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা :-


হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. বলেন,

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ , عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَعْدٍ الْجُعْفِيِّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، فَإِنَّهُ كَانَتْ فِيهِمُ الأَعَاجِيبُ ، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ ، قَالَ : خَرَجَتْ رُفْقَةٌ مَرَّةً يَسِيرُونَ فِي الأَرْضِ فَمَرُّوا بِمَقْبَرَةٍ ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ : لَوْ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْنَا اللَّهَ لَعَلَّهُ يُخْرِجُ لَنَا بَعْضَ أَهْلِ هَذِهِ الْمَقْبَرَةِ فَيُخْبِرُنَا عَنِ الْمَوْتِ ، قَالَ : فَصَلُّوا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْا ، فَإِذَا هُمْ بِرَجُلٍ خِلاسِيٍّ قَدْ خَرَجَ مِنْ قَبْرٍ يَنْفُضُ رَأْسَهُ ، بَيْنَ عَيْنَيْهِ أَثَرُ السُّجُودِ ، فَقَالَ : يَا هَؤُلاءِ مَا أَرَدْتُمْ إِلَى هَذَا ؟ لَقَدْ مِتُّ مُنْذُ مِائَةِ سَنَةٍ فَمَا سَكَنَتْ عَنِّي حَرَارَةُ الْمَوْتِ إِلَى السَّاعَةِ ، فَادْعُوا اللَّهَ أَنْ يُعِيدَنِي كَمَا كُنْتُ ” .

“তোমরা বনী ইসরাইলদের ঘটনা বর্ণনা করো। কেননা তাদের মাঝে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এরপর রাসূল স. একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন,
একদা বনী ইসরাইলের কয়েকজন বন্ধু ভ্রমণে বের হল। তারা একটি কবরস্থান দিয়ে অতিক্রম করছিল । তারা একে -অপরকে বলল, “আমরা যদি, দু’রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে দুয়া করি, তাহলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো কবরের কোন ব্যক্তিকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবেন। সে মৃত্যু সম্পর্কে আমাদেরকে বলবে।
তারা দু’রাকাত নামায আদায় করল। এরপর আল্লাহর কাছে দুয়া করল। হঠাৎ এক ব্যক্তি মাথা থেকে মাটি পরিষ্কার করতে করতে কবর থেকে বের হয়ে এল। তার কপালে সিজদার চিহ্ন ছিল। সে বলল, তোমরা কী চাও? আমি একশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছি। এখনও আমার দেহ থেকে মৃত্যুর যন্ত্রনা উপশমিত হয়নি। আল্লাহর কাছে দুয়া করো, যেন তিনি আমাকে পূর্বের স্থানে (কবরে) ফেরত পাঠিয়ে দেন”
যেসব বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন,
১. ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ., মান আশা বা’দাল মাউত। হাদীস নং ৫৮
২. মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, হাদীস নং ১১৬৪
৩.ফাওয়াইদু তামাম আর-রাজী, হাদীস নং ২১৭
৪. আল-জামে লি আখলাকির রাবী, খতীব বাগদাদী, হাদীস নং ১৩৭৮
৫. আল-বা’স, ইবনে আবি দাউদ, হা.৫
৬.আজ-জুহদ, ইমাম ওকী ইবনুল জাররাহ, হাদীস নং৮৮
৭. আজ-জুহদ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.
৮. মাজালিস মিন আমালি ইবনে মান্দাহ, ইবনে মান্দাহ, হাদীস নং ৩৯৩
৯. আল-মাতালিবুল আলিয়া, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হাদীস নং ৮০৭
১০. ফুনুনুল আজাইব, হা.১৯
১১. শরহুস সুদুর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. পৃ.৪২-৪৩

ঘটনাটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত। তামাম আর-রাজী এটি সরাসরি রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হযরত জাবির রা. থেকে মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেটি মরফু এর হুকুমে। সুতরাং ঘটনার প্রামাণ্যতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

Sunday, May 24, 2015

আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এবং রাসুলুল্লাহ (সা) হাজির ও নাজির প্রসংগ :-

বাতিল ওহাবীদের ভুল ধারনা রয়েছে যে রাসুলুল্লাহ (সা) কে হাজির নাজির বললে শিরিক হবে। কেন? কারন তারা আল্লাহকে হাজির নাজির বলে সম্বোধন করে। আসুন উক্ত শব্দটির বিশ্লেষণ করি ।


📖 আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান।
📖 রাসুলুল্লাহ (সা) হাজির নাজির।



                   📖 আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান 📖




★ আমাদের আকিদা হল ""আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান"" (মানে হল সর্ব জায়গায় সব সময় প্রভুর অস্তিস্ত্ব রয়েছে)। (তিনি স্থান, কাল, আকার, আকৃতি সব কিছুর উর্ব্ধে)
এই শব্দের কেন ব্যবহার?
কারন আপনে কি বলতে পারবেন যে আল্লাহ অতীতে ছিল না?
আসুন একটু বিস্তারিত দেখে নেই :




আল্লাহ বলেছেন :-


★ “জেনে রাখো, সবকিছুকেই আল্লাহতালা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।” [সুরা ৪১ সুরা হা-মীম আস্ সাজদাহ্: আয়াত ৫৪]

★ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন।” [সুরা ৫৭ হাদীদ: আয়াত ৪]।

★  “আপনি কি অনুধাবন করেননি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন; তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না; তারা এরচেয়ে কম বা বেশী হোক; তারা যেখানে থাকুক না কেন আল্লাহ তাদের সঙ্গেই আছেন। তারা যা করে; তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দিবেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত।” [সুরা ৫৮ সুরা মুজাদালাহ্ : আয়াত ৭]।

★ “আমি তোমাদের গলার শাহী ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।" [সুরা ৫০ কাফ: আয়াত ১৬]।

★ আল্লাহ কোথায় আছেন এ সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে বিভিন্ন ভাবে বলা হয়েছে।
বিস্তারিত দেখুন :


At- Thaha : 5
also Al-A'raf : 54
An'Nur : 16
Al-Mu'minun : 91
Al-Isro' : 43
Al-Ikhlas : 4
Yunus ; 3
Ar-Ra'du ; 2
Al-Furqon : 59
As-Sajdah : 4



                    📖 "আল্লাহ আরশে অধিষ্ঠ আছেন" এর ব্যাখ্যা 📖



উপরোক্ত কথাটির প্রকৃত অর্থ ও ব্যাখ্যা নির্ভরযোগ্য দলিল দিয়ে দিতে চাই :-


★ Imam ‘Ali ibn Abi Taalib (’alayhis salaam) is recorded to have said
,
كان- الله- ولا مكان، وهو الان على ما- عليه- كان
,
“Allah was without place, and He is now as He was [then]. ”


★ Imam Zaynul-’Aabidin ’Ali ibn Al-Husayn ibn ‘Ali ibn Abi Taalib (radhiya Allahu ‘Anhu) stated ,

أنت الله الذي لا يحويك مكان
,
“You are Allah , who does not occupy place!”
,
[It-haaf As-Saadat Al-Muttaqin 2/24 ]


★ ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে বর্ণিত,
আমি বললাম: আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ কোথায়?
ইমাম আবু হানিফা রহ. উত্তর দিলেন: প্রশ্নকারীকে বলা হবে, সব কিছু সৃষ্টির পূর্বে যখন কোন স্থান ছিল না, তখন আল্লাহ তায়ালা বিদ্যমান ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তখনও ছিলেন যখন 'কোথায়' কথাটির অস্তিত্ব ছিল না, যখন কোন সৃষ্টি ছিল না, এমনকি যখন কিছুই ছিল না তখনও আল্লাহ ছিলেন। আর তিনিই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।
[আল-ফিকহুল আবসাত, পৃ.২৫]

★ ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে বর্ণিত,
"আমরা বিশ্বাস করি, আরশের প্রতি মুখাপেক্ষিতা, স্থিতি ও অবস্থান ব্যতীত আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর ইস্তাওয়া করেছেন। তিনি আরশ ও আরশ ছাড়া অন্য সকল কিছুর সংরক্ষক। এগুলোর প্রতি তিনি বিন্দুমাত্র মুখাপেক্ষী নন। তিনি যদি আরশ বা অন্য কিছুর প্রতি মুখাপেক্ষী হতেন, অন্যান্য মাখলুকের মতো তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম হতেন না। আল্লাহ তায়ালা যদি বসা ও অবস্থানের মুখাপেক্ষী হতেন, তাহলে আরশে সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ কোথায় ছিলেন? নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর অবস্থান ও বসার ধারণা থেকে বহু উর্ধ্বে।
[আল-ওসিয়্যা, পৃ. ২]


★ al-Hafidh Imam Abu Bakr al-Bayhaqi said: "

Some of our companions used as evidence to deny a place for Allah, the saying of the Prophet:"O Allah You are adh-Dhahir so there is nothing above You, O Allah, You are al-Batin so there is nothing beneath You". So if there is nothing above Him and nothing below him is that He is not in aplace."



★ The Maliki Qadhi Ibn Rushd the Elder (d. 520), said:

ليس- الله- في مكان، فقد كان قبل أن يخلق المكان

Allah ta’alaa is not in a space, for He was before ’space’was created.” [Quoted by Ibn Al-Haaj in Al-Madkhal]

★ He also stated,

فلا يقال أين ولا كيف ولا متى لأنه خالق الزمان والمكان

, It is not to be asked ‘Where’, ‘How’, or ‘When’ for He created The time as well as space.” [Ibid 3/181]

★ He also stated ,

وإضافته- أي العرش- إلى الله تعالى إنما هو بمعنى التشريف له كما يقال: بيت الله وحرمه، لا أنه محل له وموضع لاستقراره
,
And the ascription of the ‘Arsh (throne) to Allah ta’alaais with the meaning of honouring Him, just as it is said ‘The House of Allah and Its Sanctity”. It is not because it is His place or the abode for which he sits (istiqraar).”
[Al-Madkhal 2:149, Also Ibn Hajr in his Fat-hul Baari]




★ Imam An-Nasafi (701 or 710 AH) states in his Tafsir
,
إنه تعالى كان ولا مكان فهو على ما كان قبل خلق المكان، لم يتغير عما كان.
,
“Verily He, the exalted, was without place , and He is as He was before creating (the entity of) ‘place’, not changing as He was [Tafsīr An-Nisfi Surah Taha Volume 2]


★ The Shaykh Abul abbas shihad ud din Ahmad ibn Muhammad Al-Qastalānī Al-Masrī (d. 933 AH) said in his Sharh (gloss) of Sahīh Al-Bukhārī
,,
ذات الله منزه عن المكان والجهة

“Allah ’s essence is free from space (makān) and direction (jihah [Irshād As-Sārī 15/451]


★ Imam Ibn Hajr al Asqalani (rah) says:

When we say: "Allah is above the Throne" (Allah `ala al-`arsh), it does not mean that He is touching it or that He is located on it or bounded by a certain side of the Throne"Its meaning is He elevatedHimself (irtafa`a)" [b/] and others of them said: "Its meaning is sovereignty (al-mulk) and power (al-qudra)."
[ Ibn Hajar, Fath al-Bari (1959 ed. 13:409)]




★ Abi Mansur Al-Baghdadi also quotes Imam ‘Ali (radhiyaAllahu ‘anhu) as saying,

إن الله تعالى خلق العرش إظهارًا لقدرته لا مكانا لذاته
,“Verily Allah , the exalted, created the throne to manifest His power, not as a place for his essence.”





                     📖' ইস্তাওয়া' শব্দের অর্থঃ📖



★ বিখ্যাত মুফাসসির, ভাষাবিদ ও আরবী ব্যাকরণবিদ আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল মুবারক [মৃত: ২৩৭ হি:] তার " গারিবুল কুরআন ও তাফসীরুহু" -তে লিখেছেন,

" সূরা ত্ব-হা এর পাঁচ নং আয়াত: দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। "ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ হলো, ইস্তাওলা তথা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা"

[গারিবুল কুরআন ও তাফসীরুহু, পৃষ্ঠা.২৪৩, আলামুল কুতুব]

*** এখন বলুন আপনে কি বলতে পারবেন যে আল্লাহ এখানে হাজির হয়েছেন? যদি বলেন হাজির হয়েছেন তাহলে কি প্রশ্ন হবে না যে তিনি কি এই মাত্র হাজির হয়েছেন? আগে এখানে ছিলেন না? নাউযুবিল্লাহ

আরেকটা উদাহরন দিয়ে সোজা করে বলি :
এক শিক্ষক তার বিচক্ষন ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন,
বল আল্লাহ কোথায় আছেন?
ছাত্র জবাব দিল আগে আমার ১টি প্রশ্নের উত্তর দিন যে,
আল্লাহ কোথায় নেই?

কি বুঝলেন?আশা করি বুঝতে পেরেছেন।




                               📖 রাসুলুল্লাহ (সা) হাজির নাজির 📖



★ রাসুলুল্লাহ (সা) হাজির (উপস্থিত) নাজির (দেখেন)। মানে হল আল্লাহর ইচ্ছায় যেকোন জায়গায় উপস্থিতও হতে পারেন এবং আমাদের কাজ সমুহের সাক্ষীও হয়ে থাকেন। এর কিছু শর্ত জেনে নেই। যেমন :

১) একই সময়ে সমস্ত দুনিয়া একই সংগে পরিভ্রমন করার ক্ষমতা।
২) এক স্থানে থেকে সমস্ত পৃথিবী দেখার ক্ষমতা।

আসুন উপরোক্ত শর্ত হাদিস থেকে বুঝে নেই :

★ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আছেঃ-

اِنَّ اللهَ رَفَعَ لِىْ الدُّنْيَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلَيْهَا وَاِلى مَهُوَ كَائِنٌ فِيْهَا اِلى يَوْمِ الْقِيَمَةِ كَاَنَّمَا اَنْظُرُ اِلَى كَفِّىْ هذَا

অর্থাৎঃ আল্লাহ তা’আলা আমার সামনে সারা দুনিয়াকে তুলে ধরেছেন। তখন আমি এ দুনিয়াকে এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা’কিছু হবে এমন ভাবে দেখতে পেয়েছি, যেভাবে আমি আমার নিজ হাতকে দেখতে পাচ্ছি।

সুত্র : শহরে মাওয়াহেবে লদুনিয়ায়’: আল্লামা যুরকানী (রহতুল্লাহে আলাইহে) প্রনীত


★ আল-কোরআনে বলা হয়েছে : রাসুলুল্লাহ (সা) কে সাক্ষীরুপে প্রেরন করা হয়েছে।

*** সাক্ষী তো এই ব্যাক্তিকেই করা হয় যিনি কিনা উপস্থিত ছিলেন কিংবা ঘটনানলি পর্যবক্ষেন করেছেন তাই না? যে নাকি কিছুই দেখে নি উপস্থিতও ছিল না সে কোন দিন কোন সাক্ষী হতে পারে না। এই বাক্যটুকু উপরের ২টা শর্তের সাথে মিলিয়ে নিন।



                               📒 প্রমান সাপেক্ষে আলোচনা 📒



                             📖 আল-কোরআন ও তফসীর থেকে :-


★ আল কুরআনে আল্লাহ বলেন,
‘‘ইন্না আরসালনাকা বিল হাক্‌কি বাশিরাও ওয়া 'নাজিরাও' ওয়াইমমিন উম্মুতিন ইলা খালা ফি’হা 'নাযির'।"
আমি তোমাকে (রাসূল) সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে, এমন কোন সম্প্রদায় নেই, যার নিকট সতর্ককারী প্রেরীত হয়নি- (সূরা: ফাতির, আয়াত- ২৫)

Note: নাযির অর্থ সতর্ককারীও হয়।

★ সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করব আর এদের সকলের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষ্যীরুপে আনয়ন করব।
সুরা নাহল ৮৯

★ “তবে কেমন হবে যখন আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, এবং হে মাহবুব, আপনাকে তাদের সবার ব্যাপারে সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারী স্বরূপ উপস্থিত করবো?” (৪:৪১)

*** মহানবী (দ:) যা জানেন না বা দেখেন নি সে সম্পর্কে তো তাঁকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলা হবে না। তিনি এগুলো দেখবেন বলেই ওনাকে সাক্ষী স্বরুপ বলা হয়েছে।

★ “এবং জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (দ:) রয়েছেন” (৪৯:৭)।

★ “অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(দ:)।”[৯:৯৪]

★ এবং “আপনি বলুন: আমল করে যাও; অতঃপর তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ:) এবং মো’মেন মুসলমানবৃন্দ” (৯:১০৫)।

হাদিস দিয়ে উক্ত সাক্ষী শব্দটি বুঝিয়ে দিচ্ছি :


★ রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের সমস্ত কোটি কোটি মুমিন-মুসলমানের আমলের উপর দেখে দেখে সাক্ষী থাকবেমবেন :-

 হযরত আবুযর গিফারী (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে,

عُر ضَتْ عَلَىَّ اَعْمَالُ اُمَّتِىْ حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا فَوَجَدْت فِىْ مَحَاسِنِ اَعْمَالِها الْاَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيْقِ

(আমার সামনে আমার উম্মতের ভালমন্দ সমূহ পেশ করা হয়েছে। আমি তাদের নেক আমল সমূহের মধ্যে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সমূহ অপসারনের মত পূণ্য কাজও লক্ষ্য করেছি।

সুত্র : মিশকাত শরীফ : ‘মাসাজিদ’ অধ্যায়


★ নবাব সিদ্দিক হাসান খাঁ ভূপালী (ওহাবী) বলেন,"

তাশাহুদে আসসালামু আলাইকা বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ জন্যই সম্বোধন করা হয় যে, তিনি জগতের কনায় কনায় বিদ্যমান। নামাযীর সত্বার মাঝে হাযির ও বিরাজমান।

[নওয়াব সিদ্দিক আলী ভূপালী তার রচিত : মিসকুল খেতাম (হাজির নাজির অত্র অধ্যায়ের ৩য় পরিচ্ছেদ)]

Note : সাক্ষী সেই যে নাকি উপস্থিত অথবা তার সম্মুখে সব আমল দেখানো হচ্ছে। তাহলে এর চেয়ে বড় প্রমান আর কি হতে পারে?


                               📖 হাদিসের আলোকে :-



নিচে যা যা প্রমান করা হল এক নজরে সংক্ষেপে :

১) রাসুলুল্লাহ (সা) এর দুরদৃষ্টি কেমন আর কত দুর?
২) তার কাছে দুরুদ, সালাম, সমস্ত আমল সমুহ পেশও করা হয়। এই ভাবে দেখে দেখে তিনি আমাদের সমস্ত কাজগুলোর সাক্ষী হয়ে থাকেন।
৩) পৃথিবী সৃষ্টির পুর্বে আদম (আ) সৃষ্টির পুর্বেও তার অস্তিত্ব ছিল। তিনি অতীতের সমস্ত নবী ও উম্মতকে দেখেছেন।
৪) তিনি এমন নবী যিনি আল্লাহর প্রদত্ত ক্ষমতায় অতীত, বর্তমান , ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অঢেল সব হাদিস বর্ননা করে গেছেন। সুতরাং উম্মতের হালত সম্পর্কে আর আমল সম্পর্কে এখনো তিনি সাক্ষী আছেন, কিয়ামত পর্যন্ত যত কোটি কোটি উম্মত আসবেন তাদের আমল সম্পর্কেও সাক্ষী থাকবেন।


নিচের হাদিস গুলো পড়লে বুঝবেন :


★ (সংক্ষিপ্ত করার জন্য ৩/৪ টা হাদিস [আমি মাসুম বিল্লাহ সানি] একত্র করে দিলাম)

রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم বলেন,""

আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর (৩ বার বলেছেন)।
আমার ওফাত ও তোমাদের জন্য কল্যাণকর (৩ বার বলেছেন)।



অতঃপর লোকজন নিরব হয়ে গেল! হযরত ওমর (রাঃ) বললেন,
"আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবানী হউক (তাজিমার্থে)"।
তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন এটা কিভাবে সম্ভব ?

রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلم বলেন,"
আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর কারন --

""আমি তোমাদের সাথে কথা বলি এবং তোমরা আমার সাথে কথা বল ।""

""আমার উপর (দয়াময় রব আসমান থেকে) ওহী নাযিল করেন ।আমি তোমাদেরকে বলে (সতর্ক করে) দেই তোমাদের জন্য কোনটা জায়েজ (উচিত) আর কোনটা নাজায়েজ অনুচিত ।""

"আর আমার ওফাত ও তোমাদের জন্য কল্যাণকর কারণ প্রতি বৃহস্পতিবার এ তোমাদের কর্ম গুলো আমার নিকট ওপস্থিত করা হবে ।তোমাদের কোন ভাল কাজ দেখলে তার জন্য আল্লাহর কাছে তোমাদের প্রশংসা করব আর (এর জন্য প্রভুর) কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব !"

"তোমাদের কোন পাপ দেখলে তার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা করব ।""


References :

★ From: Bazzar
Book: Al Musnad
Volume: 5
Page: 308
Hadith number: 1925

★ From: Shashi
Book: Al Musnad
Volume: 2
Page: 253
Hadith number: 826

★ From: Abu Hatim
Book: al-Jarh wa ’l-Ta ‘ dil ,
Volume : 6/64

★ From : ibn Hajar Asqalani
Book: Taqrib wa ’l-Tahdhib
Volume : 1/478

★ From : Imam Abu Dawud

★ From: Imam Ahmad b. Hanbal

★ ibn Ma‘in,

★ From : Imam al-Nasa’i
Book: As-sunan

★ From : Shaykh Shu‘ayb al-Arna’ut
Book: Tahrir al-Taqrib ,
Volume : 2/379
Hadith : 4160

★From : al-Mughni ,
Volume : 1/571
Hadith : 3793

★ Book : Tarikh al-Dawri,
Volume : 2/370

★ Book : al-Burqani,
page .317

★ From : ibn Hibban,
Book : Kitab al-Majruhin ,
Volume : 2/160.

★ Book : Kitab al-Hajj
Page : (#179).

★ From : ibn Hajar al-‘Asqalani’
Book : Matalib al -‘ Aliyah ,
Volume : 4/22.

★ From : al-Suyuti
Book : Manahil al-Safa fi Takhrij Ahadith al-Shifa’
page .31 (#8)

★ Book : Tahdhib of that book
From : Shaykh ‘Abd Allah al-Talidi,
Page. 458-459 (# 694)

★ From : al-Munawi,
Book : Fayd al-Qadir
Volume : 3/401

★ From : an Haml al-Asfar
Volume : 4/148

★ From : Mahmud Mamduh
Book : Raf ‘ al-Minarah ‘ an Takhrij Ahadith al-Ziyarah ,
Page.156-159

★ From : Abd al-Hadi
Book : al-Sarim al-Munki , p.217

★ From : al-Albani
Page : 37
Book : Silsilah Ahadith al-Da ‘ ifah
Hadith : (#979).

★ From: Juhdami
Book: Fadl As Salah ‘Alan NABI PEACE BE UPON HIM
Volume: 1
Page: 38-39
Hadith number: 25-26

★ From: Ibn e Sa’d
Book: Tabqaat
Volume: 2
Page: 194

★ From: Daylami
Book: Musnad Al Firdoos
Volume: 1
Page: 183
Hadith number: 686

★ From: Haithami
Book: Majma’ Az Zawaid
Volume: 9
Page: 24
Hadith : 91

★ From: Zahabi
Book: Sayyir Al A’laam An Nubala
Volume: 17
Page: 106

★ From: Mizzi
Book: Tahdheeb al Kamal
Volume: 14
Page: 558

★ From: Hafiz Ibn e Katheer
Book: Tafseer Al Quran Al Azeem
Volume: 3
Page: 516

★ From: Zurqani
Book: Sharah Al Mawahib
Volume: 7
Page: 373

★ From: Al Haarith in Al Musnad (Zawaid Al haithami)
Book: Alamat An Nubuwwah
Chapter : Hayatihi wa Wafatihi
Volume: 2
Page: 884
Hadith number : 953

★ From: Ibn e sa'd
Book: Tabqaat Al Kubra
Vol+Page : 2 /194 & 5/500

★ From: Ibn e Jawzi
Book: Al Wafa bi Ahwaal Al Mustafa PEACE BE UPON HIM
Page: 862
Hadith number : 1564

★ From: Hindi
Book: kanzul A'mal
Volume: 11
Page: 407
Hadith number : 31904

★ From: Subki
Book: Shifa As Siqaam
Page: 34

★ From: Imam Jalal ud Din Suyuti
Book: Khasais Al Kubra
Volume: 2
Page: 491

★ From: Mulla Ali Qari
Book: sharah Shifa
Volume: 36

★ From: Khifaji
Book: Naseem ur Riyadh Sharah shifa Qadi Ayyad
Volume: 1
Page: 173

★ From: Fayrooz Abadi
Book: As Salat wal Bashar fis Salat ala Khair il Bashar
Page: 104-105

★ From: Al- Irāqī
Book: Tarh al-Tathrib fi Sharh
Volume : 3:297

★ From : al-Mundhiri
Book : Targheeb waal-Tarheeb
Volume: 3:343

★ From: Daylami
Book: Musnad Al Firdos
Volume: 2
Page: 137
Hadith number: 2701

★ From: Qadi Ayyad
Book: As Shifa
Page: 19

★ From: Hakeem Tirmidhi
Book: Nawadir Al Usul
Volume: 4
Page: 176

★ From: Zahabi
Book: Mizan Al Itidal
Volume: 2
Page: 439

★ From: Ibn e 'Adi
Book: Al Kaamil
Volume: 3
Page: 76

★ From: Ibn e Hajr 'Asqalani
Book: Lisan Al Mizan
Volume: 2
Page: 395
ID: 1620

★ From: 'Ajluni
Book: Kashaf Al Khifa
Volume: 1
Page: 1178

★ From: Imam Jalal ud Din suyuti
Book: Al Hawi Lil Fatawa
Volume: 2
Page: 3

★ From: Sakhawi
Book: Al Qaul Al Badi' Fee salat 'Ala Al Habeeb Ash Shafee'
Page: 160

★ From: Nabhani
Book: Hujjat ALLAH 'alal Alameen fee Mu’jazat Al Mursaleen PEACE BE UPON HIM
Page: 713




                            📖   রাসুলুল্লাহ (সা) যে কতকিছুর প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী অর্থাৎ
                          কতকিছু দেখেছেন জেনেছেন তা একমাত্র আল্লাহই জানেন :



★ হযরত ছওবান (রাদিয়াআল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করা হয়েছেঃ-

اِنَّ اللهَ زَوى لِىَ الْاَرْضَ فَرَءَيْتُ مَشَارِقَ الْاَرْضِ وَمَغَارِبَهَا

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আমার সম্মুখে গোটা পৃথিবীকে এমনভাবে সঙ্কুচিত করেছেন, যে আমি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত ও পশ্চিমপ্রান্ত সমূহ স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।

সুত্র :  ১) মিশকাত শরীফের ‘ফযায়েলে সায়্যিদুল মুরসালীন’ শীর্ষক অধ্যায়
২) ‘মুসলিম শরীফ

Note : তাহলে কি তিনি আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন না? এটা হাজির নাজিরের শর্ত হল না?


★ হযরত আবদুর রহমান ইবন আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ-
আমি আল্লাহ তা’আলাকে সুন্দরতম আকৃতিতে দেখেছি। তিনি স্বীয় কুদরতের হাতখানা আমার বুকের উপর রাখলেন, যার শীতলতা আমি স্বীয় অন্তঃস্থলে অনুভব করেছি। ফলে, আসমান যমীনের সমস্ত বস্তু সম্পর্কে অবগত হয়েছি।

সুত্র :  মিশকাত শরীফ : ‘মাসাজিদ’ অধ্যায়


***** তিনি অতীত দেখেছেন :-

★ ইমাম বুখারী (রহ) বর্ননা করেন,
রাসুলুল্লাহ (সা) অতীতের সমস্ত নবীগন (আ) কে এবং ওনাদের উম্মতগনকে দেখেছেন।

সুত্র : সহিহ বুখারী : অধ্যায় "মানাকিব"
(আরো অসংখ্য হাদিস আছে বড় হয়ে যাবে বলে দিলাম না)

***** তিনি বর্তমান,  ভবিষ্যৎ দেখে বর্ননা করেছেন :


★ মিশকাত শরীফের মাসাজিদ অধ্যয়ে তিরমিযী শরীফের  বর্ণিত আছেঃ

فَتَجَلَّى لِىْ كُلُّ شَيْئٍ وَعَرَفْتُ

 প্রত্যেক কিছু আমার কাছে উন্মুক্ত হয়েছে এবং আমি এগুলো চিনতে পেরেছি।

সুত্র : ১) মিশকাত শরীফ : মাসাজিদ অধ্যয়
২)  তিরমিযী শরীফের

★ হযরত হুযাইফা (রাদিয়াআল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিত হয়েছেঃ

مَاتَرَكَ شَيْأً يَكُوْنُ فِىْ مَقَامِه اِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ اِلَّا حَدَّثَ بِه حَفِظَهُ مَنْ حَفِطَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيْهُ

অর্থাৎ হুযুর আলাইহিস সালাম সে জায়গায় কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, সব কিছুর খবর দিয়েছেন, কোন কিছুই বাদ দেননি। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা সব স্মরন রেখেছেন, আর অনেকে ভুলেও গেছেন।

সুত্র :  ১) মিশকাত শরীফের اَلْفِتنٌ  অধ্যায়
২) বুখারী ও
৩) মুসলিম


★ হযরত হুযাইফা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ-

হুযুর আলাইহিস সালাম পৃথিবীর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য কোন ফিতনা পরিচালনাকারীর কথা বাদ দেননি যাদের সংখ্যা তিনশত কিংবা ততোধিক হবে এমন কি তাদের নাম তাদের বাপের নাম ও গোত্রের নামসহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

সুত্র :  মিশকাত শরীফ : অধ্যায় ‘ফিতনা’ : ২য় পরিচ্ছদ

★ হযরত আবুযর গিফারী (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ-

لَقدْ تَرَكْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ وَما يُحَرِّكُ طَائِرٌ جَنَاحَيْهِ اِلَّا ذَكَرَلَنَا مِنْهُ عِلْمًا

হুযুর আলাইহিস সালাম আমাদেরকে এমনভাবে (বিস্তারিত) অবহিত করেছেন যে, একটা পাখীর পালক নড়ার কথা পর্যন্ত তার বর্ণনা থেকে বাদ পড়েনি।

সুত্র : মুসনাদে আহমদ।


★ রাসুল (দঃ) একই সংগে ৩ স্থানে হাজির ! সুবহানআল্লাহ!

হযরত আবু ইবনে উবাইয়া ( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে বর্ণিত।

একদিন হযরত বিলাল ( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) যোহর নামাজের আগে মসজিদ পরিষ্কার করছিলেন। পরিষ্কার করতে করতে একসময় তিনি নীচে লুটে পরে গড়াগড়ি শুরু করে দিলেন। সাহাবাগণ ( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) এমন অবস্থা দেখে রাসূল ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) এর কাছে এটা বলতে গেলেন। রসূল ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) বললেন, "তোমরা বিলালকে গিয়ে বল আমি ডাকছি।(১ম স্থান)

" হযরত বিলাল ( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) কে ডেকে আনা হলে রসূল ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) ওনার মাথায় হাত বুলিয়ে আযান দিতে যেতে বললেন। বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বের হয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। এমন সময় সাহাবাগণ বললেন, "রসূল ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) আপনাকে কিছু বললেন না কেন?" হযরত বিলাল ( রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বললেন, "তোমাদের যখন আমাকে ডেকে আনতে পাঠানো হল তার আগেই রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম) আমার সামনে উপস্থিত ছিলেন।(২য় স্থান)

আমার কাছে তিনি জানতে চাইলেন, 'বিলাল তুমি নীচে এমন গড়াগড়ি করছ কেন?' আমি উত্তর দিলাম 'ইয়া রসূলাল্লাহ' আমি যখন মসজিদ পরিষ্কার করতে ঝাড়ু হাতে নিলাম তখন দেখলাম হাজার হাজার ফেরেশতা আপনার পেছনে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে আছে। (৩য় স্থান)

তাদের গায়ে এই ঝাড়ু লাগুক তা আমি চাইনি। তাই ময়লাগুলো নিজ শরীরে গড়াগড়ি দিয়ে তুলছিলাম।' অতঃপর তাই আমাকে রসূল (দঃ) আর কিছু বলেননি।"

(ইবনে মাজা শরীফ, খন্ড ২, হাদিস নং ৪৩৫৬,
মসনদে আনাস বিন মালেক, খন্ড ৩, প্রিষ্ঠা ৪২১)



★ একসাথে ২/৩ জায়গায় হাজির-নাজির:-

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি আশুরার দিন দুপুরে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাসূল সা. অত্যন্ত শোকাহত, তার চুলগুলো উসকো খুসকো। এমতাবস্থায় একটি রক্তভরা শিশি নিয়ে তিনি উপস্থিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! এই রক্ত কিসের? নবীজী সা. বললেন, এইমাত্র হুসাইন এবং তার সাথীদের রক্ত কারবালার মাটিতে পড়েছে, আমি উঠিয়ে নিয়ে এসেছি। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এরপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি তারিখটা স্মরণ রাখলাম। পরে জানতে পারলাম যে,
যেই সময় হযরত ইমাম হুসাইন (রা) কারবালায় শাহাদত বরণ করেছেন,
ঠিক সেই সময় রাসুলুল্লাহ (সা) ইমাম হোসাইন (রা) এর রক্তের শিশি হাতে নিয়ে আমার সামনে এসেছিলেন (১ম)।
(মুসনাদ আহমাদ বিন হাম্বাল, হাদিস নং ২১৬৫। হাদিটির সনদ সাহীহ)

উম্মে সালামা (রা) থেকেও অনুরূপ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে (ওনাকেও সেই খবর দিয়েছিলেন) (২য়)। ২৪ দিন পরে মদীনাতে কারবালার নৃশংস ঘটনার খবর এসে পৌঁছলে তাঁদের দুজনের স্বপ্ন সত্য প্রমানিত হয়।

★ হযরত উম্মে সালমা রঃ স্বপ্ন যোগে রাসূলে পাক দঃ কে ধুলা মিশ্রিত অবস্হায় দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলে প্রিয় নবী দঃ প্রতি উত্তরে বলেন ﺷﻬﺪﺕ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﺍﻧﻔﺎ সবেমাত্র আমি আমার প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইনের শাহাদাত প্রত্যক্ষ করেছি। তিরমীজি , বায়হাকী , মেশকাত শরীফ পৃঃ ৫৭০, ৫৭২

[বি: দা: যেহেতু শয়তান রাসুলে পাকের আকৃতি ধারন করতে পারেনা আর স্বপ্নে কেউ রাসুল (সা) কে দেখলে সে সত্যিই তাঁকে দেখল। রাসুল (সা) আশুরার দিন স্বশরীরে কারবালার ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি হাজের ও নাজের। এটা ওনার ওফাতের পর তাই স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করলে তিনি রওজা মোবারকেও ছিলেন (৩য়) । আর সেই সকল সত্য খবরাদি তিনি দিয়ে গেছেন স্বপ্নে কারন এটাই স্বাভাবিক ওনার বিসাল হয়ে গেছে বলেই তিনি রহস্যময় ভাবে স্বপ্নে দিয়েছেন। এর দ্বারা হায়াতুন্নবী (সা) ও হাজির-নাজির ২টাই প্রমান করে।]


★ হাদিসে এসেছে :-

ﻭ ﺍﻥ ﻣﻮﺍﻋﺪﻛﻢ ﺍﻟﻀﻮﺽ ﻭ ﺍﻧﻲ ﻻﻧﻈﺮ ﺍﻟﻴﻪ ﻭ ﺍﻧﺎ ﻓﻲ ﻣﻘﺎﻣﻲ

নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে আমার পরবর্তী স্বাক্ষাত হবে হাওযে কাওসারে । নিশ্চয়ই আমি এ স্থান হতে হাওযে কাওসার প্রতিনিয়ত অবলোকন করছি । আলহাদিস, সহীহ বোখারী ২য় খন্ড , পৃঃ ২৭৯

Note: যিনি জায়গায় বসে দুনিয়াতে থেকে হাউজে কাওসার দেখতে পারেন সেই নবী (সা) এর দুরদৃষ্টি কতটুকু হতে পারে এক বার ভেবে দেখুন। তিনি কি তাহলে উম্মতের হালত আর অবস্থার সাক্ষী নয়?
রাসুলুল্লাহ (সা) এর ক্ষেত্রে সাক্ষী মানেই হাজির নাজির বুঝানো হয়। কারন সাক্ষী সেই হয় যে নাকি এক জায়গায় বসে সমস্ত ঘটনাবলি দেখে দেখে সাক্ষী হয় অথবা ঘটনাস্থলে স্বশরীরে হাজির হয়ে সাক্ষী হন।




                                      📖 হাদিস শাস্ত্রের ইমামগনের (মুহাদ্দিসগনের) আকিদা :-



★ শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ) বলেন-


উলামায়ে উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, হুযুর আলাইহিস সালাম প্রকৃত জীবনেই (কোনরূপ রূপক ও ব্যবহারিক অর্থে যে জীবন, তা নয়) স্থায়ীভাবি বিরাজমান ও বহাল তবীয়তে আছেন । তিনি উম্মতের বিশিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞাত ও সেগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী রূপে বিদ্যমান তথা হাযির-নাযির। তিনি হকীকত অন্বেষনকারী ও মহান দরবারে নবুয়াতির শরণাপন্নদের ফয়েযদাতা ও মুরুব্বীরূপে বিদ্যমান আছেন।
সুত্র : আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) : কিতাব : سلوك اقرب السبل بالتوجه الى سيد الرسل


★ প্রাচ্যের বুখারী খ্যাত শেখ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী রহঃ বর্ণনা করেছেন :-
ﺍﮔﺮ ﺑﻌﺪ ﺍﺯﺍﻥ ﮔﻮﯾﻨﺪ ﮐﮧ ﺣﻖ ﭘﻌﺎﻟﯽ ﺟﺴﺪ ﺷﺮﯾﻒ ﺭﺍﺣﺎﻟﺘﮯ ﻭﻗﺪﺭ ﺗﮯ ﺑﺨﺸﯿﺪﮦ ﺍﺳﺖ ﮐﮧ ﺩﺭ ﮬﺮ ﻣﮑﺎﻧﮯ ﮐﮧ ﺧﻮﺍﮬﺪ ﺗﺸﺮﯾﻒ ﺑﺨﺸﺪ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺜﺎﻝ ﺑﻤﺜﺎﻟﮯ ﺧﻮﮦ ﺑﻌﯿﻨﯿﮧ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺮ ﺍﺳﻤﺎﻥ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺮ ﺯﻣﯿﻦ ﺧﻮﺍﮦ ﺩﺭ ﻗﺒﺮ ﯾﺎ ﻏﯿﺮﻭﻋﮯ ﺻﻮﺭﺗﮯ ﺩﺍﺭﺩﺑﺎ ﺟﻮ ﺩﺛﺒﻮﺕ ﻧﺴﺒﺖ ﺧﺎﺹ ﺑﻘﺒﺮ ﺩﺭﮬﻤﮧ ﺣﺎﻝ

যদি বলা হয় যে আল্লাহ তাআলা হুযুর দঃ এর পবিত্র শরীরে এমন এক অবস্হার সৃষ্টি করেছেন ও এমন এক শক্তি দান করেছেন যে তিনি কোন শরীর ধারণ করে অনায়াসে গমন করতে পারেন , কবরের মধ্যে হোক বা আসমানের উপর হোক , এ ধরণের কথা সঠিক ও বাস্তবসম্মত । তবে সর্বাবস্হায় কবরের সাথে সম্পর্ক বজায় থাকে । মাদারেজুন নবুয়ত খন্ড ২ পৃঃ ৪৫০

★ ঈমাম জালাল উদ্দীন সুয়ুতী রহঃ বলেন :

ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻓﻲ ﺍﻋﻤﺎﻝ ﺍﻣﺘﻪ ﻭﺍﻻﺳﺘﻐﻔﺎﺭ ﻟﻬﻢ ﻣﻦ ﺍﺳﻴﺌﺎﺕ ﻭﻟﺪﻋﺎﺀ ﺑﻜﺸﻒ ﺍﻟﺒﻼﺀ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﻟﺘﺮﺩﺩ ﻓﻲ ﺍﻗﻄﺎﺭ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﺍﻟﺒﺮﻛﺔ ﻓﻴﻬﺎ ﻭ ﺣﻀﻮﺭ ﺟﻨﺎﺯﺓ ﻣﻦ ﺻﺎﻟﺤﻲ ﺍﻣﺘﻪ ﻓﺎﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﻮﺭ ﻣﻦ ﺍﺷﻐﺎﻟﻪ ﻛﻤﺎﻭﺭﺩﺕ ﺑﺬﺍﻟﻚ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻭﺍﻻﺛﺎﺭ

উম্মতের বিবিধ কর্ম , তাদের পাপরাশির ক্ষমা প্রার্থনা করা ,তাদেরকে বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য দোআ করা ,পৃথিবীর একপ্রান্ত হদে অন্য প্রান্তে আনাগোনা করা ও বরকত দান করা এবং নিজ উম্মতের কোন ধেক বান্দাহর ওফাত হলে তার জানাযাতে অংশগ্রহণ করা এগুলো হচ্ছে রাসূল দঃ এর সখের কাজ ।কোন কোন হাদিস থেকেও এসব কথার সমর্থন পাওয়া যায় । ইনতেবাহুল আযকিয়া ফি হায়াতিল আউলিয়া ,পৃষ্ঠা ৭



★ ইমাম ইবনুল হাজ্জ ও ইমাম কুসতালানী (রহ) বর্ণনায় লিখেছেনঃ

وَقَدْ قَالَ عُلَمَاءُ نَالَا فَرْقَ بَيْنَ مَوْتِه وَحَيو تِه عَلَيْهِ السَّلَامُ فِىْ مُشَاهِدَ تِه لِاُمَّتِهِ وَمَعرِ فَتِه بِاَحْوَ الِهِمْ وَنِيَّا تِهِمْ وَعَزَائِمِهِمْ وَخَوَاطِرِ هِمْ وَذلِكَ جَلِىٌّ عِنْدَهُ لَاخَفَاءَبِه

আমাদের সু-বিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে, হুযুর আলাইহিস সালামের জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তিনি নিজ উম্মতকে দেখেন, তাদের অবস্থা, নিয়ত, ইচ্ছা ও মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তার কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট কোনরূপ অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।

সুত্র :

★ ইমাম ইবনুল হাজ্জ مدخل গ্রন্থে
★ ইমাম কুসতালানী (রঃ) مواهب  (মাওয়াহিব)  গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে زيارة قبره شريف শীর্ষক বর্ণনা

★ মোল্লা আলী কারী (রহঃ) বলেনঃ-

وَقَالَ الْغَزَ الِىْ سَلِّمْ عَلَيْهِ اِذَا دَخَلْتَ فِى الْمَسْجِدِ
فَاِنَّهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَحْضُرُ فِى الْمَسَجِدِ

ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেছেন, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করবেন, তখন হুযুর আলাইহিস সালামকে সশ্রদ্ধ সালাম দিবেন। কারণ তিনি মসজিদসমূহে বিদ্যমান আছেন।

সুত্র : মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাতে মোল্লা আলী কারী (রহঃ)

★ ইয়াম কাযী আরায (রহঃ) উল্লেখ করেন :-

আম্বিয়ায়ে কিরাম (আলাইহিস সালাম) শারীরিক ও বাহ্যিক দিক থেকে মানবীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তবে, আভ্যন্তরীণ ও রূহানী শক্তির দিক থেকে ফিরিশতাদের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ কারণেই তাঁরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখতে পান, আসমানের চিড়চিড় আওয়াজ শোনেন এবং হযরত জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) তাদের নিকট অবতরণের ইচ্ছা পোষণ করতেই তার সুঘ্রাণ পেয়ে যান।

সুত্র : ইয়াম কাযী আরায (রহঃ) : শিফা শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ নসীমুর রিয়ায এর ৩য় খণ্ড




Sunday, May 17, 2015

"আমাদের চোখে লবণ কেন? কানে তিক্ততা কেন? নাসারন্ধ্রে গরম কেন? জিহ্বায় স্বাদ কেন?

(তথ্যসূত্রঃ মানাক্বিবুল ইমাম আবু হানিফা লিল- মাক্কী-১৪৩, উসূলুদ্দীন ইনদাল ইমাম আবি হানীফা-১/১৪৯, স্মরণ ও সান্নিধ্য: আল্লামা হাশেমীর নোটখাতা) 

ইমাম আযম আবু হানিফা (রা.) সত্যিকারের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এবং আওলাদে রাসূলের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা পোষণকারী মহান ব্যক্তি। ইমাম আযম আবু হানিফা (রা.) যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি যুক্তির উপর 
হাদীসে রাসূলকে প্রাধান্য দেন। 

আহলে হাদীস(!) নামক সালাফীরা যে ইমাম আযম আবু হানিফা (রা.) এর বিরুদ্ধে হাদীস না মানার মিথ্যা অভিযোগ করে উল্লেখিত ঘটনাটি তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব। ইমাম আবু 
হানিফা (রা.) আওলাদে রাসূল কর্তৃক চুমু খাওয়ার সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। 

পরিশেষে কোরআন-হাদীসের বাইরে কিছু মানেনা দাবীদার সালাফী তথা লা-মাযহাবী বন্ধুদের প্রতি প্রখ্যাত তাবেয়ী ও মুহাদ্দিস হযরত সুলাইমান আমশ এর একটি উক্তি, দু’টি প্রশ্ন ও 
একটি অনুরোধ রেখে প্রথম পর্বের আলোচনা শেষ করতে চাই। 

প্রখ্যাত তাবেয়ী ও মুহাদ্দিস হযরত সুলাইমান আমশ তায়েবী কয়েকশ মুহাদ্দিস ও ফকিহ'র উপস্থিতিতে ইমাম আবু হানিফাকে বলেছিলেন, হে ফকিহ সম্প্রদায়! আপনারা হচ্ছেন ডাক্তার আর আমরা হলাম ওষুধ বিক্রেতা। 

প্রশ্ন দু’টি হলঃ 
(ক) হাদীস শরীফে পানির জাহাজ তথা যে কোন জলযান ও 
প্রাণীর উপর সওয়ারীদের কিভাবে নামাজ পড়তে হবে তার বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু উড়ো জাহাজে কিভাবে নামাজ পড়বেন তার সমাধান কিভাবে দেবেন? 

(খ) হাদীস শরীফে যেকোন প্রক্রিয়াজাত চামড়াকে পবিত্র বলা 
হয়েছে। আমার সালাফী বন্ধুরা কুকুর, শুকুর, বাঘ ও শিয়ালের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করলে তাকে কি বৈধ বলবেন? 

সালাফী বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ, কোরআন হাদীস ছাড়া কিছু 
মানিনা, বুঝি না বলে মাযহাবের ইমাম ও মুজতাহিদগণের কোরআন হাদীসের আলোকে ইজমা কিয়াসের মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে উত্তম পন্থা 
উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধের অপচেষ্টা চালাবেন না। বলার অপেক্ষা রাখে না সর্বকালের সর্বযুগের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও সার্বজনীন ধর্ম ইসলাম সব সময় মধ্যপন্থা কেই পছন্দ করে। কোন প্রকার 
উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের স্থান ইসলামে নেই। 

★ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ইমাম জাফর সাদেকের (রা.) সাথে: 

বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত ইবনু আবি ইয়ালা (রহ.) বর্ণনা করেন, আমি এবং আবু হানীফা (রা.) একদিন আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত ইমাম জা’ফর সাদেক (রা.) (যিনি হচ্ছেন ইমাম বাকের (রা.) এর ছেলে) এর দরবারে গেলাম। 

তিনি আমার সাথে কে জিজ্ঞেস করলে আমি উত্তরে বললাম, তিনি হচ্ছেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও দ্বীনের বিষয়ে পন্ডিতজন ব্যক্তি। 

শুনে তিনি বললেন, তিনি দ্বীনের বিষয়কে যুক্তি দিয়ে যাচাই করেন? 

আমি বললাম, হ্যাঁ। 

তখন তিনি আবু হানিফাকে বললেন, আপনার নাম কি? 

তিনি বললেন, নু’মান। 

শুনে ইমাম জা’ফর সাদেক (রা.) বললেন, মস্তককে যুক্তি দিয়ে মাপার কী আছে? 
তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি কি জান চোখের পানিতে লবণাক্ততা কেন? 
কর্ণের মধ্যে তিক্ততা কেন? 
নাকের মধ্যে গরম কেন? 
জিহ্বায় মিষ্টি কেন? 

ইমাম আবু হানিফা (রা.) বললেন, এর কারণ তো আমার জানা নেই। 

ইমাম জাফর সাদেক (রা.) বললেন, তুমি এমন কোন বাক্য সম্পর্কে জান, যেটার প্রথম অংশ মানুষকে নাস্তিক তথা কাফের 
বানায় আর অপর অংশ মু’মিন বা বিশ্বাসী বানায়? 

তিনি বলেন, আমি তো জানিনা। 

অতঃপর ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু 
বললেন, কোনটা বড় অপরাধ- যেনা, নাকি খুন? 

ইমাম আবু হানিফা (রা.) বললেন, আমার তো মনে হয় খুন করা বড় অপরাধ। 

ইমাম জা’ফর সাদেক (রা.) বললেন, তাহলে আহকামুল হাকেমীন আল্লাহর হেকমত কি? বড় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও খুনের ক্ষেত্রে দুইজন সাক্ষীই যথেষ্ট আর তুলনামূলকভাবে কম অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও যেনার ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন কেন? এই ক্ষেত্রে তোমার যুক্তিটা কি? 

ইমাম আবু হানীফা (রা.) বললেন, আমি তো জানি না। 

অতঃপর বললেন, বলতো কোনটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ? নামায নাকি 
রোযা? 

তিনি বললেন, অবশ্যই নামায অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তখন তিনি বললেন, তাই যদি হয় তাহলে ঋতুবর্তী মহিলাদেরকে পরবর্তীতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও নামায কাযা করতে হয়না অথচ তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রোযা আদায় করতে হয় কেন? এ ক্ষেত্রে তোমার যুক্তি কি? 

ইমাম আবু হানিফা (রা.) বললেন, আমি জানি না। হযরত ইমাম জা’ফর সাদেক (রা.) বললেন, হে নু’মান! কান পেতে শুন, 
আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেছেন, 
“আল্লাহর নির্দেশের ক্ষেত্রে প্রথম যুক্তি দিয়ে যাচাই করেছিল ইবলীস শয়তান। আল্লাহ পাক ইবলীসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হযরত আদম (আ.) কে সেজদা করতে, তখন ইবলীস যুক্তি খাড়া করে বলেছিল, “আমি আদমের চেয়ে উত্তম, আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে”। 
অতএব, যে ব্যক্তি দ্বীনকে যুক্তি দ্বারাই যাচাই করবে তাকে কেয়ামতের দিন ইবলীসের সাথী বানিয়ে দিবেন। কেননা সে 
যুক্তি খাটিয়ে ইবলীসের অনুসরণ করেছে। 

অতঃপর ইবনু আবি ইয়ালা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর সন্তান! আপনি আবু হানিফাকে যে প্রশ্নগুলো করেছেন সেগুলোর উত্তর 
অনুগ্রহ করে আমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। 

তখন ইমাম জা’ফর সাদেক (রা.) বললেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 
“আল্লাহ তা’য়ালা বড় দয়া ও এহসান করে বনী 
আদমের চোখে লবন দান করেছেন, চোখ যেহেতু চর্বি জাতীয় তাতে লবন না থাকলে তা গলে যেত, আর চোখে লবণ না থাকলে দৃশ্যাবলী পানসে লাগত। 
বনি আদমের উপর আল্লাহ তা’আলার এক মহা রহমত বা ইহসান যে, তিনি কানের ভিতর তিতা রেখে কীট-পতঙ্গ ঢুকে 
ব্রেইনে আঘাত করা থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। ফলে 
কানের মধ্যে কীট-পতঙ্গ ঢুকলে ভিতরের তিতা অনুভব করে ত্বরিত বের হয়ে পড়ে। 
নাসিকা ইন্দ্রে উত্তাপ দিয়েও আল্লাহ পাক মানব জাতির উপর বড় দয়া ও রহম করেছেন। নাসিকা রন্দ্রের উত্তাপ ক্ষতিকর জীবাণু মিশ্রিত ঘ্রাণকে সেদ্ধ করে তা ব্রেনের জন্য সহনীয় করে
দেয়। ফলে তা সরাসরি ব্রেনে ক্ষতি করতে পারে না। 
ইহাও মহান আল্লাহর এক মহা দান ও রহমত যে, তিনি বনি 
আদমের জিহ্বায় মিষ্টতা রেখেছেন। এর ফলে বান্দা প্রত্যেক জিনিষের স্বাদ অনুভব করতে পারে আর মুখের 
সুমিষ্ট ভাষা বলার সুযোগ হয়। 

ইবনু আবি ইয়ালা (রহ.) বলেন, হে মহান ইমাম! আমাদেরকে সেই বাক্য সম্পর্কে বলুন যার প্রথম অংশ কুফরী আর শেষাংশ 
ঈমান। 

তখন তিনি বলেন, “বান্দা যখন ‘লা-ইলাহা’ বলে, তখন সে অবিশ্বাসী হয়ে যায়, আর যখন ‘ইল্লাল্লাহ’ বলে তখন সে ঈমানদার হয়ে যায়”। 

ইবনু আবি ইয়ালা বলেন, হে মহান ইমাম! খুনের ক্ষেত্রে দুইজন সাক্ষী আর যেনার ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর কারণ কি? 

তিনি উত্তরে বললেন, যেহেতু খুনের অপরাধটা একজনের দ্বারা সংঘটিত হয় তাই দুইজন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়, আর যেনা হচ্ছে দুইজনের যৌথ অপরাধ, তাই সাক্ষীও চারজন প্রয়োজন
হয়। সুবহানাল্লাহ। 

(তথ্যসূত্র: হিলয়াতুল আউলিয়া লিল ইসফাহানী-৩/১৯৬, স্মরন ও সান্নিধ্য: আল্লামা হাশেমীর নোটখাতা)

Friday, May 15, 2015

ড জাকির নায়েক আল-কুরআনের "হুর" শব্দের ভুল অর্থ প্রচার করল :


পিস টিভিতে জাকির নায়িকের পবিত্র কুর'আনের ভুল অনুবাদ
ইউটিউব লিঙ্কঃ

https://www.youtube.com/watch?v=JMiRTw65hI8

খুবই মনোযোগ সহকারে ভিডিওটি দেখুন। এখানে এক মহিলা ডঃ জাকির নায়িককে প্রশ্ন করে। প্রশ্ন করার ধরণসহ আরও অনেক কিছু দেখে মনে হবে ভিডিওটিতে কে কি বলবে তা আগে ঠেকেই ঠিক করা। যাই হোক, আমরা সেসবে যাচ্ছিনা। মূল বিষয়ে ফিরে যাই। ডঃ জাকির নায়িক প্রশ্নের জবাবে আরবী ‘হূর’ অর্থের অনুবাদে দুই জন ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন। আসুন তাদের সম্পর্কে জানি

১. মুহাম্মদ আসাদ

পরিচয়ঃ জন্ম ১৯০০ সনে, বর্তমান পোলান্ডের লেমবার্গ শহরে, এক ইহুদী রাব্বী বা পুরোহীত পরিবারে। তাঁর স্ত্রী পোলা হামিদা আসাদকে নিয়ে প্রায় ২৬/২৭ বছর বাস করেছিলেন মরক্কোর তানজিয়ার্স শহরে। তিনি রাবেতা আলম ইসলামীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন কুরআনুল কারীমের একখানি সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ তরজমা করার জন্য। প্রথম দশ পারার তাফসীর প্রকাশিত হলে দেখা যায়, সে সম্পূর্ণ নিজের মত পোষণ করেন। তাছাড়া এই ব্যক্তি তো প্রকাশ্যে নারীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। নারীদের সাথে হাত মিলানো কোথায় আছে?? প্রশ্ন জাগে মুহাম্মদ আসাদ পরবর্তিতে যদি মুসলমান হয়েও থাকে, সে কোথায় তার এই অনুবাদটি পেয়েছিল??

২. আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী

সে একজন দাউদী বোহরা (শিয়াদের একটি উপগোত্র)। উইকিপিডিয়াতে লিখা আছে
Ali was born in Bombay, British India to a wealthy merchant family with a Dawoodi Bohra (sub-sect of Shia Islam) father.
লিঙ্কঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Abdullah_Yusuf_Ali

আজব লাগল জাকির নায়িক এর মত মানুষ এরকম দু’জন বিতর্কিত ব্যক্তি থেকে পবিত্র কুর’আনের আয়াতের ভুল অনুবাদ নিয়েছেন। ‘হুর’ শব্দটি সূরা দুখান (৫৪), সূরা আত্ব তূর (২০), সূরা রাহমান (৭২), সূরা আল ওয়াক্বিয়া (২২) এর এসেছে। এখন আসুন ‘হুর’ শব্দের সঠিক অনুবাদ জানি

১. তাফসীর ইবন কাসীর
** এরূপই ঘটবে, তাদেরকে সঙ্গিনী দিব।
[সূরা দুখান, আয়াত ৫৪, বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন]

** সূরা আত্ব তুর এর ২০ নং আয়াতের ব্যাখ্যা আছে
অর্থাৎ, আমি তাদের জন্য রাখব উত্তম সঙ্গিনী ও সুন্দরী স্ত্রী, যারা হবে আয়ত-লোচনা হুরদের মধ্যে।
[পৃঃ ১১৯, বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন]

** সূরা রাহমান এর ৭২ নং আয়াতের ব্যাখা পড়লে বুঝা যায়, এখানে হুর দ্বারা স্ত্রী লিঙ্গের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে
[পৃঃ ২৩৭, বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন]

** সূরা আল ওয়াক্বিয়া এর ২২ নং আয়াতের ব্যাখ্যা বলা আছে
কিশোরেরা নিজেদের সঙ্গে হূরদেরকেও নিয়ে যাবে। . . . . . সূরা রাহমানেও এই বিশেষণ তাফসীরসহ গত হয়েছে।
[পৃঃ ২৫৮, বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন]

সুতরাং তাফসীর ইবন কাসীরে ‘হূর’ দ্বারা শুধুমাত্র স্ত্রী লিঙ্গকে বুঝানো হয়েছে।


২. তাফসীর মাযহারী
** এইরূপই ঘটিবে, আমি উহাদিগকে সঙ্গিনী দান করিব।
ব্যাখ্যাঃ
আর আমি তাদেরকে পত্নীরূপে দান করব আয়তআখিনী সুন্দরী হুর
[সূরা দুখান, আয়াত ৫৪ এর ব্যাখ্যা]
বাকি আয়াতগুলোতেও ‘হূর’ বলতে শুধুমাত্র স্ত্রী লিঙ্গকেই বুঝানো হয়েছে।

এভাবে পবিত্র কুর’আনের সকল তাফসীর গ্রন্থ অধ্যায়ন করলে এটিই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মাণ হয়ে যে, ‘হূর’ শব্দের অর্থ সুন্দরী স্ত্রী/পত্নী অর্থাৎ স্ত্রী লিঙ্গকেই বুঝানো হয়েছে। এই বিষয়ে আরও জানার জন্য নিচের লিঙ্ক থেকে বইটি ডাউনলোড করে ১২৮-১৩৩ পৃঃ পর্যন্ত পড়ুন

http://www.mediafire.com/download/ah7f9oip47gsyqa/Jakir_nayeker_bhranto_motobad.pdf

পবিত্র কুর’আন এর গ্রহণযোগ্য প্রায় ৪৫টি তাফসীরগ্রন্থ আছে। এখন মনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেও প্রশ্ন জাগে ডঃ জাকির নায়িক জীবনেও একটি তাফসীর গ্রন্থ পড়ারও সুযোগ পান নি বা পড়েননি?? নাকি শুধুমাত্র এক প্রাক্তন ইহুদী ও শিয়ার অনুবাদ করা কুর’আন পড়েই মিডিয়াতে ফতওয়া দিতে শুরু করে দিয়েছেন?? এভাবে জনসম্মুখে পবিত্র কুর’আনের আয়াতের ভুল অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করার কারণ কি তার?? এখন দেখুন পবিত্র কুর’আনের ভুল ব্যাখ্যাকারীর শাস্তি কত মারাত্মকঃ-


★ মনগড়া তাফসীর (কুর'আন এর ব্যাখ্যা) সম্পর্কে মিশকাত শারীফের কিতাবুল ইলম ২য় পরিচ্ছেদে আছেঃ

“যে ব্যক্তি কুর’আনের মনগড়া ব্যাখ্যায় কিছু বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজ ঠিকানা বানিয়ে নেয়”
মিশকাত শারীফের ঐ একই জায়গায় আরও উল্লিখিত আছে :-
“যে ব্যক্তি কুর’আনের ব্যাখ্যায় মনগড়া কিছু বলে এবং তা যদি সঠিকও হয়, তবুও সে ভুল করেছে বলে সাব্যস্ত হবে।”

★  যে ব্যক্তি মনগড়া কুরআনের তাফসীর করল সে জাহান্নামে আপন স্থান বানিয়ে নিল।
[তিরমিযি শরিফ-২৯৫১]

Courtesy : Islami Chatrasena

সাহাবায়ে কেরামগনের মাযার সমুহ :

ছাহাবা হযরত মাজেদ বিন গাদুবা (র:) এর রওজা মোবারকঃ








































Grave of Sahaba Shaddad ibn Aws (RA)








Abu Huraira (RA)















 Grave of Al Dirar Bin Azwar (RA)







 Grave of Jafar Ibn Abi Talib (RA), the Sahaba who is the Brother of Imam Ali (RA), and who was martyred in the battlefiled.









 Grave of Zaid Ibn Haritha (RA), The Freed Slave of the Messenger of God (PBUH), and one of the 10 given the glad tidings of Jannah.












Grave of Muath ibn Jabal (RA), the scholar of the Ummah















Hazrat Umme Salma (RA)















Hazrat Hamza (RA)









Jannatul Baqi






The battlefield of Badr 







Jannatul Muallh








 Outside View of Maqam of Zaynab (AS)








Qabr e Syeda Zainab (AS)








 Mazar Sharif Hazrat Ruqayyah bint Imam Hussain






 Hazart Zainub bin Ali (RA)







Ummul Mumineen Hazarat Hafsa (RA), the daughter of Umar Al Farooq (RA)














 Mazar Sharif Hazrat Sakina bint Imam Hussain







 Imam Hussain's (RA) blessed head place







 Shuhada-e-Karbala Imam Hussain, the Grandson the Prophet (pbuh), the son of Ali and Fatima (Allah be please with them)






 Khatoon e Janaat Fatima (AS) Imam Hassan,Zain ul Abidden,Mohd Baqir,Jaffar al Sadiq (AS)






grave of Imam Ali (RA), the cousin and son in law of the Prophet (pbuh), the lion of Allah!







 Salman Farsi (RA)







 Abu Darda (RA)







 Mazar of Hazrat Abu Dhar Ghaffari (RA)







Hazrat Abdullah ibn Ja'far (RA)






 Hazrat Abu Abdullah Jabir Ansari (RA)






Abu Obaida Mosque






 Hazarat Abu Obaida ibn Al Jarrah (RA) 






 Hazarat Abbass (RA), the uncle of the Prophet (pbuh)






 Abdur Rahman Ibn Auf (RA)






Outside view of Grave of Bilal (RA)






Grave of Bilal (RA)







Grave of Bilal (RA)